ওয়াই ফাই

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

ওয়াই ফাই হল ওয়াই ফাই এলায়েন্সের বাণিজ্য-চিহ্ন বা ট্রেডমার্ক । আই ই ই ই ৮০২.১১ আদর্শের তারহীন স্থানীয় এলাকা নেটওয়ার্ক বা অয়্যারলেস লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (ডব্লিউ এল এ এন) ডিভাইস ব্র্যান্ড করার জন্য উৎপাদনকারীরা এই বাণিজ্য-চিহ্ন ব্যবহার করে। এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ডব্লিউ এল এ এন ক্লাশ হল আই ই ই ই ৮০২.১১। ওয়াই ফাই শব্দটি প্রায়ই আই ই ই ই ৮০২.১১ এর প্রতিশব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। [১][২]

ওয়াই ফাই এলায়েন্স হল একটি বিশ্বব্যপী প্রতিষ্ঠানের দল যা ডব্লিউ এল এ এন প্রযুক্তি বিস্তার করে এবং ইন্টেরোপেরাবিলিটির আদর্শ সমন্বিত ডিভাইসকে প্রত্যয়ন করে। ইন্টেরোপেরাবিলিটি হল তথ্য বিনিময় ও ব্যবহার করার ক্ষমতা। অনেক সময় খরচ কমানোর জন্য সকল ৮০২.১১-উপযোগী ডিভাইস ওয়াই ফাই এলায়েন্স প্রত্যয়নের জন্য দেয়া হয় না। কোন ডিভাইসে ওয়াই ফাই লগো না থাকে মানে এই না যে ডিভাইসটি ওয়াই ফাই সমর্থন করে না।

সাধারণত সকল ল্যাপটপ, পেরিফেরাল ডিভাইস, প্রিন্টার, স্মার্ট ফোন, এম পি থ্রী প্লেয়ার, ভিডিও গেম কনসোল এবং ব্যক্তিগত কম্পিউটারে ব্যবহার করা যায়।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

ইউ এস ফেডারেল কমিউনিকেশন কমিশন কর্তৃক রেডিও বর্ণালির কিছু ব্যান্ড উন্মুক্ত করার মাধ্যমে ওয়াই ফাই প্রযুক্তির যাত্রা শুরু হয় ১৯৮৫ সালে।[৩] ১৯৯১ সালে এন সি আর কর্পোরেশন/এ টি এন্ড টি নিউওয়েজিন, নরওয়েতে ওয়াই ফাই/৮০২.১১ এর পূর্ব লক্ষণ আবিষ্কার করেন। প্রাথমিকভাবে আবিষ্কারক কোষাধ্যক্ষ-ব্যবস্থার জন্য এই প্রযুক্তি আবিষ্কার করেন। তাদের প্রথম প্রযুক্তি দ্রব্য হল ওয়েভ ল্যান যার তথ্য স্থানান্তর ক্ষমতা ছিল ১ মেগা বিট/সেকেন্ড এবং ২ মেগা বিট/সেকেন্ড। ভিক হেয়েস প্রাথমিক ৮০২.১১বি এবং ৮০২.১১এ আদর্শ নকশাকারীদের মধ্যে একজন, তিনি ওয়াই ফাই এর পিতা নামে পরিচিত এবং তিনি ১০ বসর আই ই ই ই ৮০২.১১ এর প্রধান ছিলেন।

১৯৯২ সালে কমনওয়েলথ সায়েন্টিফিক এন্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ অরগানাইজেশন (সি এস আই আর ও) তারহীন তথ্য স্থানান্তরের জন্য কৃতিস্বত্ব লাভ করে অস্ট্রেলিয়াতে। ১৯৯৬ সালে একই বিষয়ে ইউ এস এ তারা কৃতিস্বত্ব লাভ করে। ওয়াই ফাই ওই কৃতিস্বত্বের গাণিতিক সূত্রসমূহ ব্যবহার করে। ২০০৯ সালের এপ্রিলে,ইন্টেল, মাইক্রোসফট, এইচপি, ডেল সহ ১৪ টি প্রযুক্তি ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এই কৃতিস্বত্ব ব্যবহার করার জন্য সি এস আই আর ও কে ২৫০ মিলিয়ন ইউ এস ডলার প্রদান করতে সম্মত হয়। [৪][৫]

ব্যবহার[সম্পাদনা]

ইন্টারনেটে প্রবেশ[সম্পাদনা]

ছাদে স্থাপিত ওয়াই ফাই এন্টেনা[সম্পাদনা]

ইন্টারনেটে সংযুক্ত নেটওয়ার্কের সীমানার মধ্যে থাকলে একটি ওয়াই ফাই ডিভাইস যেমন ব্যক্তিগত কম্পিউটার, ভিডিও গেম কনসোল, মোবাইল ফোন, এম পি থ্রী প্লেয়ার বা পিডিএ সহজেই ইন্টেরনেটে সংযুক্ত হতে পারে। পরস্পর সংযুক্ত ইন্টারনেটে প্রবেশ বিন্দু বা এক্সেস পয়েন্টগুলোকে "হটস্পট" বলে। একটি হটস্পট কয়েকটি কক্ষ নিয়ে হতে পারে বা কয়েক মাইল বিস্তৃত হতে পারে। বিস্তৃত এলাকায় এর লভ্যতা নির্ভর করে প্রবেশ বিন্দু গুলোর উপর যাদের সীমা পরস্পরকে অতিক্রম করে। ওয়াই ফাই প্রযুক্তি তারহীন মেশ নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত হয়। লন্ডনে এরুপ নেটওয়ার্ক আছে।[৬]

বাসা ও অফিসের সাথে সাথে ওয়াই ফাই বিভিন্ন হটস্পটে সাধারণ জনগনকে ইন্টারনেটে প্রবেশ করতে দিতে পারে। এই প্রবেশ বিনামূল্যে হতে পারে বা কোন বাণিজ্যিক সুবিধার কারণে হতে পারে। যেমন অনেক সপিং মল তাদের ক্রেতাদের বিনামূল্যে ওয়াই ফাই সুবিধা দিয়ে থাকে। এটা ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার জন্য করা হয়ে থাকে। ২০০৮ সালে ৩০০ এর বেশি মেট্রোপলিটন-বিস্তৃত ওয়াই ফাই (মিউনি ওয়াই ফাই) প্রকল্প চালু হয়েছে। [৭] ২০১০ সালের ভিতর চেক প্রজাতন্ত্রে ১১৫০ টি ওয়াই ফাই ভিত্তিক ইন্টারনেট সুবিধা প্রদানকারী বা আই এস পি গড়ে উঠেছে।[৮][৯]

শহর-বিস্তৃত ওয়াই ফাই[সম্পাদনা]

২০০০ সালের গোড়ার দিকে অনেক শহর শহর-বিস্তৃত ওয়াই ফাই নেটওয়ার্ক তৈরীর নকশা করলেও অধিকাংশই ব্যর্থ হয়ে যায়। খুব কম শহর সাফল্য লাভ করে। যেমন ২০০৫ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার সানভ্যালি ইউ এস এর মধ্যে প্রথম শহর-বিস্তৃত বিনামূল্যে ওয়াই ফাই সুবিধা দিতে সমর্থ হয়। [১০]

২০১০ সালের মে মাসে লন্ডনের মেয়র বরিস জনসন ২০১২ সালের মধ্যে লন্ডন-বিস্তৃত ওয়াই ফাই প্রদানের প্রতিজ্ঞা করেন। [১১] তবে ইতোমধ্যে লন্ডন ও ইলিংটন শহরে বর্ধিত বাইরের ওয়াই ফাই সুবিধা আছে। [১২]

প্রাঙ্গন-বিস্তৃত ওয়াই ফাই[সম্পাদনা]

১৯৯৪ সালে যখন ওয়াই ফাই ব্রান্ডিং শুরু হয় নি তখন কার্নেগি মেলন বিশ্ববিদ্যালয় তাদের পিটসবার্গ প্রাঙ্গনে তারহীন ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করে। [১৩] অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গন ওয়াই ফাই সুবিধা দিয়ে থাকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র বা টি এস সি তে বিনামূল্যে ওয়াই ফাই সুবিধা দেয়া হয়।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]