ক্রিস্টোফার মার্টিন-জেনকিন্স

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ক্রিস্টোফার ডেনিস আলেকজান্ডার মার্টিন-জেনকিন্স
এমবিই
Christopher Martin-Jenkins.jpg
২০০৬-০৭ মৌসুমে এডিলেইড ওভালে মার্টিন-জেনকিন্স
জন্ম (১৯৪৫-০১-২০)২০ জানুয়ারি ১৯৪৫
পিটারবরা, ইংল্যান্ড
মৃত্যু ১ জানুয়ারি ২০১৩(২০১৩-০১-০১) (৬৭ বছর)
জাতীয়তা ব্রিটিশ
অন্য নাম
  • সিএমজে
  • দ্য মেজর[১]
অ্যালমা ম্যাটার
পেশা ক্রিকেট সাংবাদিক ও ধারাভাষ্যকার
কার্যকাল ১৯৬৭-২০১২
যে জন্য পরিচিত

ক্রিস্টোফার ডেনিস আলেকজান্ডার মার্টিন-জেনকিন্স, এমবিই (ইংরেজি: Christopher Dennis Alexander Martin-Jenkins; জন্ম: ২০ জানুয়ারি, ১৯৪৫ - মৃত্যু: ১ জানুয়ারি, ২০১৩)[১] যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত ক্রিকেট ধারাভাষ্যকার, ইতিহাসবেত্তা এবং সাংবাদিক ছিলেন। তিনি বিবিসি রেডিও'র টেস্ট ম্যাচ স্পেশাল শিরোনামীয় অনুষ্ঠান পরিচালনা করতেন। এছাড়াও তিনি এমসিসির সাবেক সভাপতি ছিলেন। সিএমজি কিংবা দ্য মেজর নামেও তাঁর পরিচিতি ছিল। এক বছর পূর্বে জানুয়ারি, ২০১২ সালে ক্যান্সারের চিকিৎসা করে অবশেষে ৬৭ বছর বয়সে দেহাবসান ঘটে তাঁর।[২]

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

ইংল্যান্ডের পিটারবরায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা জাহাজী প্রতিষ্ঠান এলারম্যান লাইন্সের সভাপতি ছিলেন এবং মা ছিলেন একজন সার্জন। ইস্টবোর্নের সেন্ট বেদে'জ প্রিপারেটরী স্কুল থেকে পড়াশোনা শেষে মার্লবরা কলেজে অধ্যয়ন করেন। বিদ্যালয় জীবনের শেষ দিকে বিদ্যালয়ের ক্রিকেট একাদশের অধিনায়ক ছিলেন। তখন তিনি ব্রায়ান জনস্টনকে চিঠি লিখে জানতে চেয়েছিলেন, কি করে সফলতম ক্রিকেট ধারাভাষ্যকার হওয়া যায়। জনস্টন প্রত্যুত্তরে তাঁকে দুপুরের খাবারের জন্যে নিমন্ত্রণ জানান এবং ধারাভাষ্যে দক্ষতার জন্যে টেপ রেকর্ডার ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছিলেন।[৩]

জুডি হেম্যানের সাথে কেমব্রিজে তাঁর পরিচয় ঘটে এবং ১৯৭০ সালে তাঁরা বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হন। জেমস ও রবিন এবং লুসি নামীয় তাঁর তিন সন্তান রয়েছে। তন্মধ্যে রবিন মার্টিন-জেনকিন্স সাসেক্সের পক্ষে খেলে ২০১০ সালে অবসর নেয়। তার বড় ভাই জেমস র‌্যাডলি রেঞ্জার্স দলে ১৯৯৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত খেলেছে।

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

১৯৬৭ সালে স্নাতক ডিগ্রী অর্জনের পর ইডব্লিউ সনটনের অধীনে দ্য ক্রিকেটার সাময়িকীর সহকারী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। মার্চ, ১৯৭০ সালে তিনি সাময়িকী থেকে অব্যাহতি নিয়ে বিবিসি রেডিও স্পোর্টস নিউজ বিভাগে যোগ দেন। পাশাপাশি ১৯৭২ সালে তিনি তাঁর ধারাভাষ্যকার জীবনের অভিষেক ঘটান ইংল্যান্ড বনাম অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার মাধ্যমে।[৪]

১৯৭৩ সালে জেনকিন্স টিএমএস দলে যোগ দেন। ঐ বছরই ক্রিকেট সংবাদদাতা হিসেবে ব্রায়ান জনস্টনের স্থলাভিষিক্ত হন। ১৯৭৩-১৯৮০ এবং ১৯৮৫-১৯৯১ পর্যন্ত বিবিসি; দ্য ডেইলী টেলিগ্রাফে ১৯৯০-১৯৯১ এবং দ্য টাইমসে ১৯৯৯-২০০৮ পর্যন্ত কর্মজীবন অতিবাহিত করেন। ইংল্যান্ডের সাবেক টেস্ট অধিনায়ক মাইক অ্যাথারটন তাঁকে টাইমসের চীফ ক্রিকেট করেসপন্ডেন্টরূপে ১ মে, ২০০৮ সালে স্থলাভিষিক্ত করেন। ৩১ ডিসেম্বর, ২০১২ তারিখে অন্যতম ক্রিকেট ধারাভাষ্যকার টনি গ্রেগের মৃত্যুসম্পর্কীয় নিবন্ধটি তিনি তাঁর নিজের মৃত্যুর একদিন পূর্বে রচনা করেন।[৫] রেডিওতে ধারাভাষ্যকাররূপে প্রত্যাবর্তনের পূর্বে ১৯৮১ থেকে ১৯৮৫ পর্যন্ত বিবিসি'র টেলিভিশন উপস্থাপক হিসেবেও কাজ করেছেন। ১৯৮০ সাল থেকে তিনি দ্য ক্রিকেটার সম্পাদনা করতেন। এছাড়াও, ১৯৯৮ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত দ্য ক্রিকেট সোসাইটির সভাপতি ছিলেন।

দেহাবসান[সম্পাদনা]

২০০৯ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে নিউমোনিয়াসহ হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হবার পর থেকেই তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটতে শুরু করে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে ধারাভাষ্য শেষে জানুয়ারি, ২০১২ সালে ক্যান্সারের চিকিৎসা করান। এরপর টেস্ট ম্যাচ স্পেশাল থেকে অসুস্থতাজনিত কারণে অব্যহতি নিতে বাধ্য হন। ১ জানুয়ারি, ২০১৩ তারিখের সকালে তাঁর দেহাবসান ঘটে।[৬]

পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর মৃত্যু বিষয়ে একটি বিবৃতি দেয়া হয়। তাতে বলা হয়:[৭]

ক্রিস্টোফার ক্যান্সারের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে অবস্থান নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে আজ সকালে মৃত্যুবরণ করেন। বিশ্ব ক্রিকেটের প্রতি অনুরক্ততা, বলা ও লিখার মাধ্যমে তাঁর অংশগ্রহণে এ পরিবার গর্বিত। একাধারে তিনি ছিলেন একজন ভাল স্বামী, ভাই, বাবা এবং দাদা।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]