এমিল ডুর্খাইম

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
এমিল ডুর্খাইম

ফরাসী সমাজবিজ্ঞানী
জন্ম (১৮৫৮-০৪-১৫)এপ্রিল ১৫, ১৮৫৮
Épinal, France
মৃত্যু নভেম্বর ১৫, ১৯১৭(১৯১৭-১১-১৫) (৫৯ বছর)
Paris, France
নাগরিকত্ব ফরাসী
জাতীয়তা ফরাসী
কর্মক্ষেত্র দর্শন, সমাজবিজ্ঞান, নৃবিজ্ঞান, ধর্মতত্ত্ব
প্রতিষ্ঠান

Université de Bordeaux,

La Sorbonne, Ecoles des Hautes Etudes Internationales et Politiques HEI-HEP
পরিচিতির কারণ সমাজবিজ্ঞান বিধিবদ্ধকরণ
প্রভাবান্বিত ইমানুয়েল কান্ট, Ibn Khaldun, রনে দেকার্ত, প্লেটো, Herbert Spencer, এরিস্টটল, Montesquieu, জঁ-জাক রুসো, ওগুস্ত কোঁত. উইলিয়াম জেমস, John Dewey, চার্লস স্যান্ডার্স পার্স, Fustel de Coulanges
প্রভাব Marcel Mauss, Claude Lévi-Strauss, Talcott Parsons, Maurice Halbwachs, Lucien Lévy-Bruhl, Bronisław Malinowski, Fernand Braudel, Pierre Bourdieu, Charles Taylor, অঁরি বর্গসাঁ, Emmanuel Levinas, Steven Lukes, Alfred Radcliffe-Brown, E. E. Evans-Pritchard, Mary Douglas, Paul Fauconnet, Robert Bellah, Ziya Gökalp, David Bloor, Randall Collins, Jonathan Haidt

ডেভিড এমিল ডুর্খাইম ছিলেন একজন ফরাসী সমাজবিজ্ঞানী। তিনি সমাজবিজ্ঞানকে একটি বিধিবদ্ধ একাডেমিক বিষয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি, মাক্স ভেবারকার্ল মার্ক্সকে একত্রে সামাজিক বিজ্ঞানের মূল স্থপতি ও সমাজবিজ্ঞানের জনক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।[১][২]

আধুনিক যুগে যেখানে পূর্বতন সামাজিক ও ধর্মীয় বন্ধনগুলো আর টিকে থাকতে পারছেনা এবং নতুন নতুন সামাজিক প্রতিষ্টান গড়ে উঠছে, সেই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কিভাবে সামাজিক ঐক্য ও সঙ্গতি বজায় রাখা যায়, সেটাই ছিল ডুর্খাইমের রচনার মূল লক্ষ্য। ১৮৯৫ সালে তিনি তার প্রথম উল্লেখযোগ্য সমাজবৈজ্ঞানিক গ্রন্থ সমাজের শ্রমবিভাগ রচনা করেন। দুই বছর পর তিনি সমাজবৈজ্ঞানিক পদ্ধতির বিধিমালা পুস্তকটি প্রকাশ করেন এবং ইউরোপের প্রথম সমাজবিজ্ঞান বিভাগ চালু করে ফ্রান্সের প্রথম সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক হন।[৩] ১৮৯৮ সালে তিনি L'Année Sociologique নামক একটি একাডেমিক জার্নাল প্রতিষ্টা করেন। ডুর্খাইম ক্যাথলিক ও প্রোটেস্টেন্ট খ্রিষ্টানদের মধ্যে আত্মহত্যার হার নিয়ে সুইসাইড বা আত্মহত্যা (১৮৯৭) নামক একটি গবেষণাগ্রন্থ রচনা করেন। এটি আধুনিক সামাজিক গবেষণার সূচনা করে এবং সামাজিক বিজ্ঞানকে মনোবিজ্ঞানরাজনৈতিক দর্শন থেকে পৃথক বিষয় হিসেবে প্রতিষ্টা করতে ভূমিকা রাখে। তার রচিত ধর্মীয় জীবনের মৌলিক গঠন (১৯১২)- এ তিনি আধুনিক ও আদিবাসী সমাজের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের তুলনা করে ধর্মের একটি তত্ত্ব উপস্থাপন করেন।

ডুর্খাইম সমাজবিজ্ঞানকে একটি বিধিবদ্ব বিজ্ঞান হিসেবে প্রতিষ্টা করতে চেয়েছিলেন। ওগুস্ত কোঁত এর দৃষ্টবাদকে তিনি পরিশীলিত করেন। সামাজিক বিজ্ঞানে জ্ঞানতাত্ত্বিক বাস্তববাদী দর্শন ও হাইপোথেটিক-ডিডাক্টিভ মডেল নামক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহারেও তিনি উৎসাহিত করেন। তার মতে, সমাজবিজ্ঞান হচ্ছে সামাজিক প্রতিষ্টান সমূহের বিজ্ঞান, যার মূল লক্ষ্য হচ্ছে সংগঠিত সামাজিক বাস্তবতাকে তুলে ধরা। তিনি সমাজবিজ্ঞান ও নৃবিজ্ঞানের মৌলিক ভিত্তি হিসেবে স্ট্রাকচারাল-ফাংশনালিজম কে প্রতিষ্টা করতেও প্রধান ভূমিকা রাখেন। তার মতে, একটি সামাজিক বিজ্ঞান হিসেবে সমাজবিজ্ঞানের সর্বব্যাপী হওয়া উচিৎ, অর্থাৎ সমাজবিজ্ঞানের উচিৎ ব্যাক্তিগত নির্দিষ্ট কার্যাবলী নিয়ে সীমাবদ্ধ না থেকে বরং সমাজকে পূর্ণাঙ্গরূপে পর্যালোচনা করা।

১৯১৭ সালে মৃত্যুর আগপর্যন্ত তিনি ফরাসী বৌদ্ধিক সমাজের একজন কেন্দ্রীয় চরিত্র ছিলেন। জ্ঞানের সমাজবিদ্যা, নৈতিকতা, সামাজিক স্তরবিন্যাস, ধর্ম, আইন, শিক্ষাসামাজিক বিচ্যুতি প্রভৃতি বিষয়ে তিনি অসংখ্য বক্তৃতা ও রচনা লিখেছেন। "সমষ্টিগত চেতনা"র মতো ডুর্খাইমীয় শব্দগুলোও সেই থেকে জনপ্রিয় অভিধানে যুক্ত হয়েছে।[৪]

নির্বাচিত রচনাবলী[সম্পাদনা]

  • Montesquieu's contributions to the formation of social science (১৮৯২)
  • The Division of Labour in Society (১৮৯৩)
  • The Rules of Sociological Method (১৮৯৫)
  • On the Normality of Crime (১৮৯৫)
  • Suicide (১৮৯৭)
  • The Prohibition of Incest and its Origins (১৮৯৭), L'Année Sociologique এ প্রকাশিত, ভলিউম. ১, পৃষ্টাঃ ১–৭০
  • Sociology and its Scientific Domain (১৯০০), "La sociologia e il suo dominio scientifico" নামক ইতালিয় রচনার অনুবাদ
  • The Elementary Forms of the Religious Life (১৯১২)
  • Who Wanted War? (১৯১৪), আর্নেস্ট ডেনিস এর সাথে মিলিতভাবে
  • Germany Above All (১৯১৫)

মৃত্যুর পর প্রকাশিত:

  • Education and Sociology (১৯২২)
  • Sociology and Philosophy (১৯২৪)
  • Moral Education (১৯২৫)
  • Socialism (১৯২৮)
  • Pragmatism and Sociology (১৯৫৫)

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Craig J. Calhoun (2002)। Classical sociological theory। Wiley-Blackwell। পৃ: 107। আইএসবিএন 978-0-631-21348-2। সংগৃহীত 19 March 2011 
  2. Kim, Sung Ho (2007). "Max Weber". Stanford Encyclopedia of Philosophy (August 24, 2007 entry) http://plato.stanford.edu/entries/weber/ (Retrieved 17-02-2010)
  3. Kenneth Allan; Kenneth D. Allan (2 November 2005)। Explorations in Classical Sociological Theory: Seeing the Social World। Pine Forge Press। পৃ: 104। আইএসবিএন 978-1-4129-0572-5 
  4. Simpson, George (Trans.) in Durkheim, Emile "The Division of Labour in Society" The Free Press, New York, 1993. p. ix

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

এমিল ডুর্খাইম সম্পর্কে আরও তথ্য পেতে হলে উইকিপিডিয়ার সহপ্রকল্পগুলোতে অনুসন্ধান করে দেখতে পারেন:

Wiktionary-logo-en.svg সংজ্ঞা, উইকিঅভিধান হতে
Wikibooks-logo.svg পাঠ্যবই, উইকিবই হতে
Wikiquote-logo.svg উক্তি, উইকিউক্তি হতে
Wikisource-logo.svg রচনা সংকলন, উইকিউৎস হতে
Commons-logo.svg ছবি ও অন্যান্য মিডিয়া, কমন্স হতে
Wikivoyage-Logo-v3-icon.svg ভ্রমণ নির্দেশিকা, উইকিভয়েজ হতে
Wikinews-logo.png সংবাদ, উইকিসংবাদ হতে

টেমপ্লেট:Positivism