গণচীন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(চীনের সামরিক বাহিনী থেকে ঘুরে এসেছে)
এই নিবন্ধটি গণপ্রজাতন্ত্রী চীন সম্পর্কিত। প্রজাতন্ত্রী চীন সম্পর্কিত নিবন্ধের জন্য, দেখুন তাইওয়ান
中华人民共和国[a]
Zhōnghuá Rénmín Gònghéguó
গণপ্রজাতন্ত্রী চীন
পতাকা জাতীয় প্রতীক
জাতীয় সঙ্গীত
《义勇军进行曲》
স্বেচ্ছাসেবকদের কুচকাওয়াজ

চীনের শাসনাধীন অঞ্চল গাঢ় লাল;চীনের দাবীকৃত কিন্তু শাসন-বহির্ভূত অঞ্চল হালকা লাল
চীনের শাসনাধীন অঞ্চল গাঢ় লাল;
চীনের দাবীকৃত কিন্তু শাসন-বহির্ভূত অঞ্চল হালকা লাল
রাজধানী বেইজিং
৩৯°৫৫′ উত্তর ১১৬°২৩′ পূর্ব / ৩৯.৯১৭° উত্তর ১১৬.৩৮৩° পূর্ব / 39.917; 116.383
বৃহত্তম শহর সাংহাই
রাষ্ট্রীয় ভাষাসমূহ প্রমাণ ম্যান্ডারিন [১]
স্বীকৃত আঞ্চলিক ভাষাসমূহ দেখুন চীনের ভাষা
Official scripts সরলীকৃত চীনা[১]
জাতিগত গোষ্ঠী  ৯২% হান; ৫৫ টি স্বীকৃত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়
জাতীয়তাসূচক বিশেষণ চীনা
সরকার একদলীয় সাম্যবাদী শাসনব্যবস্থা
 -  রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং
 -  প্রধানমন্ত্রী Wen Jiabao
 -  NPCSC Chairman Wu Bangguo
 -  CPPCC Chairman Jia Qinglin
আইন-সভা জাতীয় গণ পরিষদ
প্রতিস্থাপন
 -  গণপ্রজাতন্ত্রী চীন ঘোষণা. ১লা অক্টোবর ১৯৪৯ 
আয়তন
 -  মোট ৯ বর্গ কিমি[c] or 9,671,018 km2[c](3rd/4th)
৩৭,০৪,৪২৭ বর্গ মাইল 
 -  জলভাগ (%) 2.8[d]
জনসংখ্যা
 -  2010 আনুমানিক 1,338,612,968[২] (1st)
 -  2000 আদমশুমারি 1,242,612,226 
 -  ঘনত্ব 139.6/বর্গ কিলোমিটার 
৩৬৩.৩/বর্গ মাইল
জিডিপি (পিপিপি) 2010 আনুমানিক
 -  মোট $9,711 trillion[৩] (2nd)
 -  মাথাপিছু $7.239[৩] (99th)
জিডিপি (নামমাত্র) 2010 আনুমানিক
 -  মোট $5,296 trillion[৩] (3rd)
 -  মাথাপিছু $3,999[৩] (98th)
জিনি (2007) 47.0[৪] 
এইচডিআই (2007) বৃদ্ধি 0.772[৫] (medium) (91st)
মুদ্রা Chinese yuan (renminbi) (¥) (CNY)
সময় স্থান China Standard Time (ইউটিসি+8)
তারিখ বিন্যাস yyyy-mm-dd
or yyyymd
(CE; CE-1949)
ট্রাফিকের দিক right, except for Hong Kong & Macau
ইন্টারনেট টিএলডি .cn[d] .中國[৬] .中国
কলিং কোড +86[d]
a. ^ See also Names of China.

b. ^ Simple characterizations of the political structure since the 1980s are no longer possible.[৭]

c. ^ 9,598,086 km2 excludes all disputed territories.
9,640,821 km2 Includes PRC-administered area (Aksai Chin and Trans-Karakoram Tract, both territories claimed by India), Taiwan is not included.[৮]

d. ^ Information for mainland China only. Hong Kong, Macau and territories under the jurisdiction of the Republic of China, commonly known as Taiwan, are excluded.

গণপ্রজাতন্ত্রী চীন (চৈনিক: 中国 অর্থাৎ "মধ্যদেশ", ম্যান্ডারিন উচ্চারণে: চুংকুও) পূর্ব এশিয়ার একটি রাষ্ট্র। ১৩০ কোটি জনসংখ্যার অধিকারী চীন পৃথিবীর সবচেয়ে জনবহুল এবং আয়তনের দিক থেকে এশিয়ার সর্ববৃহৎ রাষ্ট্র। এর আয়তন প্রায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমান। পৃথিবীর ৩য় বৃহত্তম রাষ্ট্র চীনের উত্তরে রয়েছে মঙ্গোলিয়া; উত্তর পূর্বে রাশিয়াউত্তর কোরিয়া; পূর্বে চীন সাগর; দক্ষিণে ভিয়েতনাম, লাওস, মায়ানমার, ভারত, ভূটান, নেপাল; দক্ষিণ পশ্চিমে পাকিস্তান; পশ্চিমে আফগানিস্তান, তাজিকিস্তান, কির্গিজিস্তানকাজাকিস্তান। এই ১৪টি দেশ বাদে চীনের পূর্বে পীত সাগরের পাশে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়াজাপান; দক্ষিণ চীন সাগরের উল্টো দিকে আছে ফিলিপাইন। চীনারা তাদের দেশকে চুংকুও নামে ডাকে, যার অর্থ "মধ্যদেশ" বা "মধ্যবর্তী রাজ্য"। "চীন" নামটি বিদেশীদের দেওয়া; এটি সম্ভবত খ্রিস্টপূর্ব ৩য় শতকের ছিন রাজবংশের নামের বিকৃত রূপ।

চীনে বিশ্বের জনসংখ্যার এক-পঞ্চমাংশের বাস। এদের ৯০%-এরও বেশি হল চৈনিক হান জাতির লোক। হান জাতি বাদে চীনে আরও ৫৫টি সংখ্যালঘু জাতির বাস। এদের মধ্যে আছে তিব্বতি, মঙ্গোল, উইঘুর, ছুয়াং, মিয়াও, য়ি এবং আরও অনেক ছোট ছোট জাতি। হান জাতির লোকদের মধ্যেও অঞ্চলভেদে ভাষাগত পার্থক্য দেখা যায়। যদিও শিক্ষাব্যবস্থায় ও গণমাধ্যমে পুতোংহুয়া নামের একটি সাধারণ ভাষা ব্যবহার করা হয়, আঞ্চলিক কথ্য ভাষাগুলি প্রায়শই পরস্পর বোধগম্য নয়। তবে চিত্রলিপিভিত্তিক লিখন পদ্ধতি ব্যবহার করে বলে সব চীনা উপভাষাই একই ভাবে লেখা যায়; এর ফলে গোটা চীন জুড়ে যোগাযোগ সহজ হয়েছে।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

প্রাচীনকালে চীন ছিল পূর্ব এশিয়ার আধিপত্য বিস্তারকারী সভ্যতা। এ অঞ্চলের অন্যান্য সভ্যতাগুলি, যেমন- জাপানি, কোরীয়, তিব্বতি, ভিয়েতনামীয়, এদের সবাইকে চীন প্রভাবিত করেছিল। তারা চীনের শিল্পকলা, খাদ্য, বস্তুসংস্কৃতি, দর্শন, সরকার ব্যবস্থা, প্রযুক্তি এবং লিখন পদ্ধতি গ্রহণ ও অনুসরণ করত। বহু শতাব্দী ধরে, বিশেষ করে ৭ম শতাব্দী থেকে ১৪শ শতাব্দী পর্যন্ত চীন ছিল বিশ্বের সবচেয়ে অগ্রসর সভ্যতা। কাগজ, ছাপাখানা, বারুদ, চীনামাটি, রেশম এবং দিকনির্ণয়ী কম্পাস সবই চীনে প্রথম উদ্ভাবিত হয় এবং সেখান থেকে বিশ্বের অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ে।

ইউরোপীয় শক্তিগুলি পূর্ব এশিয়ায় আগমন করলে চীনের রাজনৈতিক শক্তি বিপদাপন্ন হয়ে পড়ে। চীনের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের একটি ক্ষুদ্র প্রশাসনিক অঞ্চল মাকাও মধ্য-১৬শ শতকে পর্তুগিজ নিয়ন্ত্রণে এবং কাছেই অবস্থিত হংকং ১৮৪০-এর দশকে ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণে আসে। ১৯শ শতকে আভ্যন্তরীণ বিপ্লব এবং বিদেশী হস্তক্ষেপের ফলে চীনের শেষ রাজবংশ কিং রাজবংশ দুর্বল হয়ে পড়ে। ১৯১১ সালে চীনা জাতীয়তাবাদীরা শেষ পর্যন্ত এই রাজতন্ত্রের পতন ঘটায়। পরবর্তী বেশ কিছু দশক ধরে একাধিক সামরিক নেতার অন্তর্কোন্দল, জাপানি আক্রমণ, এবং সাম্যবাদী ও কুওমিনতাঙের জাতীয়তাবাদী সরকারের মধ্যকার গৃহযুদ্ধ দেশটিকে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এর আগে ১৯২৮ সালে জাতীয়তাবাদীরা প্রজাতান্ত্রিক চীন প্রতিষ্ঠা করে।

১৯৪৯ সালে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি গৃহযুদ্ধে জয়লাভ করে এবং চীনের মূল ভূখণ্ডে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে। কুওমিনতাঙেরা দ্বীপ প্রদেশ তাইওয়ানে পালিয়ে যায় এবং সেখানে একটি জাতীয়তাবাদী সরকার গঠন করে। জাতীয়তাবাদী সরকারটি তাইওয়ান ও পার্শ্ববর্তী কিছু দ্বীপ নিয়ন্ত্রণ করলেও প্রাথমিকভাবে এটিই বহির্বিশ্বে সমগ্র চীনের প্রকৃত সরকার হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছিল। তবে বর্তমানে বেশির ভাগ দেশ মূল ভূখণ্ডের গণপ্রজাতন্ত্রী চীন সরকারকেই চীনের প্রকৃত সরকার হিসেবে গণ্য করে।

১৯৪৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর চীনের কমিউনিস্ট সরকার কৃষি ও শিল্পব্যবস্থাকে রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনার অধীনে নিয়ে আসে। ১৯৭০-এর দশকের শেষ থেকে সরকার অবশ্য অর্থনৈতিক সংস্কার সাধন করে যাতে বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়। ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকের আরও সংস্কারের ফলে চীনা অর্থনীতি ১৯৮০ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত বছরে ১০% হারে বৃদ্ধি পায়। ফলে ২১শ শতকের শুরুতে এসে চীনা অর্থনীতি বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়।

১৯৯৭ সালে চীন ব্রিটেনের কাছ থেকে হংকং এর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায়, তবে অঞ্চলটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ স্বায়ত্তশাসন বজায় রেখেছে। ১৯৭০-এর দশকের শেষে এসে পর্তুগাল মাকাওকে চীনের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং ১৯৯৯ সালে অঞ্চলটি চীনের কাছে হস্তান্তর করে; মাকাওকেও বিশেষ স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের মর্যাদা দেওয়া হয়।

সরকার[সম্পাদনা]

চীনের রাষ্ট্রীয় পরিষদ অর্থাত্ কেন্দ্রীয় গণ-সরকার দেশের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক সংস্থা । রাষ্ট্রীয় পরিষদ চীনের জাতীয় গণ কংগ্রেস ও তার স্ট্যান্ডিং কমিটির প্রনয়ন করা আইন ও গৃহিত প্রস্তাবগুলো কার্যকরী করে , জাতীয় গণ কংগ্রেস ও তার স্ট্যান্ডিং কমিটির অর্পিত দায়িত্ব পালন করে এবং তার কাছে কার্যবিবরণী দেয় । রাষ্ট্রীয় পরিষদের দায়িত্ব ও ক্ষমতার আওতার মধ্যে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার , প্রশাসনিক আইনবিধি প্রনয়নের আর সিদ্ধান্ত ও নির্দেশ দেয়ার অধিকার আছে । রাষ্ট্রীয় পরিষদ প্রধানমন্ত্রী, উপপ্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রীয় কাউনসিলার , বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী , বিভিন্ন কমিটির চেয়ারম্যান , মহা নিরীক্ষক ও মহাসচিব নিয়ে গঠিত । বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন ওয়েন চিয়া পাও । বর্তমানে চীনের রাষ্ট্রীয় পরিষদের অধীনে মোট ২৮টি মন্ত্রনালয় পর্যায়ের বিভাগ আছে , এগুলো হলোঃ পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় , প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয় , জাতীয় উন্নয়ন ও সংস্কার কমিশন , শিক্ষা মন্ত্রনালয় , বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রনালয় , প্রতিরক্ষা বিষয়ক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিদ্যাগত শিল্প কমিশন , জাতীয় সংখ্যালঘু জাতি বিষয়ক কমিশন , গণ-নিরাপত্তা মন্ত্রনালয় , জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রনালয় , অভিশংসক বিভাগ , গণ-কল্যান মন্ত্রনালয় , অর্থ মন্ত্রনালয় ,কর্মচারী ব্যবস্থাপনা মন্ত্রনালয় , শ্রম ও সামাজিক নিশ্চয়তাবিধান মন্ত্রনালয় , রেল মন্ত্রনালয় , যানবাহন মন্ত্রনালয় , রাষ্ট্রীয় ভূমি সম্পদ মন্ত্রনালয় , পূর্ত মন্ত্রনালয় , তথ্য শিল্প মন্ত্রনালয় , জল প্রকল্প মন্ত্রনালয় , সংস্কৃতি মন্ত্রনালয় , স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় , কৃষি মন্ত্রনালয় , বানিজ্য মন্ত্রনালয় , জাতীয় লোকসংখ্যা ও পরিবার-পরিকল্পনা কমিশন , চীনা গন ব্যাংক ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর ।[৯]

পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়[সম্পাদনা]

পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় হলো রাষ্ট্রীয় পরিষদের অধীনে দেশের বৈদেশিক নীতি কার্যকরী করা আর দৈনন্দিন পররাষ্ট্র বিষয়ক কাজকর্ম চালানোর একটি কার্যনির্বাহী বিভাগ । পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের প্রধান দায়িত্ব হলো দেশ ও সরকারের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র বিষয়ক কাজকর্ম পরিচালনা করা , এ সব কাজের মধ্যে আছেঃ দেশের বৈদেশিক নীতি ও সিদ্ধান্ত ঘোষনা করা , কুটনৈতিক দলিল ও বিবৃতি প্রকাশ করা , কুটনৈতিক আলোচনা- বৈঠক অনুষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের সংগে যোগাযোগ করা , চুক্তিসহ বিভিন্ন পররাষ্ট্র দলিলের স্বাক্ষর করা , জাতি সংঘের ও বিভিন্ন দেশের সরকারের মধ্যে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মসূচীতে অংশ নেয়া , বিদেশে চীনের দূতাবাস , কনসুলেট ও প্রতিনিধি সংস্থার প্রতিষ্ঠা ও বিদেশে মোতায়েন চীনা কর্মীদের পরিচালনা করা , রাষ্ট্রীয় পরিষদের বিভিন্ন বিভাগের পররাষ্ট্র বিষয়ক সংস্থা আর বিভিন্ন প্রদেশ , স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল ও কেন্দ্রশাসিত মহানগরের পররাষ্ট্র বিষয়ক কাজকর্ম পরিচালনা করা , নির্দেশ দেয়া , সংগঠন ও সমন্বয়ের কাজ করা আর পররাষ্ট্র বিষয়ক কাজে নিযুক্ত ক্যাডারদের প্রশিক্ষণ দেয়া ও পরিচালনা করা । চীনের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হচ্ছেন লি চাও সিন ।[৯]

জাতীয় উন্নয়ন ও সংস্কার কমিশন[সম্পাদনা]

এই কমিশনের প্রধান দায়িত্ব হলো জাতীয় আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের রণনীতি , দীর্ঘমেয়াদী ও মাঝারী মেয়াদের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বার্ষিক পরিকল্পনা তৈরী ও বাস্তবায়ন, দেশবিদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও উন্নয়ন পরিস্থিতি গবেষনা ও বিশ্লেষন করে সামষ্টিক অর্থনীতি নিয়ন্ত্রন সম্বন্ধে সতর্কতাবাণী দেয়া , জাতীয় অর্থনীতির নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা পর্যালোচনা করে সামগ্রিক নিয়ন্ত্রনের নীতি ও প্রস্তাব পেশ করা , অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের সমন্বয় সাধন করা , বড় বড় নির্মাণ প্রকল্প ও শ্রম শক্তির বিন্যাস করা , দেশের গঠনকাজে আর্থিক বরাদ্দের ব্যবস্থা করা , বিদেশ থেকে পাওয়া ঋণের অর্থের ব্যবহার সম্বন্ধে নির্দেশ দেয়া ও তত্ত্বাবধান করা , বিশেষ ঋণের ব্যবহার সম্পর্কে নির্দেশ দেয়া ও তত্ত্বাবধান করা , বেসরকারী অর্থ অস্থাবর প্রকল্পগুলোতে বিনিয়োগ করতে উত্সাহ দেয়া , বিদেশী অর্থ কাজে লাগানো ও বিদেশে অর্থবিবিয়োগের রণনৈতিক লক্ষ্য ও নীতি গবেষনা করা , রাষ্ট্রীয় অর্থবরাদ্দে নির্মিত প্রকল্প, প্রধান নির্মান প্রকল্প , বিদেশী অর্থবিনিয়োগে নির্মিত প্রকল্প , বিদেশী সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প আর বিপুল পরিমান বিদেশী মুদ্রা দিয়ে অর্থবিনিয়োগের প্রকল্প নির্ধারণ করা , জাতীয় আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন , অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সংস্কার আর উন্মুক্ততা সংক্রান্ত প্রশাসনিক বিধি ও নিয়ম প্রনয়ন করা এবং সংশ্লিষ্ট আইনবিধি , প্রশাসনিক বিধির প্রনয়ন ও কার্যকরীকরণে অংশ নেয়া ইত্যাদি । জাতীয় উন্নয়ন ও সংস্কার কমিশনের বর্তমান চেয়ারম্যান হচ্ছেন মা খাই ।[৯]

বানিজ্য মন্ত্রনালয়[সম্পাদনা]

বানিজ্য মন্ত্রনালয় ২০০৩ সালের মার্চ মাস আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় ।এই মন্ত্রনালয়ের প্রধান দায়িত্ব হলোঃ অভ্যন্তরীণ বানিজ্য ও আন্তর্জাতিক বানিজ্য আর আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার উন্নয়ন রণনীতি , কর্মসূচী ও নীতি প্রনয়ন করা , অভ্যন্তরীন বানিজ্য , বৈদেশিক বানিজ্য , আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বিদেশী ব্যবসায়ীদের অর্থবিনিয়োগ সংক্রান্ত আইনবিধি প্রনয়ন করা , অভ্যন্তরীণ বানিজ্যের উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরী করা , মুদ্রার সারকিউলেশন ব্যবস্থার সংস্কার গবেষনা করা , শহর ও পল্লী অঞ্চলের বাজার লালন ও প্রসারের ব্যবস্থা নেয়া , বাজার সুশৃঙখল করা , মুদ্রার সারকিউলেশন ব্যবস্থা উন্নত আর বাজারের একনায়কত্ব ও আঞ্চলিক অবরোধ ভাঙ্গা সংক্রান্ত নীতি প্রনয়ন করা , ঐক্যবদ্ধ,উন্মুক্ত , প্রতিদ্বন্দ্বীও সুশৃঙ্খল বাজার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা , বাজারে পন্যদ্রব্যের চাহিদা ও সরবরাহের অবস্থা বিশ্লেষণ ও তদন্ত করা , দামী পন্যদ্রব্যের বাজার নিয়ন্ত্রন আর প্র্রধান প্রধান উত্পাদন উপকরনের সরবরাহ নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা , আমদানী ও রপ্তানি পণ্যের পরিচালনা পদ্ধতি নির্ধারণ আর রপ্তানি পন্যের নামের তালিকা তৈরী করা , আমদানি ও রপ্তানি পণ্যের কোটা তৈরী করা , কোটার পরিমান স্থির করা আর অনুমোদন কার্ড বিলি করা । আমদানি ও রপ্তানি পন্যের কোটা সম্পর্কিত ঠিকাদারের নীতি প্রনয়ন করা , বৈদেশিক বানিজ্যে ডাম্পিং ও ভর্তুকির বিরোধিতা করা , নিশ্চয়তা ব্যবস্থা নেয়া আর সমতার ভিত্তিতে আমদানি ও রপ্তানি সংক্রান্ত অন্যান্য কাজে সমন্বয় সাধনের প্রয়াস চালানো , সমতার ভিত্তিতে আমদানি ও রপ্তানি চালানো সম্বন্ধে পূর্ব-সতর্কতা বাণী দেয়ার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা , শিল্প সংস্থার ক্ষতি সংক্রান্ত দতন্ত সংগঠন করা , চীনের পন্যদ্রব্যের বিরুদ্ধে বিদেশের ডাম্পিং , ভর্তুকি ও নিশ্চয়তা ব্যবস্থা করা।

রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক[সম্পাদনা]

গণপ্রজাতান্ত্রিক চিনের রাজনীতি একটি একদলীয় সমাজতান্ত্রিক প্রজাতান্ত্রিক কাঠামোয় সংঘটিত হয়। গণচীনের বর্তমান সংবিধানটি ১৯৫৪ সালে প্রথম গৃহীত হয় এবং এতে দেশের শাসনব্যবস্থা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। চীনের কমিউনিস্ট পার্টি দেশটির রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে। দেশের ৭ কোটিরও বেশি লোক কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য। ১৯৮০-র দশকের অর্থনৈতিক সংস্কারের পর থেকে চীনে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রভাব হ্রাস পেয়েছে এবং স্থানীয় সরকারের নেতাদের প্রতিপত্তি বৃদ্ধি পেয়েছে।

চীনের মৌলিক রাজনৈতিক ব্যবস্থাটি গণ কংগ্রেসব্যবস্থা নামে পরিচিত। গণকংগ্রেস ব্যবস্থা পাশ্চাত্য দেশগুলোর মত নির্বাহী, আইনপ্রণয়ন ও বিচার- এই তিন ক্ষমতা পৃথকীকরণ ব্যবস্থা নয়। চীনের সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় গণ কংগ্রেস চীনের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সর্বোচ্চ সংস্থা। গণ কংগ্রেসের স্থানীয় পর্যায়ের সদস্যরা জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন। গণকংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব চীনের গণ-আদালত নামের বিচার ব্যবস্থাকেও নিয়ন্ত্রণ করে।

পররাষ্ট্রনীতি[সম্পাদনা]

চীন অবিচলিতভাবে স্বাধীন আর স্বতন্ত্র শান্তিপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরন করে।এই নীতির মৌলিক লক্ষ্য হলো চীনের স্বাধীনতা,স্বার্বভৌমত্ব ও ভূভাগের অখন্ডতা রক্ষা করা, চীনের সংস্কার , উন্মুক্ততা আর আধুনিক গঠনকাজের জন্য একটি চমত্কার আন্তর্জাতিক পরিবেশ সৃষ্টি করা এবং বিশ্বশান্তি রক্ষা করা ও অভিন্ন উন্নয়ন তরান্বিত করা । [১০] এর প্রধান প্রধান বিষয় হলো :

  • শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত স্বাধীন ও স্বতন্ত্রের নীতি অনুসরণ করা, যে কোনও বড় দেশ বা দেশ-গোষ্ঠির সঙ্গে মিত্র না করা,অস্ত্রসজ্জার প্রতিযোগিতায় অংশ না নেওয়া,সামরিক সম্প্রসারন না করা।
  • আধিপত্যবাদের বিরোধিতা করা, বিশ্বশান্তি রক্ষা করা ,দেশ বড় হোক ছোট হক, শক্তিশালি হোক দুর্বল হোক, গরিব হোক ধনি হোক, সবাই আন্তর্জাতিক সমাজের একই মর্যাদাপ্রাপ্ত সদস্য ।রাষ্ট্রেরাষ্ট্রে পরামর্শের মাধ্যমে শান্তিপূর্নভাবে পরস্পরের দ্বন্দ্ব ও সংঘর্ষ নিস্পতি করা উচিত, বলপ্রয়োগ বা বলপ্রয়োগের দ্বারা হুমুকি প্রদর্শন করা উচিত নয়,যে কোনও ওজুহাতে অন্য দেশের অভ্যতরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করা উচিত নয় ।
  • সক্রিয়ভাবে ন্যায় ও যুক্তিযুক্ত আন্তর্জাতিক রাজনীতি আর অর্থনীতির নতুন শৃঙখলা প্রতিষ্ঠার কাজকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে । শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পঞ্চশীল নীতি আর অন্যান্য গণ-স্বীকৃত আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মানদন্ড আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতির নতুন শৃঙখলা প্রতিষ্ঠা করার ভিত্তি হওয়া উচিত।
  • পরস্পরের সার্বভৌমত্ব আর ভূভাগের অখন্ডতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন , পারস্পরিক অনাক্রমন, পরস্পরের অভ্যন্তরীন ব্যাপারে হস্তক্ষেপ না করা, সমতা আর পারস্পরিক উপকারিতা, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পঞ্চশীল নীতির ভিত্তিতে সকল দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা ও সম্প্রসারন করতে চীন ইচ্ছুক।
  • সার্বিকক্ষেত্রে বৈদেশিক উমুক্তদ্বার নীতি প্রচলন করে সমতা আর পারস্পরিক উপকারিতার নীতির ভিত্তিতে বিশ্বের সকল দেশ আর অঞ্চলের সঙ্গে ব্যাপকভাবে বানিজ্য আদানপ্রদান,অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহযোগিতা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি যোগাযোগ করবে এবং অভিন্ন সমৃদ্ধি তরান্বিত করবে ।
  • সক্রিয়ভাবে বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক তত্পরতা চালানো বিশ্বশান্তি আর অঞ্চলের স্থিতিশীলতা রক্ষা করার দৃঢ শক্তি ।

চীন-মার্কিন সম্পর্ক[সম্পাদনা]

১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিকসন চীন সফর করেন, চীন এবং মার্কিন যুক্তরাস্ট্র দুপক্ষ চীন -মার্কিন যুক্ত ইস্তাহার অর্থাত্সাংহাই ইস্তাহার প্রকাশ করে , এই ইস্তাহার বিশ বছর ধরে দুদেশের মধ্যকার বিচ্ছিন্ন পরিস্থিতির অবসান ঘটায় ।১৯৭৮ সালের ১৬ ডিসেম্বর চীন এবং যুক্ত রাষ্ট্র কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের যৌথ ইস্তাহার প্রকাশ করে। ১৯৭৯ সালের ১ জানুয়ারি চীন আর যুক্ত রাষ্ট্রের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রদূত পর্যায়ের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয় । ১৯৮২ সালের ১৭ আগস্ট চীন আর যুক্ত রাষ্ট্রের মধ্যে প্রকাশিত ১৭ আগষ্ট বিজ্ঞপ্তিতে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রি করার বিষয়টি সমাধানের কৌশল নির্ধারিত হয় । ১৯৮৪ সালের জানুযারি মাসে চীনের প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন । এপ্রিল মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগান চীন সফর করেন । ১৯৮৫ সালের জুলাই মাসে চীনের প্রেসিডেন্ট লি সিয়েননিয়েন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন । এটি চীনের কোনও রাষ্ট্রপ্রধানের প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফর ।১৯৯৮ সালের জানুয়ারি মাসে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী উইলিয়াম কয়েন চীন সফর করেন , চীন এবং যুক্ত রাষ্ট্রের মধ্যে সমুদ্রে সামরিক নিরাপত্তা সম্পর্কে আলাপ-আলোচনা জেরদার করা সংক্রান্ত দুদেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়ের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় । ২৫ মে চেয়ারম্যান চিয়াং জেমিন আর প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন প্রথমবারের মতো সরাসরি টেরিফোনের মাধ্যমে কথাবার্তা বলেছেন । তারা দক্ষিণ এশিয়ার পরিস্থিতি আর চীন-মার্কিন সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেছেন । ২০০২ সালে চীন-মার্কিন সম্পর্কের টানাপোড়ন সত্ত্বেও দুদেশের সম্পর্ক উন্নতি ও বিকাশের প্রবনতা বজায় ছিলো । ২১ থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট জিয়াং জেমিনের আমন্ত্রনে প্রেসিডেন্ট বুশ চীন কর্ম সফর করেন । দু দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা আবার সাক্ষাতে মিলিত হয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আর আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন , তারা সর্বসম্মতিক্রমে রাজি হয়েছেন যে , চীন-মার্কিন সংলাপ আর সহযোগিতা জোরদার করে সুষ্ঠুভাবে বিরোধ সমাধান করে মিলিতভাবে চীন-মার্কিন গঠনমূলক সহযোগিতা-সম্পর্ককে সামনে এগিযে নেওয়া হবে । প্রেসিডেন্ট চিয়াং জেমিন প্রেসিডেন্ট বুশের আমন্ত্রনে অক্টোবরে মেক্সিকোয় এশিয়া আর প্রশান্ত মহাসাগরিয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থার সম্মেলনে আংশ নেওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন । প্রেসিডেন্ট চিয়াং জেমিন প্রেসিডেন্ট বুশের কাছে চীন-মার্কিন সম্পর্ক উন্নয়নের ব্যপারে সুষ্ঠুভাবে তাইওয়ান সমস্যা সমাধানে জোর গুরুত্ব আরোপ করেছেন । প্রেসিডেন্ট বুশ আবার ঘোষনা করেন যে , মার্কিন যুক্ত রাষ্ট্র এক চীনের নীতি অনুসরন করবে এবং তিনটি চীন-মার্কিন যুক্ত ইস্তাহার মেনে চলবে । এটা মার্কিন সরকারের দীর্ঘকালের অনুসৃত নীতি, এর কোনও পরিবর্তন হয় না । [১১]

ভূগোল[সম্পাদনা]

অবস্থান ও সীমানা[সম্পাদনা]

চীন এশিয়া মহদেশের পূর্ব অঞ্চলে এবং প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত। চীনের স্থলভাগের আয়তন প্রায় ৯৬ লক্ষ বর্গকিলোমিটার। আয়তনের দিক থেকে চীন এশিয়ার বৃহত্তম দেশ এবং রাশিয়া ও কানাডার পর চীন বিশ্বে তৃতীয় বৃহত্তম দেশ। উত্তর-দক্ষিণে চীন মোহো অঞ্চলের উত্তরের হেইলুংচিয়াং নদীর কেন্দ্রস্থল অর্থাৎ ৫৩.৩০ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ থেকে দক্ষিণে নানসা দ্বীপপুঞ্জের চেনমু-আনসা অর্থাৎ ৪ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত। চীনের সর্বদক্ষিণ আর সর্বউত্তর প্রান্তের মধ্যকার দূরত্ব প্রায় ৫৫০০ কিলোমিটার। পূর্ব-পশ্চিমে চীন পূর্বের হেইলুংচিয়াং নদী আর উসুলিচিয়াং নদীর সঙ্গমস্থল অর্থাৎ ১৩৫.০৫ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমা থেকে পশ্চিমে পামির মালভূমি অর্থাৎ ৭৩.৪০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমা পর্যন্ত বিস্তৃত। দেশটির পূর্ব আর পশ্চিম প্রান্তের মধ্যকার দূরত্ব প্রায় ৫০০০ কিলোমিটার।

চীনের স্থলসীমার দৈর্ঘ্য প্রায় ২২,৮০০ কিলোমিটার। চীনের পূর্ব দিকে উত্তর কোরিয়া , উত্তর দিকে মঙ্গোলিয়া , উত্তর -পূর্ব দিকে রাশিয়া, উত্তর-পশ্চিম দিকে কাজাকিস্তান, কিরগিজস্তান, ও তাজিকিস্তান, পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ভারত, নেপাল, ও ভুটান, দক্ষিণ দিকে মিয়ানমার, লাওসভিয়েতনাম। পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, ফিলিপাইন, ব্রুনাই, মালয়েশিয়াইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে চীনের সমুদ্র সীমানা রয়েছে।

চীনের মূল ভূভাগের তটরেখা উত্তর দিকের ইয়ালুচিয়াং নদীর মোহনা থেকে দক্ষিণ দিকের কুয়াংসি স্বায়ত্ত্বশাসিত অঞ্চলের পেইলুন হো নদীর মোহনা পর্যন্ত বিস্তৃত; এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১৮ হাজার কিলোমিটার। চীনের উপকূলীয় অঞ্চলের ভূমিরূপ সমতল এবং এখানে বহু বিখ্যাত বন্দর অবস্থিত। এই বন্দরগুলির বেশির ভাগই সারা বছর বরফমুক্ত থাকে। চীনের নিকটে পোহাই সাগর, হুয়াংহাই সাগর, পূর্ব সাগর, নানহাই সাগর এবং তাইওয়ানের পূর্ব অঞ্চলের প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল সহ পাঁচটি সাগর রয়েছে । এগুলির মধ্যে পোহাই সাগর চীনের অভ্যন্তরীণ সাগর। তাইওয়ানের পূর্বদিকের প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল পূর্বদিকে জাপানের রিইউকিয়ু দ্বীপপুঞ্জের দক্ষিণ-পশ্চিমের সাখি সীমা দ্বীপপুঞ্জ থেকে দক্ষিণ দিকের বাস প্রণালী পর্যন্ত বিস্তৃত।

চীনের অভ্যন্তরীণ নদী আর সামুদ্রিক জলসীমা নিয়ে গঠিত সামুদ্রিক অঞ্চলের মোট আয়তন ৩ লক্ষ ৮০ হাজার বর্গকিলোমিটার। চীনের সামুদ্রিক অঞ্চলে ৫০০০-এরও বেশি দ্বীপ রয়েছে। এগুলির মোট আয়তন প্রায় ৮০ হাজার বর্গকিলোমিটার। দ্বীপগুলির তটরেখার দৈর্ঘ্য প্রায় ১৪ হাজার কিলোমিটার। দ্বীপগুলির মধ্যে বৃহত্তম তাইওয়ান দ্বীপের আয়তন ৩৬ হাজার বর্গকিলোমিটার। দ্বিতীয় বৃহত্তম হাইনান দ্বীপের আয়তন ৩৪ হজার বর্গকিলোমিটার। তাইওয়ান দ্বীপের উত্তর-পূর্ব সমুদ্রে অবস্থিত তিয়াও ইয়ু তাও দ্বীপ ও ছিওয়েই ইয়ু দ্বীপ চীনের সবচেয়ে পূর্বাঞ্চলীয় দ্বীপ। দক্ষিণ চীন সমুদ্রে ছড়িয়ে থাকা দ্বীপ ও প্রবাল-প্রাচীরগুলিকে নানহাই দ্বীপপুঞ্জ নামে ডাকা হয়। এটি চীনের সবচেয়ে দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপপুঞ্জ। অবস্থান অনুযায়ী এগুলোকে তুঙসা দ্বীপপুঞ্জ, সিসা দ্বীপপুঞ্জ, চুংসা দ্বীপপুঞ্জ এবং নানসা দ্বীপপুঞ্জ নামে ডাকা হয়।

চীনের মূল অঞ্চলটি তিনটি নদীবিধৌত অববাহিকার কৃষিভিত্তিক অঞ্চল নিয়ে গঠিত। এই তিনটি নদী হল উত্তরের হুয়াং হে, মধ্য চীনের ইয়াং ছি (বা "ছাং চিয়াং"), এবং দক্ষিণের মুক্তা নদী (বা "পার্ল নদী", "চু চিয়াং")। দেশটির ভূপ্রকৃতি বিচিত্র। এখানে আছে বিস্তীর্ণ মরুভূমি, সুউচ্চ পর্বত ও মালভূমি, এবং প্রশস্ত সমভূমি। দেশের উত্তর অঞ্চলে অবস্থিত বেইজিং বা পেইচিং চীনের রাজধানী এবং দেশের সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ কেন্দ্র। ইয়াংছে নদীর কাছে অবস্থিত সাংহাই শহর সবচেয়ে জনবহুল শহর, বৃহত্তম শিল্প ও বাণিজ্য নগরী এবং চীনের প্রধান বন্দর।

জলবায়ু[সম্পাদনা]

চীন হলো পাহাড় বহুল একটি দেশ ।এই সব পাহাড়ী অঞ্চলের আয়তন দেশের মোট আয়তনের দুই-তৃতীয়াংশ । এখানে যে পাহাড়ী অঞ্চলের কথা বলা হলো তার মধ্যে পাহাড়ী এলাকা ,ক্ষুদ্রপাহাড় আর মালভূমি অন্তর্ভূক্ত। সারা দেশেরনানা ধরনের ভৌগলিক অবস্থার মধ্যে ৩৩শতাংশ পাহাড়ী এলাকা ,২৬শতাংশ মালভূমি ,১৯ শতাংশ বেসিন,১২ শতাংশ সমতলভূমি আর ১০ শতাংশ ক্ষুদ্র পাহাড় ।কয়েক মিলিয়ন বছর আগে,ছিংহাই-তিব্বত মালভূমি সৃষ্টি হয় ।

ভূমিরূপ[সম্পাদনা]

চীন একটি পর্বতময় দেশ। এর মোট আয়তনের দুই-তৃতীয়াংশ পর্বত, ছোট পাহাড় এবং মালভূমি নিয়ে গঠিত। আরও সঠিকভাবে বলতে গেলে চীনের ৩৩% উঁচু পর্বত, ২৬% মালভূমি, ১৯% অববাহিকা, ১২% সমতলভূমি এবং প্রায় ১০% ক্ষুদ্র পাহাড়। কয়েক মিলিয়ন বছর আগে ছিংহাই-তিব্বত মালভূমি সৃষ্টি হয়। আকাশ থেকে দেখলে মনে হবে চীনের ভূভাগ সিঁড়ির মতো পশ্চিম দিক থেকে পূর্বদিকে ধাপে ধাপে নেমে গেছে। সমুদ্র সমতল থেকে ছিংহাই-তিব্বত মালভূমির গড় উচ্চতা ৪০০০ মিটারের বেশি বলে মালভূমিটি "বিশ্বের ছাদ" নামে পরিচিত; এটি চীনের ভূমিরূপের প্রথম সিঁড়ি গঠন করেছে। মালভূমিটিতে অবস্থিত হিমালয়ের অন্যতম প্রধান পর্বতশৃঙ্গ চুমোলাংমা শৃঙ্গের উচ্চতা ৮৮৪৮.১৩ মিটার। আন্তঃমঙ্গোলিয়া মালভূমি, দো-আঁশ মালভূমি, ইয়ুন্নান-কুইচৌ মালভূমি এবং থালিমু অববাহিকা, চুনগার অববাহিকা ও সিছুয়ান অববাহিকা নিয়ে চীনের ভূগোলের দ্বিতীয় সিড়ি গঠিত। এর গড় উচ্চতা ১০০০-২০০০ মিটার। দ্বিতীয় সিড়ির পূর্বপ্রান্ত অতিক্রম করে বড় সিং আনলিন পর্বত, থাইহান শ্যান পাহাড়, উশ্যান পাহাড়, আরস্যুয়ে ফোং শ্যান পাহাড় পূর্বদিকের প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় বিস্তৃত হয়েছ; এটি তৃতীয় সিঁড়ি । তৃতীয় সিঁড়ির ভূখন্ড ৫০০-১০০০ মিটার নীচে নেমে গেছে। উত্তর থেকে দক্ষিণ দিক পর্যন্ত বিস্তৃত তৃতীয় সিঁড়িতে উত্তর-পূর্বসমতল-ভূমি, উত্তর চীন সমতল-ভূমি, ইয়াংসি নদীর মধ্য ও নিম্ন অববাহিকা সমতল-ভূমি আর সমতল-ভূমির প্রান্তে নিচু ও ক্ষুদ্র পাহাড় ছড়িয়ে আছে। এরও পূর্বদিকে চীনের মহাদেশীয় সোপান তথা স্বল্প গভীর সাগরীয় এলাকা অর্থাৎ চতুর্থ সিঁড়িটি বিস্তৃত; এর গভীরতা ২০০ মিটারের কিছু কম।

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

Purchasing power parity-এর বিচারে চীনের অর্থনীতি বিশ্বের ২য় বৃহত্তম। এদেশের জিডিপি (GDP) ৮.১৮৫ ট্রিলিয়ন আমেরিকান ডলার। আমেরিকান ডলার বিনিময় হারের (USD exchange-rate) দিক থেকে দেখলে এর অর্থনীতি বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম (২০০৫ সালের হিসাব)। তথাপি, বিশাল জনসংখ্যার কারণে, চীনের মাথাপিছু আয় (Purchasing power parity-র মাপকাঠিতে) ৬,২০০ আমেরিকান ডলার যা আমেরিকার এক সপ্তমাংশ।

১৯৫০ সালে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি দেশের সকল অর্থনৈতিক কর্মকান্ডকে রাষ্ট্রায়ত্ত করে। তবে ১৯৭৮ সালে শুরু হওয়া সংষ্কার কর্মসূচীর আওতায় সরকার আস্তে আস্তে সোভিয়েত ধারার কেন্দ্রীভূত অর্থনৈতিক মডেল থেকে বাজারমূখী অর্থনীতির দিকে সরে আসে। এর ফলে ১৯৮০ সালে চীনে ১০.২% অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয় এবং ১৯৯০ থেকে ২০০১ পর্যন্ত গড়ে ১০% অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব হয়। ২০০১ সালে চীন বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (World Trade Organization) সদস্য পদ লাভ করে।

পরিবহণ[সম্পাদনা]

গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের পরিবহন ব্যবস্থায় ১৯৪৯ সালের পর থেকে, বিশেষত ১৯৮০-র দশকের শুরু থেকে ব্যাপক উন্নয়ন ও পরিবর্ধন ঘটেছে। নিত্যনতুন বিমানবন্দর, সড়ক ও রেলপথ নির্মাণের প্রকল্পসমূহ আগামী দশকগুলিতেও চীনের শ্রমবাজারে বিপুল পরিমাণে কাজের সৃষ্টি করবে।

রেলপথ চীনের প্রধান পরিবহন ব্যবস্থা। বিংশ শতকের মধ্যভাগের তুলনায় বর্তমান চীনের রেলপথের দৈর্ঘ্য দ্বিগুণ হয়েছে। একটি বিস্তৃত রেলব্যবস্থা বর্তমানে সমগ্র চীন জুড়ে প্রসারিত। বড় বড় শহরগুলিতে পাতাল রেল হয় ইতোমধ্যেই নির্মিত হয়েছে কিংবা নির্মানাধীন বা পরিকল্পনাধীন অবস্থায় আছে।

চীনের সড়ক ও মহাসড়ক ব্যবস্থাতেও দ্রুত পরিবর্ধন সংঘটিত হয়েছে, যার ফলে চীনে মোটরযান ব্যবহারের পরিমাণ আগের চেয়ে বহুগুণ বেড়েছে। বিশালাকার চীনের পরিবহন ব্যবস্থাটিও বহু পরিবহন নোড বা কেন্দ্রের সমন্বয়ে গঠিত বিশাল একটি নেটওয়ার্ক। তবে এই পরিবহন নোডগুলি অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ সমুদ্র-উপকূলীয় এলাকা এবং দেশের অভ্যন্তরে বড় বড় নদীগুলির তীরে অবস্থিত।

ভৌগোলিক অবস্থান অনুসারে চীনের পরিবহন অবকাঠামোতে বৈচিত্র্য ও বৈসাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়। প্রত্যন্ত গ্রামীণ অঞ্চলে এখনও অযান্ত্রিক উপায়ে মালামাল পরিবহন ঘটতে দেখা যায়। অন্যদিকে আধুনিক সাংহাই শহর ও তার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটির মাঝে সম্প্রতি নির্মিত হয়েছে অত্যাধুনিক ম্যাগ্‌লেভ (চৌম্বকীয় উত্তোলন) রেল ব্যবস্থা।

চীনের পরিবহন ব্যবস্থার বেশির ভাগই ১৯৪৯ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের প্রতিষ্ঠার পরে নির্মিত হয়েছে। তার আগে চীনের রেলপথের দৈর্ঘ্য ছিল মাত্র ২১,৮০০ কিমি। বর্তমানে চীনের রেলপথের মোট দৈর্ঘ্য ৮৬,০০০ কিমি। ১৯৯০-এর দশকে সরকারী উদ্যোগে চীনের সর্বত্র যোগাযোগ রক্ষাকারী মহাসড়কব্যবস্থা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়, যার ফলে ২০০৯ সালে এসে বর্তমানে মহাসড়ক ব্যবস্থার দৈর্ঘ্য বেড়ে হয়েছে ৬৫,০০০ কিমি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরে এটি বিশ্বের ২য় বৃহত্তম মহাসড়ক ব্যবস্থা।

১৯৯০-এর দশকের শেষে এসে চীনের অভ্যন্তরে বিমান ভ্রমণের পরিমাণও ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এখনও দূরপথে যাত্রার জন্য রেলপথই চীনাদের বেশি পছন্দ।

জনগোষ্ঠী[সম্পাদনা]

পৃথিবীর এক পঞ্চমাংশ জনগোষ্ঠী চীনে বাস করে। এদের মধ্যে ৯২% হান জাতিগোষ্ঠীর অন্তর্গত। এছাড়াও চীনে আরো ৫৫ জাতিগোষ্ঠীর লোক বসবাস করে। জুলাই ২০০৬ এ হিসেব অনুযায়ী চীনের মোত জনসংখ্যা হবে ১৩১ কোটি ৩৯ লক্ষ ৭৩ হাজার ৭১৩ জন। এর ২০.৮% শতাংশের বয়স ১৪ বছরের নিচে, ৭১.৪% শতাংশের বয়স ১৫ থেকে ৬৪ বছরের মধ্যে এবং ৭.৭ শতাংশের বয়স ৬৫র উপরে। ২০০৬ সালে চীনের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল .৫৯%।

জাতীয় প্রতীকসমূহ[সম্পাদনা]

জাতীয় পতাকা[সম্পাদনা]

চীনের জাতীয় পতাকাটি পাঁচটি তারকাখচিত একটি লাল পতাকা। এর দৈর্ঘ্য ও উচ্চতার অনুপাত হল ৩:২। চীনের জাতীয় পতাকার লাল রঙ বিপ্লবের নিদর্শন। পতাকাতে পাঁচটি হলুদ রঙের পাঁচ-কোনা তারকা আছে, যাদের মধ্যে একটি বড় ও মূল তারকা। চারটি ছোট তারকার প্রত্যেকটির একটি কোনা মূল তারকার কেন্দ্রস্থলের দিকে মুখ করে আছে। এটি কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বাধীন বিপ্লবী জনগণের ঐক্যের নিদর্শন।

জাতীয় প্রতীক[সম্পাদনা]

জাতীয় পতাকা, থিয়েন আনম্যান, চাকা আর ধানের শীষ নিয়ে গণচীনের জাতীয় প্রতীক গঠিত। চীনা সরকারের মতে এটি ৪ঠা মে আন্দোলনের পর চীনা জনগণের চালিত নতুন গণতান্ত্রিক বিপ্লবী সংগ্রাম আর শ্রমিকশ্রেণীর নেতৃত্বাধীন শ্রমিক-কৃষক মৈত্রীর ভিত্তিতে গঠিত জনগণের গণতান্ত্রিক একনায়কত্বের নয়া চীনের প্রতিষ্ঠার পরিচায়ক।

জাতীয় সঙ্গীত[সম্পাদনা]

গণচীনের জাতীয় সঙ্গীত মূলত এক বীরবাহিনীর অগ্রযাত্রার গান। গানটি ১৯৩৫ সালে রচনা করা হয়। গানের কথাগুলো লিখেছেন নাট্যকার থিয়েনহান, আর এটিতে সুর দিয়েছেন চীনের নতুন সংগীত-আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা নিয়ের আর। গানটি প্রকৃতপক্ষে সংগ্রামের অগ্রগামী সন্তানেরা নামক চীনা চলচ্চিত্রের থিম-সঙ্গীত। ১৯৩১ সালের ১৮ই সেপ্টেম্বর জাপান চীনের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের তিনটি প্রদেশ দখল করে। চীনারা জাপানিদের হটাতে যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে, চলচ্চিত্রটিতে সে কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে। চলচ্চিত্রটি মুক্তি পাওয়ার পর এই সঙ্গীতটি সমগ্র চীনে মুক্তিসঙ্গীত হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে।

১৯৪৯ সালের ২৭শে সেপ্টেম্বর চীনা জনগণের রাজনৈতিক পরামর্শ সম্মেলনের প্রথম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে গণচীনের জাতীয় সঙ্গীত আনুষ্ঠানিকভাবে তৈরি না হওয়া পর্যন্ত বীরবাহিনীর অগ্রযাত্রার গানটিকে জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সংস্কৃতি[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ১.০ ১.১ "Law of the People's Republic of China on the Standard Spoken and Written Chinese Language (Order of the President No.37)"। Gov.cn। সংগৃহীত 27 Apr. 2010 
  2. . "China – People". https://www.cia.gov.++Retrieved on 1 Jan. 2010.
  3. ৩.০ ৩.১ ৩.২ ৩.৩ "People's Republic of China"। International Monetary Fund। সংগৃহীত 21 Apr. 2010 
  4. CIA World Factbook [Gini rankings]
  5. Human Development Report 2009. The United Nations. Retrieved 5 October 2009.
  6. "ICANN Board Meeting Minutes"। ICANN। সংগৃহীত 25 June 2010 
  7. Boum, Aomar (1999). Journal of Political Ecology: Case Studies in History and Society. Retrieved 5 May 2007.
  8. "GDP expands 11.4 percent, fastest in 13 years"। Chinadaily.net। 24 Jan. 2008। সংগৃহীত 15 Jun. 2009 
  9. ৯.০ ৯.১ ৯.২ http://bengali.cri.cn/chinaabc/chapter2/chapter20203.htm
  10. http://bengali.cri.cn/chinaabc/chapter4/chapter40201.htm
  11. http://bengali.cri.cn/chinaabc/chapter4/chapter40301.htm

স্থানাঙ্ক: ৩৫° উত্তর ১০৩° পূর্ব / ৩৫° উত্তর ১০৩° পূর্ব / 35; 103