ঋষভ (জৈন তীর্থঙ্কর)
| ঋষভ প্রথম জৈন তীর্থঙ্কর |
|
|---|---|
বিবরোদ তীর্থের মন্দিরে ঋষভের মূর্তি |
|
| বিস্তারিত তথ্য | |
| অপর নাম: | আদিনাথ |
| ঐতিহাসিক তারিখ: | প্রাগৈতিহাসিক |
|
|
|
| পিতা: | নাভিরাজা |
| মাতা: | মরুদেবী |
| বংশ: | ইক্ষবাকু |
|
|
|
| জন্ম: | অযোধ্যা |
| নির্বাণ: | কৈলাস পর্বত |
|
|
|
| বর্ণ: | স্বর্ণালি |
| প্রতীক: | ষাঁড় |
| উচ্চতা: | ৫০০ ধনুষ (১,৫০০ মিটার) |
| মৃত্যুকালে বয়স: | ৮,৪০০,০০০ পূর্ব (৫৯২,৭০৪,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০ বছর) |
|
|
|
| যক্ষ: | গৌমুখ |
| যক্ষিণী: | চকেশ্বরী |
জৈনধর্মে ঋষভদেব (দেবনাগরী: ऋषभदेव) বা আদিনাথ (দেবনাগরী: आदिनाथ) ছিলেন প্রথম তীর্থঙ্কর। তাঁর অপরাপর নামগুলি হল ঋষভ, আদিশ্বর বা কেসরিয়াজি। তিনি সূর্যবংশীয় ইক্ষবাকু বংশে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।[১]
জৈন বিশ্বাস অনুসারে, ঋষভ বর্তমান যুগের (অবসরপিনি) প্রথম তীর্থঙ্কর। এই কারণে তাঁর অপর নাম আদিনাথ। তিনি আত্মার সকল কর্ম নাশ করে এক মুক্ত আত্মা সিদ্ধে পরিণত হয়েছিলেন।
জীবনোপাখ্যান[সম্পাদনা]
জৈন উপাখ্যান অনুসারে, সুষমদুঃষম যুগে সর্বার্থসিদ্ধি নামক বিমান থেকে উত্তরাষাঢ়া নক্ষত্রে ধনুরাশিতে চৈত্র কৃষ্ণ অষ্টমী তিথিতে ইক্ষ্বাকু বংশীয় রাজা নাভির ঔরসে রানি মেরুদেবীর গর্ভে ঋষভের জন্ম হয়। জন্মস্থান বিনীতা (বর্তমান অযোধ্যা)। গর্ভকালে মেরুদেবী একটি ঋষভ অর্থাৎ ষাঁড়ের স্বপ্ন দেখেছিলেন বলে তাঁর এই নামকরণ করা হয়। এঁর চিহ্নও তাই ষাঁড়। ইক্ষুরস পান করে ঋষভ চৈত্র অষ্টমীতে দীক্ষালাভ করেন। ঋষভের গুরু শ্রেয়াংশ। ইনি বটবৃক্ষের নিচে সিদ্ধিলাভ করেছিলেন এবং কৈলাস শিখরে মহানির্বাণ লাভ করেন।[১] জৈন বিশ্বাস অনুযায়ী, ঋষভ সভ্যতার সূচনার পূর্বে বর্তমান ছিলেন। তিনিই মানবজাতিকে কৃষিকাজ, পশুপালন, রান্না ও অন্যান্য কাজ শেখান। তাঁর ১০১ পুত্র (যাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ভরত চক্রবর্তী ও বাহুবলী) এবং ভ্রমী ও সুন্দরী নামে দুই কন্যা ছিল।
তাঁর জ্যৈষ্ঠ পুত্র ভরত একজন চক্রবর্তী (বিশ্ববিজয়ী সার্বভৌম) সম্রাট হয়েছিলেন। পরবর্তী জীবনে তিনি রাজকার্য পরিত্যাগ করে সন্ন্যাস গ্রহণ করেন এবং মোক্ষলাভ করেন। এরপর সিদ্ধে পরিণত হলে তিনি সর্বজনপূজ্য জন। জৈন বিশ্বাস অনুযায়ী, তাঁর নাম অনুসারেই ভারতবর্ষ নামটির উৎপত্তি। কথিত আছে, চক্রবর্তী সম্রাট হওয়ার লক্ষ্যে তিনি তাঁর ভ্রাতা বাহুবলীকে বলেন তাঁকে রাজা ও রক্ষক হিসেবে মেনে নিতে। বাহুবলী অসম্মত হলে দুই জনে যুদ্ধে অবতীর্ণ হন। দুই পক্ষের জ্ঞানী ব্যক্তিরা রক্তপাত এড়াবার জন্য দুই রাজাকে সেনাবাহিনী ছাড়াই একক যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার পরামর্শ দেন। তখন ভরত ও বাহুবলী পরস্পর মল্লযুদ্ধে অবতীর্ণ হন। কিন্তু তারপরেই ঋষভের পুত্রের পক্ষে জ্যৈষ্ঠ ভ্রাতাকে মল্লযুদ্ধে আঘাত ও হত্যা করা শোভা পায় না, এই মনে করে তিনি আত্মসংবরণ করেন।
হিন্দুধর্মে ঋষভ[সম্পাদনা]
| আরও দেখুন: ঋষভ (হিন্দু ঋষি) |
হিন্দু ধর্মগ্রন্থ ভাগবত পুরাণে ঋষভকে বিষ্ণুর এক অবতার রূপে বর্ণনা করা হয়েছে।[২] বৈষ্ণব ও শৈব পুরাণগ্রন্থ সহ অন্যান্য কিছু শাস্ত্রগ্রন্থেও ঋষভের উল্লেখ রয়েছে।
ভাগবতে বর্ণিত উপাখ্যান অনুসারে, জগতকে মুক্তির পথ দর্শানোর উদ্দেশ্যেই ঋষভের জন্ম হয়। তিনি জাগতিক কামনাবাসনায় আত্মনিয়োগের পরিবর্তে মানুষকে ঈশ্বরের পথ অবলম্বনের উপদেশ দিতেন। তিনিই ছিলেন শ্রমণ সংস্কৃতির প্রবর্তক ও প্রচারক।
ভাগবত পুরাণে উদ্ধৃত হয়েছে:[৩]
- অষ্টমে মেরুদেব্যাং তু নাভের্জাত উরুক্রমঃ। দর্শয়ন বর্ম ধীরাণাং সর্বাশ্রমনমস্কৃতম্
- (अष्टमे मेरुदेव्यां तु नाभेर्जात उरूक्रमः. दर्शयन वर्म धीराणां सर्वाश्रमनमस्कृतम्)
- নাভির পত্নী মেরুদেবীর গর্ভে অষ্টম অবতার ঋষভের জন্ম। তিনি সকল আশ্রমের (জীবনের পর্যায়) মানুষদের নিকট পূজ্য হন।
ভাগবত পুরাণে তাঁকে "শরীর মাত্র পরিগ্রহ" ("शरीर मात्र परिग्रह", যাঁর সম্পদ কেবলমাত্র নিজদেহখানি), "গগন পরিধানঃ" ("गगन परिधानः", দিগম্বর) ও "বাতরশতা" ("वातरशना", বায়ু পরিধান যাঁর) নামে অভিহিত করা হয়েছে।
পাদটীকা[সম্পাদনা]
- ↑ ১.০ ১.১ অমলকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়, পৌরাণিকা: বিশ্বকোষ হিন্দুধর্ম, প্রথম খণ্ড, ফার্মা কেএলএম প্রাঃ লিঃ, কলকাতা, ২০০১, পৃ. ২৫৪-৫৫
- ↑ Jina Ṛṣabha as an "Avatāra" of Viṣṇu, by Padmanabh S. Jaini, Bulletin of the School of Oriental and African Studies, University of London, 1977, p. 321-337
- ↑ http://www.vedabase.net/sb/5/6/9/en Srimad Bhagvatam Canto 5, Chapter 6, Verse 9
|
|||||