কল্পসাহিত্য

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

কল্পসাহিত্য (ইংরেজি: Speculative fiction, "স্পেকুলেটিভ ফিকশন") কথাসাহিত্যের একটি বিশেষ বর্গ যেখানে বাস্তব জগতের সঙ্গে অসম্পর্কিত এক কল্পিত জগতের বর্ণনা দেওয়া হয়। এই ধারার উপবর্গগুলি হল: কল্পবিজ্ঞান, ফ্যান্টাসি সাহিত্য, ভৌতিক সাহিত্য, অতিলৌকিক সাহিত্য, সুপারহিরো সাহিত্য, কল্পস্বর্গ ও কল্পনরক সাহিত্য, প্রলয় ও প্রলয়োত্তর সাহিত্য, বিকল্প ইতিহাস। এই উপবর্গগুলি প্রায়শই পরস্পর পরস্পরের সঙ্গে ওতোপ্রতোভাবে জড়িয়ে থাকে।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

"স্পেকুলেটিভ ফিকশন" শব্দটির স্রষ্টা মনে করা হয় রবার্ট এ হেইনলেইনকে। ২ অগস্ট, ১৯৪৮ তারিখে দ্য স্যাটারডে ইভনিং পোস্ট পত্রিকার একটি সম্পাদকীয়তে তিনি এই শব্দটি কল্পবিজ্ঞানের প্রতিশব্দরূপে ব্যবহার করেন। পরবর্তীকালের একটি লেখায় তিনি পরিষ্কার জানান ফ্যান্টাসি বোঝাতে তিনি এই শব্দটি ব্যবহার করেননি। হেইনলেইন শব্দটি ব্যবহার করেছেন বটে, কিন্তু তার আগেও এই শব্দটি ব্যবহৃত হয়। ১৮৮৯ সালে লিপিনকোট’স মান্থলি ম্যাগাজিন-এ এডওয়ার্ড বেলআমির লুকিং ব্যাকওয়ার্ড: ২০০০-১৮৮৭ গ্রন্থের একটি সূত্র ধরে শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছিল। "স্পেকুলেটিভ ফিকশন" নামসংক্ষেপ করা হয় "স্পেক-ফিক", "স্পেকফিক", "S-F", "SF", বা "sf"। শেষ তিনটি কল্পবিজ্ঞান বা সায়েন্স ফিকশনের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয় বলে অনেক সময় বিভ্রান্তি ছড়ায়।

সায়েন্স ফিকশনের প্রতি অতৃপ্ত অর্থে "স্পেকুলেটিভ ফিকশন" প্রয়োগ জনপ্রিয় হয় ১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশকের প্রথম ভাগে জেডিথ মেরিল ও অন্যান্য লেখক ও সম্পাদকদের দ্বারা। এরা নিউ ওয়েভ ধারার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে ১৯৭০-এর দশকের মধ্যভাগ থেকে এর ব্যবহার কমে আসতে থাকে। দ্য ইন্টারনেট স্কেকুলেটিভ ফিকশন ডেটাবেস এই ধারার বিভিন্ন উপবর্গের তালিকা প্রস্তুত করেছে। ২০০০-এর দশক থেকে এই সব উপবর্গের সামগ্রিক নাম হিসেবে এই শব্দটি বেশ জনপ্রিয় হয়। যেসব গবেষণা পত্রিকা কল্পসাহিত্যের উপর প্রবন্ধ ছাপে সেগুলি হল এক্সট্রাপোলেশন, ও ফাউন্ডেশন – দ্য ইন্টারন্যাশানাল রিভিউ অফ সায়েন্স ফিকশন

কেউ কেউ যাকে কল্পবিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতা পার সে (per se) মনে করেন তার প্রতিও অতৃপ্তি জ্ঞাপন করতে এই শব্দটি ব্যবহার করা হয়। উদাহরণস্বরূপ হারলান এলিসনের লেখালিখিতে এই শব্দটি এমনভাবে ব্যবহৃত হয়েছে যাতে কল্পবিজ্ঞান লেখক তকমার ক্ষুদ্র আবর্ত থেকে বেরিয়ে আসা যায় এবং কল্পবিজ্ঞানের সমস্ত বর্গপ্রথাকে ভেঙে ফেলে আধুনিক সাহিত্যের ধারার পথে তাকে পরিচালিত করা যায়; আবার কখনও তা ব্যবহৃত হয়েছে মূলধারার সমালোচকরা কল্পবিজ্ঞানকে যে মর্মে সমালোচনা করেন তার হাত থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য।[১] তবে কোনো কোনো লেখক ও পাঠক এই শব্দটি অপমানজনক মনে করেন।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]