এবি ডি ভিলিয়ার্স

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
এবি ডি ভিলিয়ার্স
AB de Villiers glove.jpg
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নাম আব্রাহাম বেঞ্জামিন ডি ভিলিয়ার্স
জন্ম (১৯৮৪-০২-১৭) ১৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৪ (বয়স ৩১)
প্রিটোরিয়া, ট্রান্সভাল প্রদেশ, দক্ষিণ আফ্রিকা
ডাকনাম এবি, মি. ৩৬০, এবিডি
উচ্চতা ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি (১.৭৮ মিটার)
ব্যাটিংয়ের ধরণ ডানহাতি
বোলিংয়ের ধরণ ডানহাতি মিডিয়াম
ভূমিকা উদ্বোধনী/মধ্যমসারির ব্যাটসম্যান, উইকেট-রক্ষক, দক্ষিণ আফ্রিকার ওডিআই এবং টি২০ অধিনায়ক
সম্পর্ক ড্যানিয়েল ডি ভিলিয়ার্স (স্ত্রী)
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক (ক্যাপ ২৯৬) ১৭ ডিসেম্বর ২০০৪ বনাম ইংল্যান্ড
শেষ টেস্ট ২ জানুয়ারি ২০১৫ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
ওডিআই অভিষেক (ক্যাপ ৭৮) ২ ফেব্রুয়ারি ২০০৫ বনাম ইংল্যান্ড
শেষ ওডিআই ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
ওডিআই শার্ট নং ১৭
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছর দল
২০০৩-২০০৪ নর্দান্স
২০০৪– টাইটান্স (দল নং ১৭)
২০০৮-২০১০ দিল্লি ডেয়ারডেভিলস
২০১১-বর্তমান রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর
কর্মজীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই টি২০আই এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৯৮ ১৮২ ৫৭ ১২৪
রানের সংখ্যা ৭,৬০৬ ৭,৬৭৬ ১,০০৭ ৯,৪৯৩
ব্যাটিং গড় ৫২.০৯ ৫২.৯৩ ২২.৩৭ ৫১.০৩
১০০/৫০ ২১/৩৬ ২০/৪৩ ০/৫ ২৪/৫০
সর্বোচ্চ রান ২৭৮* ১৬২* ৭৯* ২৭৮*
বল করেছে ২০৪ ৯৬ - ২৩৪
উইকেট
বোলিং গড় ৫২.০০ ৩৫.০০ ৬৯.০০
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ২/৪৯ ২/২৮ - ২/৪৯
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১৮৪/৪ ১৫৪/৫ ৫২/৬ ২৩৫/৫
উত্স: ক্রিকইনফো, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

আব্রাহাম বেঞ্জামিন ডি ভিলিয়ার্স (ইংরেজি: Abraham Benjamin de Villiers; জন্ম: ১৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৪) দক্ষিণ আফ্রিকার ট্রান্সভাল প্রদেশের প্রিটোরিয়ায় জন্মগ্রহণকারী দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় ক্রিকেট দলের একজন খেলোয়াড়। সংক্ষেপে তিনি এবি ডাকনামে দলীয় খেলোয়াড়দের কাছে পরিচিত। একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দক্ষিণ আফ্রিকা দলের বর্তমান দলপতি। এছাড়া, টুয়েন্টি২০ দক্ষিণ আফ্রিকা দলেরও অধিনায়ক ছিলেন।[১] ২০১১ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেটের পর তিনি গ্রেইম স্মিথের কাছ থেকে দলের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর দলেও নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন এবি ডি ভিলিয়ার্স

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

তার মাতার নাম মিলি। তিনি রিয্যাল এস্টেট কোম্পানীতে চাকুরী করেন। তার বাবার আব্রাহাম পি ডি ভিলিয়ার্স একজন ডাক্তারজান এবং ওয়েসেলস নামীয় দুই ভাই রয়েছে। শৈশবে তাদের সাথে নিয়ে মার্টিন ভ্যান জারসভেল্ড নামীয় দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটারের সাথে খেলেছেন। তিনি আফ্রিকান্স হোয়ের সিয়ানস্কুল বা বালকদের জন্যে আফ্রিকানস হাইস্কুল যেটি আফিস নামে পরিচিত, প্রিটোরিয়ার অত্যন্ত জনপ্রিয় সরকারী বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। জ্যাকুয়েস রুডল্ফ, হিনো কান এবং ফ্রাঙ্কোইজ দু প্লেসিস তার সহপাঠী ছিল যারা পরবর্তীতে টাইটান্স ও দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষ হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছে।

খ্রিষ্টান ধর্মে দীক্ষিত তিনি। জীবনধারনে তিনি তার এ বিশ্বাসকে ব্যাপকভাবে আঁকড়ে ধরে রেখেছেন। তিনি বলেছিলেন,[২]

প্রভু যীশু আমার জীবনের প্রতিটি কোণায় বহমান। তিনি মহামানব। ... তাঁর প্রতি আমার অগাধ আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে, যা আমার নিজ দলের চেয়েও বড়। তাঁকেই প্রাধান্য দিব আমি।

খেলোয়াড়ী জীবন[সম্পাদনা]

ডি ভিলিয়ার্স ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে অত্যন্ত স্বল্প সময় নিয়ে ব্যাটিং করে থাকেন। ইতিমধ্যেই টেস্ট ক্রিকেটে ১৩টি সেঞ্চুরি এবং ২৯ অর্ধ-শতকের অধিকারী হয়েছেন। সবচেয়ে বেশী ৭৮ টেস্ট ইনিংস খেলে কোনরূপ শূন্য রান করেননি তিনি যা একটি রেকর্ডরূপে চিহ্নিত। নভেম্বর, ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ দলের বিপক্ষে টেস্টে অংশ নিয়ে তার এ রেকর্ডটি ভেঙ্গে যায়।[৩]

২০১১-১২ দক্ষিণ আফ্রিকার গ্রীষ্মকালে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিজেকে মেলে ধরেন ডি ভিলিয়ার্স। তৃতীয় ও শেষ টেস্টে অপরাজিত ১৬৫* রান করে দলকে সিরিজ জেতাতে সহায়তা করেন। ১১৭.৬৬ গড়ে ৩৫৩ রান করে ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি।[৪] তারপর তিনি একদিনের আন্তর্জাতিক দলের অধিনায়ক হিসেবে নিযুক্ত হন। ১১ জানুয়ারি, ২০১২ সালে প্রথম খেলায় অধিনায়কের দায়িত্ব নিয়ে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা শোচনীয় পরাজয়।[৫] পার্লে অনুষ্ঠিত এ খেলায় দক্ষিণ আফ্রিকা ২৫৮ রানের ব্যবধানে জয়ী হয় যা দু'টি টেস্টভূক্ত দলের মধ্যকার সর্বাপেক্ষা বৃহৎ ব্যবধানের জয়।[৬] ওডিআই সিরিজ জয়সহ ডি ভিলিয়ার্স ব্যক্তিগত নৈপুণ্যও প্রদর্শন করেন। ১০৯.৬৬ গড়ে ৩২৯ করে ম্যান অব দ্য সিরিজ নির্বাচিত হন।[৭] এ রানের মধ্যে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত ৫ম ও চূড়ান্ত খেলায় অপরাজিত ১২৫* রান করেছিলেন।[৮]

ক্রিকেট বিশ্বকাপ[সম্পাদনা]

৭ জানুয়ারি, ২০১৫ তারিখে ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকা কর্তৃপক্ষ ২০১৫ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপের জন্য তাদের পরিচালনাধীন দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দলের ১৫-সদস্যের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করে।[৯] প্রতিযোগিতায় ভিলিয়ার্সকে অধিনায়কত্ব প্রদান করা হয়। ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ তারিখে গ্রুপ পর্বের তৃতীয় খেলায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বিপক্ষে তার অসাধারণ ক্রীড়ানৈপুণ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা ৪০৮/৫ সংগ্রহ করে। সিডনিতে অনুষ্ঠিত খেলায় তিনি একদিনের আন্তর্জাতিকের ইতিহাসে দ্রুততম ১৫০ রান সংগ্রহ করেন মাত্র ৬৪ বল মোকাবেলা করে।[১০] এছাড়াও তার এ সংগ্রহটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরি।[১১] শেষ ৫ ওভারে তিনি ৭৩ রান তোলেন যা এ সময়ের যে-কোন ব্যাটসম্যানের মধ্যে সর্বাধিক।[১১] এরফলে তার দল ২৫৭ রানের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়ে ২০০৭ সালে বারমুদার বিপক্ষে জয়ী ভারত দলের সমকক্ষ হয়।[১২] ৬৬ বলে তিনি অপরাজিত ১৬২* করে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

সাফল্যগাঁথা[সম্পাদনা]

৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ তারিখে ওয়ান্ডেরার্সে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্ট খেলা শেষে বৃহদাকৃতির ইলেকট্রনিক স্কোরকার্ড প্রদর্শিত হয়:

"এবি ডি ভিলিয়ার্স একটি টেস্ট ম্যাচে সর্বাধিক আউট করে এখন বিশ্বরেকর্ডের সমান অংশীদার। বর্তমানে আরসি রাসেল ১৯৯৫/৯৬ মৌসুমে জোহানেসবার্গে ইংল্যান্ড বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার খেলায় ১১টি আউট করে এ রেকর্ডটি গড়েছিলেন।"[১৩] এছাড়াও তিনি দ্বিতীয় ইনিংসে ১০৭ বলে অপরাজিত ১০৩ রান করেন। এরফলে তিনি প্রথম উইকেট-রক্ষক হিসেবে এক টেস্টে সেঞ্চুরিসহ দশটি আউট করেন।[১৪]

১৮ মার্চে অনুষ্ঠিত তৃতীয় একদিনের আন্তর্জাতিকে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাকিস্তান দলের সফরে জোহানেসবার্গে হাশিম আমলার সাথে তৃতীয় উইকেট জুটিতে রেকর্ডসংখ্যক ২৩৮ রান করেন। ডি ভিলিয়ার্স করেছিলেন ১২৮ রান, যাতে ১২টি চার ও ৩টি ছক্কার মার ছিল।[১৫]

১৪ নভেম্বর, ২০১৪ তারিখে অস্ট্রেলিয়া সফরে অনুষ্ঠিত প্রথম ওয়ান-ডে ম্যাচে একদিনের আন্তর্জাতিকের ইতিহাসে সবচেয়ে কম ওডিআই খেলে এবি ডি ভিলিয়ার্স ৭,০০০ রান সংগ্রহ করেন।[১৬] ঐ খেলায় তিনি ৭৬ বলে ৮০ রান সংগ্রহ করলেও স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া ৩২ রানে জয়লাভ করে।

২০১৫ সালের ১৮ জানুয়ারি তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসের দ্রুততম সেঞ্চুরি করেন , তিনি সেঞ্চুরি করতে মাত্র ৩১ বল খেলেন| এছাড়া এই ম্যাচেই ১৬ বলে ওয়ানডে ইতিহাসের দ্রুততম হাফ সেঞ্চুরিও করেন|

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. http://www.espncricinfo.com/southafrica/content/current/story/517977.html। সংগৃহীত 6 June 2011  |title= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য)
  2. "No fear". Keo.co.za. Retrieved 2012-10-04.
  3. Players Batting 30 Innings before First Duck Retrieved on 27 November 2008
  4. "South Africa complete long-awaited series win". www.cricket365.com. 6 January 2012. Retrieved 7 January 2012.
  5. Ravindran, Siddarth (11 January 2012). "Sri Lanka dismantled in Paarl". ESPNcricinfo. Retrieved 11 January 2012.
  6. "Records / One-Day Internationals / Team records / Largest margin of victory (by runs)". ESPNcricinfo. Retrieved 11 January 2012.
  7. "Records / Sri Lanka in South Africa ODI Series, 2011/12 / Most runs". ESPNcricinfo. Retrieved 22 January 2012.
  8. "Sri Lanka tour of South Africa, 5th ODI: South Africa v Sri Lanka at Johannesburg, Jan 22, 2012: Scorecard". ESPNcricinfo. Retrieved 22 January 2012.
  9. Moonda, Firdose। "South Africa Gamble on Quinton de Kock"ESPNCricinfo। ESPN। সংগৃহীত 7 January 2015 
  10. "De Villiers 162* off 66, WI 151 all out"ESPNcricinfo। ESPN Sports Media। সংগৃহীত 27 February 2015 
  11. ১১.০ ১১.১ "AB De Villiers hits fastest ODI 150 in South Africa World Cup win"। BBC Sport। 27 February 2015। সংগৃহীত 27 February 2015 
  12. "15 overs, 222 runs"ESPNcricinfo। ESPN Sports Media। সংগৃহীত 27 February 2015 
  13. SuperSport channel 202 live television coverage by satellite on 4 February 2013.
  14. http://ibnlive.in.com/news/cricketnext/ab-de-villiers-equals-wicketkeeping-record/370754-78.html?from=HP
  15. http://www.espncricinfo.com/south-africa-v-pakistan-2013/content/current/story/625466.html
  16. "Michael Clarke suffers new hamstring injury in Australia win"BBC Sport। সংগৃহীত 14 November 2014 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]