ওপেন বেজ স্টেশন আর্কিটেকচার ইনিশিয়েটিভ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(ওবিএসএআই থেকে ঘুরে এসেছে)

ওবিএসএআই, যার পুর্ণ মানে "ওপেন বেজ স্টেশন আর্কিটেকচার ইনিশিয়েটিভ", একটি যৌথ উদ্যোগের নাম। ২০০২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে হুন্দাই, এলজি, নকিয়া, স্যামসাংজেডটিই সেলুলার বেস স্টেশনের জন্য উম্মুক্ত ব্যবস্থা গঠনের জন্য এই উদ্যোগ গ্রহণ করে। এই উদ্যোগের পিছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল একটি মুক্ত বাজার সৃষ্টি করলে নতুন বেজ স্টেশন পণ্যের উৎপাদন খরচ গতানুগতিক পদ্ধতির তুলনায় অনেক কমে যাবে।

ওবিএসএআই গোত্রের স্পেশিফিকেশন বেজ ট্রানসিভার স্টেশনের সাধারণ মডিউলগুলোর ইন্টিগ্রেশনের জন্য আর্কিটেকচার, ফাংশন বিবরন ও সর্বনিম্ন যোগ্যতা নির্ধারন করে দিয়েছে। এটিঃ

  • তারবিহীন বেজ স্টেশনের মডিউলের জন্য উম্মুক্ত ও প্রমিত গঠন নির্ধারন করেছে।
  • বিভিন্ন মডিউলের আকার, ফাংশন ও গঠন নির্ধারন করেছে যাতে বিভিন্ন বিটিএস ভেন্ডরের কাছ থেকে পণ্য কিনলেও বিটিএস-এর কাজে কোন সমস্যা হবে না।
  • বিটিএস-এর বিভিন্ন মডিউলের মধ্যে ডিজিটাল ডাটা আদান প্রদানের জন্য উম্মুক্ত ও প্রমিত ব্যবস্থা নির্ধারন করে দিয়েছে।
  • জিএসএম/এজ, সিডিএমএ২০০০, ডব্লিউসিডিএমএ অথবা আইইইই ৮০২.১৬/ওয়াইম্যাক্স প্রযুক্তি সমর্থন করে।

বিটিএস নির্মাতারা যাতে বিভিন্ন প্রযুক্তি, কনফিগারেশন, ক্ষমতা, নির্ভরযোগ্যতা প্রভৃতির সাথে কম্প্যাটিবিলিটি রাখতে পারেন যেজন্য স্টান্ডার্ড লেখার সময় ফ্লেক্সিবিলিটির প্রতি জোর দেয়া হয়েছে।

বিটিএস গঠন[সম্পাদনা]

ওবিএসএআই

একটি বেজ ট্রানসিভার স্টেশনের (বিটিএস) চারটি অংশ রয়েছেঃ রেডিও ফ্রিকুয়েন্সি ব্লক (আরএফএম), বেজব্যান্ড ব্লক (বিবিএম), কন্ট্রোল অ্যান্ড ক্লকিং ব্লক (সিসিএম) ও ট্রান্সপোর্ট ব্লক (টিএম)। রেডিও ফ্রিকুয়েন্সি মডিউল বাতাস থেকে বেতার তরঙ্গকে ডিজিটাল ডাটায় রুপান্তর করে এবং সেটি বেজব্যান্ড মডিউলকে সরবরাহ করে। বেজব্যান্ড মডিউল সেই ডাটার উপরে ডিজিটাল সিগন্যাল প্রোসেসিং চালায় এবং তথ্যকে ট্রান্সপোর্ট মডিউলের কাছে প্রেরণ করে। ট্রান্সপোর্ট মডিউল সেই তথ্যকে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিনিময় করে। এই তিনটি মডিউলের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ন্ট্রন করার দায়িত্ব সিসিএম-এর।

ওবিএসআই এই সকল মডিউলের মধ্যকার ইন্টারফেসগুলো নির্ধারন করে দিয়েছে। যার ফলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আলাদা আলাদা মডিউল নির্মাণ করতে পারে এবং আন্তপ্রতিষ্ঠানের মডিউলগুলো পরস্পর কম্প্যাটিবল হয়। এভাবে আর্কিটেকচারটি নিম্মের অংশ নিয়ে গঠিতঃ

  • ফাংশনাল ব্লক (পূর্বোক্ত চারটি মডিউল)
  • এক্সটার্নাল নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস। এই ইন্টারফেসটির মাধ্যমেই নির্ধারন হবে বিটিএস ও অপারেটরের মধ্যে কি সম্পর্ক হবে। উদাহরনস্বরুপঃ ৩জিপিপি ব্যবস্থায় রেডিও নেটওয়ার্ক কন্ট্রোলার (আরএনসি) এর সাথে লুব ইন্টারফেস, আইইইই ৮০২.১৬/ওয়াইম্যাক্স ব্যবস্থায় অ্যাকসেস সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক গেটওয়ে (এএসএন গেটওয়ে) এর সাথে আর৬ ইন্টারফেস বা কানেকটিভিটি সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক (সিএসএন) এর সাথে আর৩ ইন্টারফেস ইত্যাদি।
  • বিটিএস ও সাবস্ক্রাইবার ডিভাইসের (মডেমের মত) মধ্যে বাহ্যিক রেডিও ইন্টারফেস। উদাহরনস্বরুপঃ ৩জিপিপি ব্যবস্থায় ইউজার যন্ত্রের সাথে ইউইউ বা ইউএম ইন্টারপফেস এবং আইইইই ৮০২.১৬/ওয়াইম্যাক্স ব্যবস্থায় আর১ ইন্টারফেস।
  • ফাংশনাল ব্লকগুলোর মধ্যকার ইন্টারফেস যা রেফারেন্স পয়েন্ট (আরপি) নামে পরিচিত। আরপি১ সিসিএমের সাথে বাকী তিনটি ব্লকের ইন্টারফেস, আরপি২ ট্রান্সপোর্ট ব্লকের সাথে বেজব্যান্ড ব্লকের ইন্টারফেস এবং আরপি৩ হচ্ছে বেজব্যান্ড ব্লকের সাথে রেডিও মডিউলের সম্পর্ক। এছাড়া আরপি৪ নামে একটি ইন্টারফেস আছে যেটি প্রতিটি মডিউলকে বিদ্যুৎ শক্তি সরবরাহ করে।

বর্তমানে নির্মাতাদের অধিকাংশই কিভাবে কম খরচে আরএফ মডিউল ও পাওয়ার অ্যামপ্লিফায়ার ব্যবহার করা যায় সেটি নিয়েই গবেষণা করছেন। সাধারণত বেজ স্টেশনের ৫০ শতাংশ খরচই এদের পিছনে ব্যয় হয়ে থাকে। এ কারণে অন্যান্য রেফারেন্স পয়েন্টের আগে ওবিএসএআই আরপি৩ নির্ধারন করেছে যাতে আরএফ মডিউল ও পাওয়ার অ্যামপ্লিফায়ার বাজারে আর্কিটেকচারটি জনপ্রিয়তা পেতে পারে।

আরপি৩ ইন্টারফেস[সম্পাদনা]

ওবিএসএআই রেফারেন্স পয়েন্ট ৩ (আরপি৩) স্পেসিফিকেশন বেজব্যান্ড মডিউল ও আরএফ মডিউল এর মধ্যকার ইন্টারফেস নির্ধারন করে। প্রতিটি আরএফ ও বেজব্যান্ডের মাঝে সর্বোচ্চ ৯ জোড়া সংযোগ থাকে।

এই স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী লাইন রেট হবে i*৭৬৮ মেবিট/সে (Mbit/s), i=১, ২, ৪।

এই উচ্চগতির ডাটা ট্রান্সফার সাধারণত বেজব্যান্ড ও আরএফ মডিউলের মধ্যে অপটিক্যাল ফাইবার ইন্টারফেসের মাধ্যমে করা হয়ে থাকে।

সারডিস[সম্পাদনা]

সারডিস একটি সিরিয়ালাইজার/ডিসিরিয়ালাইজার আইসি। সাধারণত উচ্চগতির ডাটা লিংকের শেষ প্রান্তে সারডিস ব্যবহৃত হয়। সারডিসের মাধমে কোন যন্ত্র থেকে প্যারালাল ডাটাকে সিরিয়ালে রুপান্তর করে তারের মাধ্যমে আদান প্রদান করা হয় এবং একই ভাবে সিরিয়াল ডাটাকে প্যারালাল ডাটায় রুপান্তরিত করে মডিউলকে দেয়া হয়। তারের মাধ্যম অপটিক্যাল অথবা ইলেকট্রিক্যাল হতে পারে। সাধারণত লো ভোল্টেজ ডিফারেন্সিয়াল পেয়ার (এলভিডিএস) পদ্ধতিতে ডাটা পাঠানো হয়।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]