কাসাভা
| কাসাভা | |
|---|---|
| A manioc tuber | |
| বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস | |
| জগৎ/রাজ্য: | Plantae |
| (unranked): | Angiosperms |
| (unranked): | Eudicots |
| (unranked): | Rosids |
| বর্গ: | Malpighiales |
| পরিবার: | Euphorbiaceae |
| উপপরিবার: | Crotonoideae |
| গোত্র: | Manihoteae |
| গণ: | Manihot |
| প্রজাতি: | M. esculenta |
| দ্বিপদী নাম | |
| Manihot esculenta Crantz |
|
কাসাভা (Manihot esculenta) হচ্ছে গাছের শিকড়জাত একধরনের আলু, জন্মে মাটির নিচে। শিমুল আলু নামেও পরিচিত। প্রচলিত অন্যান্য নাম হচ্ছে Yuca, Mogo, Manioc, Mandioca ইত্যাদি।[১]
পরিচ্ছেদসমূহ |
বিবরণ [সম্পাদনা]
সাধারণত আলংকারিক গাছ হিসেবেই বাগানে রোপণ করা হয়। কাসাভা পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম শর্করা উৎপাদনকারী ফসল এবং আফ্রিকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের প্রায় ৫০ কোটি মানুষের প্রধান খাদ্য। এ কারণে আফ্রিকায় খাদ্য হিসেবেও জনপ্রিয়। তবে বর্তমানে সারা পৃথিবীর উষ্ণ ও উপ-উষ্ণ অঞ্চলে ব্যাপকভাবে কাসাভার চাষ হচ্ছে। কাসাভা উৎপাদনে প্রথম স্থানে রয়েছে নাইজেরিয়া। কাসাভা বহুবর্ষজীবী গুল্ম শ্রেণীর গাছ। কাণ্ড গিঁটযুক্ত, আগা ছড়ান, পাতা যৌগিক, গড়ন শিমুল পাতার মতো, করতলাকৃতি, লাল রঙের দীর্ঘ বৃন্তের মাথায় লম্বাটে ছয় থেকে সাতটি পত্রিকা থাকে। [১]
চাষাবাদ [সম্পাদনা]
বাংলাদেশে গাছ রোপণ এবং ফসল তোলার উপযুক্ত সময় ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ এবং অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত। গাছ লাগানোর সাত মাস পর শিকড়ের আলু খাওয়ার উপযোগী হয়। কাসাভা চাষের সবচেয়ে বড় সুবিধা—এ গাছ পতিত জমি, খেতের আল এবং অনুর্বর মাটিতেও ভালো জন্মে। তা ছাড়া মাটির উর্বরতাও নষ্ট করে না।[১] বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষ করলে হেক্টর প্রতি ৯০ থেকে ১০০ মেট্রিক টন কাসাভা উৎপাদিত হয়।[২]
ব্যবহার [সম্পাদনা]
কাসাভার মূল বা শিকড় পুড়ে মিষ্টি আলুর মতো খাওয়া যায়। আলু সিদ্ধ করে বিভিন্ন তরকারির সঙ্গে রান্না করে খাওয়া যায়। কাসাভা আলু থেকে তৈরি আটা ১০ থেকে ৩০ ভাগ গম-আটার সঙ্গে মিশিয়ে রুটি, কেক, বিস্কুট, স্যুপ, রসগোল্লা ইত্যাদি তৈরি করা সম্ভব। তা ছাড়া, কাগজ ও ওষুধের কাঁচামাল হিসেবেও কাসাভা ব্যবহূত হয়। তবে সব জাতের কাসাভা খাওয়ার উপযোগী নয়। বিভিন্ন দেশের পতিত স্থানগুলোতে কাসাভা চাষ করে খাদ্যের বাড়তি চাহিদা মেটানো সম্ভব।[১]
কাসাভা আটা [সম্পাদনা]
এক কেজি কাঁচা কাসাভা থেকে ৩০০ - ৪০০ গ্রাম শুকনা আটা পাওয়া যায় । সাধারণত রোপনের ৬ মাস থেকেই কাসাভা কান্দ আরোহন করা যায় । তবে ১০ মাসের পরে এটি সবচেয়ে মান সম্পন্ন হয়। কান্দটি তুলে পানিতে ধুয়ে ছাল ছাড়িয়ে টুকরো টুকরো করে কেটে রোদে শুকিয়ে গমের মতো ভেঙে এটা তৈরি করা যায়। পরীক্ষা করে দেখা গেছে কাসাভা আটার পুষ্টিমান গমের আটার চেয়ে অনেক বেশি এবং এই আটা থেকে রুটি ছাড়াও অনেক প্রকার সুস্বাদু খাবার তৈরি করা যায়। সর্বোপরি কাসাভা আটার উৎপাদন খরচ কম হওয়াতে দাম তুলনামূলক অনেক কম। [২]
কাসাভা বৃক্ষজ্বালানী [সম্পাদনা]
কাসাভা বৃক্ষ থেকে জ্বালানী প্রকল্প তেলের অভাবজনিত সংকট মোকাবেলার জন্য এটা হলো বিভিন্ন দেশের নেয়া একটি প্রধান পদক্ষেপ। কাসাভা বৃক্ষ থেকে সাধারন গ্যাস চালিত গাড়ির জন্য আ্যলকোহল উত্পাদন করা হবে। সাধারণ গ্যাসের সঙ্গে উপযুক্ত অনুপাতে এই আ্যলকোহল মিশালে গাড়িতে ব্যবহৃত জ্বালানী হিসেবে আ্যলকোহলে পরিণত হয়। এই জ্বালানী আ্যলকোহল ও বিশুদ্ধ গ্যাসের মধ্যে বেশী পাথর্ক্য নেই। অতিরিক্ত ঘন আ্যলকোহল হচ্ছে এক ধরনের উচ্চ ঘণত্বের উষ্ণ মন্ডলীয় অঞ্চলের উদ্ভিদজাত জ্বালানী। [৩]
ক্ষতিকর দিক [সম্পাদনা]
অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পার্বত্য অঞ্চলগুলোর টিলা ভূমিতে কাসাভা আলুর চাষাবাদ করলে মাটি উর্বরতা হারাতে পারে। টিলার বনজঙ্গল কেটে কাসাভার ছোট ছোট কাণ্ড রোপণ করা হয়। এর আট-নয় মাস পর মাটি খুঁড়ে তোলা হয় আলু। মাটি খুঁড়ে আলু তোলায় বর্ষাকালে বৃষ্টির পানিতে টিলাগুলোর মাটি ঝরে পরে। সৃষ্টি হয় ধস। এলোপাতাড়ি খোঁড়াখুঁড়ির কারণে পুরো টিলার মাটি আলগা হয়ে পরতে পারে। ভূমির উপরিভাগে থাকা মাটির উর্বর উপাদান ধসে যায়। ফলে টিলার মাটি অনুর্বর হয়ে পড়ে। এক ইঞ্চি উর্বর মাটি বা টপ সয়েল সৃষ্টি হতে ১০০ বছরের মতো সময় লাগে। দা দিয়ে ছোট ছোট গর্ত খুঁড়ে জুম চাষের ফলে পাহাড়ের যে ক্ষতি হয়, এর চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ক্ষতি হয় কোদাল দিয়ে মাটি উপড়ে কাসাভা আলু তোলায়।[৪]
তথ্যসূত্র [সম্পাদনা]
- ↑ ১.০ ১.১ ১.২ ১.৩ আকর্ষণীয় কাসাভা, মোকারম হোসেন, দৈনিক প্রথম আলো। ঢাকা থেকে প্রকাশের তারিখ: ০৫-০৯-২০১২ খ্রিস্টাব্দ।
- ↑ ২.০ ২.১ বিজ্ঞানী ডঃ শিরীনা বেগমের উদ্ভাবিত কাসাভা আটা, জামিউল হক শোভন, নিউজ-বাংলা। ঢাকা থেকে প্রকাশের তারিখ: ১৬ এপ্রিল ২০০৮ খ্রিস্টাব্দ।
- ↑ কুয়াংসিতে কাঁচামাল হিসেবে কাসাভা বৃক্ষজ্বালানী প্রকল্প গড়ে তোলা হয়েছে, চীন আন্তর্জাতিক বেতার। ঢাকা থেকে প্রকাশের তারিখ: ২২-১২-২০০৭ খ্রিস্টাব্দ।
- ↑ কাসাভা আলু চাষে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পার্বত্যাঞ্চলের মাটি, এন লাভলু, রামগড়, কালের কণ্ঠ। ঢাকা থেকে প্রকাশের তারিখ: ১৫ জানুয়ারি ২০১১ খ্রিস্টাব্দ।
বহিঃসংযোগ [সম্পাদনা]
| উইকিমিডিয়া কমন্সে নিচের বিষয় সংক্রান্ত মিডিয়া রয়েছে: Manihot esculenta |
- Cassava - Purdue University Horticulture
- Cassave Research at the International Institute of Tropical Agriculture (IITA)
- Cassava Biz - information service provided by the Integrated Cassava Project (ICP) of the International Institute of Tropical Agriculture (IITA), to encourage, promote, and expand agribusiness development in the cassava subsector in Nigeria.
- Cassava Pests: From Crisis to Control
- GE cassava plants that have reduced cyanogens
- GE cassava plants whose roots are over 2.5 times normal size
- The Inoculated Mind - Interview with Dr. Richard Sayre, credited with lowering cyanogen content and engineering giant cassava
- Global Cassava Development Strategy
- The Case for Cassava
- Mayans grew Manioc
- CATISA: Cassava Transformation in Southern Africa