চোখ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মানুষের চোখ

চোখ প্রাণীর আলোক-সংবেদনশীল অঙ্গ ও দর্শনেন্দ্রীয়। প্রাণিজগতের সবচেয়ে সরল চোখ কেবল আলোর উপস্থিতি বা অনুপস্থিতির পার্থক্য করতে পারে। উন্নত প্রাণীদের অপেক্ষাকৃত জটিল গঠনের চোখগুলো দিয়ে আকৃতি ও বর্ণ পৃথক করা যায়। অনেক প্রাণীর (এদের মধ্যে মানুষ অন্যতম) দুই চোখ একই তলে অবস্থিত এবং একটি মাত্র ত্রিমাত্রিক "দৃশ্য" গঠন করে। আবার অনেক প্রাণীর দুই চোখ দুইটি ভিন্ন তলে অবস্থিত ও দুইটি পৃথক দৃশ্য তৈরি করে (যেমন - খরগোশের চোখ)।


পরিচ্ছেদসমূহ

মানুষের চোখের বিভিন্ন অংশসমূহ [সম্পাদনা]

স্ক্লেরা (sclera) [সম্পাদনা]

এটা চেখের আচ্ছাদনকারী সাদা অংশ। এটা এবং ভিতরের তরল পদার্থগুলো (অ্যাকুয়াস হিউমার ও ভিট্রিয়াস হিউমার) মিলে চোখের সূক্ষ্ম অংশগুলোকে রক্ষা করে।

কর্নিয়া (cornea) [সম্পাদনা]

এটা গম্ভুজ আকারের স্বচ্ছ পর্দা যা চোখের সামনের অংশ ঢেকে রাখে। এটা স্বচ্ছ, কারণ এতে কোন রক্তজালিকা নেই। চোখ প্রতিস্থাপন (eye transplant) বলতে আসলে কর্নিয়ার প্রতিস্থাপন বুঝায়।

অ্যাকুয়াস হিউমার (aqueous humor) [সম্পাদনা]

এটা পানির মত তরল পদার্থ যা সিলিয়ারি বডি থেকে উৎপন্ন হয়। চোখের সামনের অংশ (লেন্স এবং কর্নিয়ার মধ্যবর্তী অংশ) এই তরলে পূর্ণ থাকে।

আইরিশ (iris) [সম্পাদনা]

এটা চেখের রঙিন অংশ যা অনেকটা আংটির মত। এটা বিভিন্ন রঙের হয়। যেমন- বাদামি, সবুজ, নীল ইত্যাদি। আলোর তীব্রতার উপর নির্ভর করে আইরিশ সংকোচিত বা প্রসারিত হয়। এতে পিউপিলের আকার পরিবর্তিত হয় এবং লেন্স ও রেটিনায় আপতিত আলোর পরিমাণ নিয়ন্ত্রিত হয়।

পিউপিল (pupil) [সম্পাদনা]

এটা হল আইরিশের মাঝের খোলা অংশ যেখান দিয়ে আলো লেন্সে প্রবেশ করে। এটার আকার আইরিশ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

লেন্স (lens) [সম্পাদনা]

রেটিনার উপর আলোক রশ্মি কেন্দ্রীভূত করে। এতে রক্ত সরবরাহ নেই। এর আকার সিলীয় পেশী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

ভিট্রিয়াস হিউমার (vitreous humor) [সম্পাদনা]

এটা জেলির মত পদার্থ যা চোখের বেশিরভাগ অংশ পূর্ণ করে রাখে (লেন্সের পিছন থেকে রেটিনা পর্যন্ত)।

কোরয়েড (choroid) [সম্পাদনা]

এই স্ক্লেরা ও রেটিনার মধ্যবর্তী রক্তজালিকার স্তর। এটা রেটিনাতে রক্ত সরবরাহ করে এবং রেটিনা হতে আগত অতিরিক্ত আলো শোষণ করে নেয়।

রেটিনা (retina) [সম্পাদনা]

এটা হল চোখের আলোক সংবেদী অংশ। এটা আলোকরশ্মিকে তড়িৎ সংকেতে (electrical signal) রূপান্তর করে দর্শন স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কে পাঠায়। রেটিনায় দুই ধরনের আলোকসংবেদী কোষ (photoreceptor) থাকে। এরা হল – রডকোষ (rod) এবং কোন্‌কোষ (cone)। রডকোষ আবছা/মৃদু আলোতে দেখতে সাহা্য্য করে, আর কোন্‌কোষ স্বভাবিক/উজ্জ্বল আলোতে দেখতে সাহায্য করে। কোন্‌কোষ থাকার জন্য আমরা বিভিন্ন রং চিনতে পারি এবং তাদের মধ্যে পার্থক্য করতে পারি। অর্থাৎ আমাদের রঙিন বস্তু দর্শনে কোন্‌কোষগুলো দায়ী।

ফোবিয়া (fovea) [সম্পাদনা]

রেটিনার মাঝামাঝি এবং অন্ধবিন্দুর কাছাকাছি একটি খাঁজ দেখা যায়। এটাই ফোবিয়া। এখানে প্রচুর কোন্‌কোষ থাকে কিন্তু কোন রডকোষ থাকে না। আমাদের দর্শনানুভূতির বেশিরভগই এর উপর নির্ভর করে।

অন্ধবিন্দু (optic disk/ blind spot) [সম্পাদনা]

এটি দর্শন স্নায়ুর প্রান্তবিন্দু। এখানে কোন আলোকসংবেদী কোষ (রড ও কোন্) থাকে না।

দর্শন স্নায়ু (optic nerve) [সম্পাদনা]

এটা মানুষের দ্বিতীয় করোটিক স্নায়ু (cranial nerve)। এর মাধ্যমে চোখ থেকে আলোকসংবেদ মস্তিষ্কে পৌছায়।


ইন্দ্রিয় তন্ত্র - দর্শনেন্দ্রিয় - চোখ - সম্পাদনা
চক্ষুগোলকের আবরক: কনজাংটিভা | স্‌ক্লেরা | কর্নিয়া | শ্লেমের নালিকা | ট্রাবেকিউলার মেশওয়ার্ক 

ইউভেয়া: কোরয়েড | আইরিস | পিউপিল | সিলিয়ারি বডি 

রেটিনা : ম্যাকুলা | ফোভিয়া | অন্ধবিন্দু 

সম্মুখ অংশ (সম্মুখ প্রকোষ্ঠ, অ্যাকুয়াস হিউমার, পশ্চাৎ প্রকোষ্ঠ, লেন্স) | পশ্চাৎ অংশ (ভিট্রেয়াস হিউমার)