ক্রিস গেইল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ক্রিস গেইল
ChrisGayle Cropped.jpg
২০০৫ সালে আইসিসি বিশ্ব একাদশের পক্ষ হয়ে ডকল্যান্ড স্টেডিয়ামে অংশগ্রহণ
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নাম ক্রিস্টোফার হেনরি গেইল
ডাকনাম গেইলফোর্স, গেইলস্টর্ম
উচ্চতা ৬ ফুট ২ ইঞ্চি (১.৮৮ মিটার)
ব্যাটিংয়ের ধরণ বাম-হাতি
বোলিংয়ের ধরণ ডান-হাতি অফ-ব্রেক
ভূমিকা অল-রাউন্ডার
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক (ক্যাপ ২৩২) ১৬ মার্চ ২০০০ বনাম জিম্বাবুয়ে
শেষ টেস্ট ৬ আগস্ট ২০১২ বনাম নিউজিল্যান্ড
ওডিআই অভিষেক (ক্যাপ ৯৭) ১১ সেপ্টেম্বর ১৯৯৯ বনাম ভারত
শেষ ওডিআই ১৬ জুলাই ২০১২ বনাম নিউজিল্যান্ড
ওডিআই শার্ট নং ৪৫
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছর দল
১৯৯৮–২০০৮, ২০১০ – জ্যামাইকা (দল নং ৩৩৩)
২০০৫ ওরচেস্টারশায়ার
২০০৮-২০১০ কলকাতা নাইট রাইডার্স
২০০৯-২০১১ ওয়েস্টার্ন ওয়ারিয়র্স
২০১১– রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর
২০১১– সিডনী থান্ডার
২০১২ বরিশাল বার্নার্স
কর্মজীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই FC এলএ
ম্যাচ সংখ্যা ৯৯ ২৫৫ ১৭৬ ৩২২
রানের সংখ্যা ৬,৯৩৩ ৮,৭৪৩ ১২,৯৪৫ ১১,২১৬
ব্যাটিং গড় ৪২.০১ ৩৭.৫২ ৪৪.৭৯ ৩৮.৪১
১০০/৫০ ১৫/৩৪ ২১/৪৫ ৩২/৬১ ২৪/৬১
সর্বোচ্চ রান ৩৩৩ ১৫৩* ৩৩৩ ১৫৩*
বল করেছে ৬,৮৯৯ ৭,০৩২ ১২,৩০১ ৯,১৭৬
উইকেট ৭২ ১৫৭ ১৩১ ২১৬
বোলিং গড় ৪২.০০ ৩৫.৩৮ ৩৮.৯১ ৩২.০৭
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট n/a n/a
সেরা বোলিং ৫/৩৪ ৫/৪৬ ৫/৩৪ ৫/৪৬
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৯০/– ১০৮/– ১৫২/– ১৩৪/–
উত্স: ESPNCricinfo, 31 ৩০ নভেম্বর ২০১৩

ক্রিস্টোফার হেনরি "ক্রিস" গেইল (ইংরেজি: Chris Gayle, জন্ম: ২১ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৯) জ্যামাইকান বংশোদ্ভূত ওয়েস্ট ইন্ডিজ জাতীয় ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ও মারকুটে ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিত। তিনি ওরচেস্টারশায়ার কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাব, ওয়েস্টার্ন ওয়ারিয়র্স এবং কলকাতা নাইট রাইডার্স দলের পক্ষ নিয়ে খেলেছেন। বর্তমানে তিনি ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ বা আইপিএল ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় রয়েল চ্যালেঞ্জার ব্যাঙ্গালোরের হয়ে খেলছেন। বিগ ব্যাস লীগে গেইল সিডনী থান্ডার দলের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগে বরিশাল বার্নার্স দলের অন্যতম ক্রিকেটার

খেলোয়াড়ী জীবন[সম্পাদনা]

১৯ বছর বয়সে জ্যামাইকার পক্ষ হয়ে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটান। এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষ হয়ে যুবদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলেন। এগার মাস পর একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলেন। এর ছয় মাস পর টেস্ট ম্যাচ খেলেন। ক্রিস গেইল সাধারণতঃ ইনিংসের গোড়াপত্তন করেন ও বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান হিসেবে ইতিমধ্যেই নিজের পরিচয় তুলে ধরেন। জুলাই, ২০১১ সালে গেইল (১৭৫) এবং ড্যারেন গঙ্গা (৮৯) কুইন্স স্পোর্টস ক্লাব, বুলাওয়েতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২১৪ রানের পার্টনারশীপ করে নতুন রেকর্ড গড়েন।

১৭ ডিসেম্বর, ২০০৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩য় টেস্ট ম্যাচে ক্রিস গেইল টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে ৫ম দ্রুততম সেঞ্চুরি করেন। তিনি মাত্র ৭০ বলে সেঞ্চুরীতে পৌঁছেন। কিন্তু ১০২ রান করে আউট হন। এ ইনিংসে বেশ কিছু ছক্কা মারেন। তন্মধ্যে একটি লিলি-মার্শ স্ট্যান্ডের ছাদে চলে যায়। ধারাভাষ্যকার ও সাবেক উইকেট-রক্ষক অস্ট্রেলিয়ার ইয়ান হিলি মন্তব্য করেছিলেন যে প্রায় ১৪০ মিটার দূরে বল চলে গিয়েছিল। ১৬ নভেম্বর, ২০১০ সালে ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যান, ব্রায়ান লারা এবং বিরেন্দর শেওয়াগের পর ৪র্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনি দু'টি ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকান।[২]

টুয়েন্টি২০[সম্পাদনা]

২০০৭ সালের বিশ্ব টুয়েন্টি প্রতিযোগিতার প্রথম খেলায় দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ৫৭ বলে ১১৭ রান করেন যা একসময় সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের ইনিংস হিসেবে রেকর্ডভূক্ত হয়েছিল। এছাড়াও সেঞ্চুরিটি ছিল টুয়েন্টি২০ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের প্রথম। এরফলে তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ৩টি পদ্ধতির (টেস্ট, একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট এবং টুয়েন্টি২০) প্রত্যেকটিতেই সেঞ্চুরি করে বিরল রেকর্ড গড়েন।[৩] ২৩ এপ্রিল ২০১৩ সালে আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে পুনে ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে ৩০ বলে সেঞ্চুরি করেন।[৪] যেটি বর্তমানে টি-টুয়েন্টি এবং ক্রিকেটের যেকোন ফরম্যাটের ইতিহাসে দ্রুততম সেঞ্চুরি। ম্যাচে তিনি অপরাজিত ১৭৫ (৬৬ বল) রান করেন। এ ইনিংসে তিনি টুয়েন্টি২০ ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশী ১৭টি ছক্কা হাঁকান।[৫] পূর্বতন দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডটি ছিল অস্ট্রেলিয়ার অ্যান্ড্রু সাইমন্ডসের ৩৪ বলে। এছাড়াও তিনি টুয়েন্টি২০ ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশী ১১টি সেঞ্চুরি করেন।

বিতর্ক[সম্পাদনা]

অত্যন্ত ভদ্র, শান্তশিষ্ট চরিত্রের ব্যক্তিত্ব হিসেবে ক্রিস গেইলের সুনাম রয়েছে।[৬] কিন্তু ২০০৫ সালে তিনি ও তাঁর সহযোগী কয়েকজন খেলোয়াড় স্পন্সর সংক্রান্ত জটিলতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডের সাথে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। তাঁরা ব্যক্তিগতভাবে ক্যাবল এন্ড ওয়্যারলেস কোম্পানীর সাথে স্পন্সরশীপ চুক্তিতে আবদ্ধ ছিলেন। কিন্তু কোম্পানীর প্রতিপক্ষ ডিজিসেলকে বোর্ড স্পন্সরশীপে আমন্ত্রণ জানায় ও বোর্ড খেলোয়াড়দেরকে ক্যাবল এন্ড ওয়্যারলেসের সাথে আবদ্ধ চুক্তি বাতিল করার কথা বলে। কিন্তু গেইলসহ অন্যান্যরা তাতে সাড়া না দিলে ক্রিকেট বোর্ড তাদের ছাড়াই দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ১ম টেস্টের জন্যে নাম ঘোষণা করে।[৭]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

টেমপ্লেট:Matabeleland Tuskers Squad