জহির খান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
জহির খান
ব্যক্তিগত তথ্য
উৎস: [{{{source}}}], {{{date}}} {{{year}}}

মহারাষ্ট্রের আহমেদনগর জেলার শ্রীরামপুর শহরে ৭ অক্টোবর, ১৯৭৮ ইং তারিখে জন্মগ্রহণকারী জহির খান ২০০০ সাল থেকে ভারতীয় জাতীয় ক্রিকেট দল বা টিম ইণ্ডিয়ার অন্যতম সদস্য।


পরিচ্ছেদসমূহ

খেলোয়াড়ী জীবন [সম্পাদনা]

ভারতীয় বোলিং আক্রমণের পুরোধা হিসেবে জহির খান উইকেটের দু’পাশেই বলকে সুইয়িং করাতে পারেন এবং টেস্ট ক্রিকেটে একাদশ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে সর্বোচ্চ রান গড়ে বিশ্বরেকর্ডের অধিকারী। ২০০০ সালের শুরুতেই ভারতীয় পেস আক্রমণে নেতৃত্ব দেন তিনি। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরীতে আক্রান্ত হন ২০০৩ সালে এবং ২০০৪ সালে এর জন্য দল থেকে বের করে দেয়া হয়। এক বছর পর পুণরায় দলে আসলেও আবারো ২০০৫ সালের শেষ দিকে দল থেকে বিতাড়িত হন জহির। আভ্যন্তরীণ ক্রিকেট সাফল্যের বিচারে তাকে পুণরায় দলে ফিরিয়ে আনা হয়।[১] ব্যাঙ্গালোরের জাতীয় ক্রিকেট একাডেমীতে ২০০০ সালে ১ম মনোনীত হয়ে ঢাকায় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটান। ঐ বছরই তিনি নাইরোবীতে কেনিয়ার বিরুদ্ধে আইসিসি নকআউট ট্রফিতে এক দিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষিক্ত হন। ২০০৫ সালে শান্তা কুমারন শ্রীশান্থ এবং রুদ্র প্রতাপ সিং (আর.পি. সিং) তাদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটালে তারা ভারতীয় দলে নিয়মিত খেলোয়াড়ের তালিকাভূক্ত হন। ফলে, জহিরকে ১ম একাদশে নামতে কঠিন হয়ে পড়ে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বা বিসিসিআই জহিরকে বি-গ্রেড থেকে সি-গ্রেডে চুক্তিবদ্ধ করায়। অভ্যন্তরীণ ক্রিকেটে বারোদা’র পক্ষে নাম লেখালেও জহির খান ২০০৬-০৭ মৌসুমে মুম্বাইয়ের পক্ষে খেলেন। রঞ্জি ট্রফির ফাইনালে তিনি বাংলা’র বিরুদ্ধে ৯ উইকেট লাভ করেন। ২০০৬ সালে ওরচেস্টারসায়ার কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাবে বাইরের দেশের ২য় খেলোয়াড় হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার নাথান ব্রাকানের স্থলাভিষিক্ত হন। ঐ ক্লাবের খেলোয়াড় হিসেবে অভিষেক ম্যাচেই সমারসেটের বিরুদ্ধে ১০ উইকেট নিয়ে কৃতিত্বের দাবীদার হন। ২০০৬ সালের জুন ‍মাসে তিনি ১ম ইনিংসে এসেক্সের বিরুদ্ধে ১ম ৯ ব্যাটস্‌ম্যানকেই আউট (৯/১৩৮) করেন।

২০০৬ সালে জহির দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে পুণরায় টেস্ট ও একদিনের ক্রিকেটে ডাক পান বারোদা’র দলীয় সঙ্গী ইরফান পাঠানের অফ ফর্মের কারণে। ভালো খেলার দরুণ বোর্ড ২০০৭ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে ভারতীয় দলে অন্তর্ভূক্তি করে। তিনি ওয়াসিম আকরাম এবং চামিন্দা ভাসকে অনুসরণ করলেও তাদের মতো ততোটা সফলকাম হতে পারেননি। ২০০৮-০৯ মৌসুমে ব্যাঙ্গালোরে অনুষ্ঠিত ১ম টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন। ঐ সিরিজে জহির খানের অল রাউণ্ড নৈপুণ্য পরিলক্ষিত হয়। তিনি ৩য় ভারতীয় খেলোয়াড় হিসেবে (রুসি সুরতী এবং কপিল দেবের পর) ইনিংসে অর্ধ-শতক ও ৫ উইকেট নেন। এরপর থেকেই তিনি ভারতীয় দলের নিয়মিত ও অপরিহার্য্ বোলার হিসেবে খেলে চলছেন। এছাড়াও, তিনি টি-২০ বিশ্বকাপ, ২০০৯-এ আয়ারল্যাণ্ডের বিরুদ্ধে ১৯ রান দিয়ে ৪ উইকেট লাভ করেন ও ম্যান অব দ্য ম্যাচ পুরস্কার লাভ করেন।

টেস্ট ক্রিকেটে [সম্পাদনা]

জহির খান উইকেট পিছু ৩৩ রান দিয়ে ২৫০টি টেস্ট উইকেট নেন। ২০০২-২০০৩ মৌসুমের নিজের স্বর্ণালী সময়ে তিনি ১৬ খেলায় ৩০ রান গড়ে ৫৪ উইকেট দখল করেন। ২০০৩ সালের ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত ১ম টেস্টের ১ম ইনিংসে তিনি ১ম ৭ অস্ট্রেলীয় ব্যাটস্‌ম্যানের ৫ জনকেই আউট করেন (৫/৯৫)। ২য় ইনিংসের শুরুতেই আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ায় খেলা থেকে বিরত থাকেন। এডিলেডে ২য় টেস্টে খেলতে না পারলেও মেলবোর্ণে অনুষ্ঠিত ৩য় টেস্টে পুণরায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে দেশে ফিরে যেতে বাধ্য হন। ফলে ২০০৪ সালে পাকিস্তান সফরে ভারতের ১ম সিরিজ বিজয়ে অংশ নিতে পারেননি তিনি।

আইসিসি রাংকিংয়ে অবস্থান [সম্পাদনা]

দু’দিকেই সুইয়িংয়ের মাধ্যমে উইকেট লাভে দক্ষ জহির খান জানুয়ারী ৪, ২০১১ পর্যন্ত ৪র্থ স্থানে অবস্থান করছেন।[২]

৭৫ রান করে বিশ্বরেকর্ড(!) [সম্পাদনা]

১১নং ব্যাটস্‌ম্যান হিসেবে জহির খান ৭৫ রান করে বিশ্বরেকর্ড করেন। ২০০৪ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে তিনি এ রেকর্ড গড়েন। এছাড়াও, শচীন তেণ্ডুলকারের সাথে ১৩৩ রানের পার্টনারশীপ গড়ে ১০ম উইকেট জুটিতে ভারতীয় রেকর্ড গড়েন। ১০নং অবস্থানে থেকে ১৯.৪৬ রানের গড়ও একদিবসীয় ক্রিকেটে সর্বোচ্চ গড়।[৩]


উইকেট শিকারে মাইলফলক [সম্পাদনা]

জহির খান ৩ জানুয়ারী, ২০১১ পর্যন্ত দ. আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত ৩য় টেস্টের ১ম ইনিংসে জ্যাক ক্যালিসকে কট আউটের মাধ্যমে ২৭০টি উইকেট লাভ করেন। তন্মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার বেন হিলেফেনাসকে ইয়র্কারের সাহায্যে বোল্ড করে ২৫০তম টেস্ট উইকেট অর্জন করেন। এতগুলো উইকেট শিকার করে তিনি ৫ম ভারতীয় বোলারের খাতায় নাম লেখান।

উইকেট আউট করার বিবরণ তারিখ টেস্ট ম্যাচ নং
১ম মেহরাব হোসেন, বাংলাদেশকে কটআউটের মাধ্যমে ১০ নভেম্বর, ২০০০ ১৫১২
৫০তম কী, ইংল্যাণ্ড কটআউটের মাধ্যমে ২২ আগস্ট, ২০০২ ১৬১৩
১০০তম মঞ্জুরুল ইসলাম রানা, বাংলাদেশকে এলবিডব্লিউ করে ১৭ ডিসেম্বর, ২০০৪ ১৭২৭
১৫০তম মাইকেল ভন, ইংল্যাণ্ডকে কটআউটের মাধ্যমে ২৭ জুলাই, ২০০৭ ১৮৪১
২০০তম ম্যাকিন্টোস, নিউজিল্যাণ্ডকে কটআউটের মাধ্যমে ১৮ মার্চ, ২০০৯ ১৯১৫
২৫০তম বেন হিলফেনহস, অস্ট্রেলিয়াকে বোল্ড করে ১ অক্টোবর, ২০১০ ১৯৭২

একদিনের ক্রিকেটে [সম্পাদনা]

জহির খান ২৯ রান গড়ে ৩১৮টি উইকেট দখল করেন। জাভাগল শ্রীনাথ এবং আশীষ নেহরা’র সাথে তিনিও বিশ্বকাপ ক্রিকেট, ২০০৩-এ ভারতীয় ক্রিকেট দলকে ফাইনালে উঠাতে সাহায্য করেন। ১১ খেলায় ২০ রান গড়ে ১৮ উইকেট নিয়ে তিনি ৪র্থ সর্বোচ্চ উইকেট শিকার করেন।[৪]


তথ্য সূত্র [সম্পাদনা]

  1. Premachandran, Dileep. "Zaheer Khan". Cricinfo. http://content-aus.cricinfo.com/ci/content/player/30102.html. Retrieved 2007-02-14.
  2. http://www.espncricinfo.com/rankings/content/page/211270.html
  3. "http://content-aus.cricinfo.com/ci/content/story/221606.html". Content-aus.cricinfo.com. http://content-aus.cricinfo.com/ci/content/story/221606.html. Retrieved 2010-12-20.
  4. ICC Cricket World Cup, 2002/03 Bowling - Most Wickets". Cricinfo.com. 2008-06-17. http://www.cricinfo.com/link_to_database/ARCHIVE/WORLD_CUPS/WC2003/STATS/WC2003_ODI_BOWL_MOST_WKTS.html. Retrieved 2010-12-20.


বহিঃসংযোগ [সম্পাদনা]