উলুগ বেগ
|
|
এই নিবন্ধটিতে কোনো উৎস বা তথ্যসূত্র উদ্ধৃত করা হয়নি। দয়া করে উপযুক্ত নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র থেকে উৎস প্রদান করে নিবন্ধটির মানোন্নয়নে সাহায্য করুন। (সাহায্যের জন্য দেখুন: যাচাইযোগ্যতা) নিবন্ধের যেসব অংশে সঠিক তথ্যসূত্রের উল্লেখ নেই, সেগুলি যেকোনো মুহূর্তে সরিয়ে ফেলা হতে পারে। (মার্চ ২০১০) |
উলুগ বেগ মির্জা মোহাম্মদ তারেঘ বিন শাহরুখ (উলুগ বেগ) (১৩৯৩ বা ১৩৯৪ - অক্টোবর ২৭, ১৪৪৯) ছিলেন তিমুরীদ বংশীয় সুলতান এবং একজন প্রখ্যাত জ্যোতির্বিদ ও গণিতবিদ। "উলুগ বেগ" ছিল তাঁর উপাধি যার অর্থ করা যেতে পারে "মহান শাসক"। জ্যোতির্বিদ্যা সম্পর্কিত গণিতের নানা বিভাগে -যেমন ত্রিকোণমিতি (trigonometry) বা গোলকীয় জ্যামিতি (spherical geometry) - তাঁর অবদানের জন্য তিনি বিখ্যাত।
জীবনী[সম্পাদনা]
উলুগ বেগ ছিলেন মধ্য এশিয়ার দিগ্বিজয়ী তৈমুর লঙের (১৩৩৬ – ১৪০৫) পৌত্র এবং তাঁর চতুর্থ পুত্র শাহ রুখের জ্যেষ্ঠ পুত্র। তাঁরা ছিলেন ট্রান্সঅক্সিয়ানা অঞ্চলে (তৎকালীন পারস্যদেশ বা ইরান, বর্তমানে উজবেকিস্তান) বসবাসকারী মোঙ্গল বারলাস উপজাতিভুক্ত চাঘতাই তুর্কী। উলুগ বেগের মা গওহরশাদ ছিলেন পারসিক সম্ভ্রান্তবংশীয়া। তৈমুরের মতই উলুগ বেগ ছিলেন মোগল বা মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা বাবরের পূর্বপুরুষ। উলুগ বেগের জন্ম হয় ইরানের সুলতানিয়া শহরে । ছেলেবেলা থেকেই পিতামহের সাম্রাজ্য সম্প্রসারনের সাথেসাথে উলুগ বেগ মধ্য এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ঘুরে বেড়াতেন। তৈমুরের মৃত্যুর পরে, যখন শাহ রুখ সাম্রাজ্যের বড় অংশের উত্তরাধিকারী হন, উলুগ বেগ সমরকন্দে বসবাস শুরু করেন। পরবর্তী কালে শাহ রুখ তাঁর রাজধানী হেরাতে (বর্তমানে আফগানিস্তানে) স্থানান্তরিত করেন এবং উলুগ বেগ ষোল বছর বয়সে সমরকন্দের মুখ্য প্রশাসক নিযুক্ত হন (১৪০৯) । ১৪১১ সালে তিনি সমগ্র ট্রান্সঅক্সিয়ানা অঞ্চলের অধীশ্বর হন ।
বিজ্ঞানে সাফল্য পেলেও প্রশাসক হিসেবে উলুগ বেগ দক্ষ ছিলেন না। বেশ কটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধে তিনি পরাজিত হন। শেষে ১৪৪৯ সালে উলুগ বেগের জ্যেষ্ঠ পুত্র আব্দ আল-লতিফ সাম্রাজ্য দখলের লড়াইয়ে পিতাকে পরাজিত এবং হত্যা করেন। বাবর তাঁর রাজত্বকালে উলুগ বেগের দেহাবশেষ সমরকন্দে তৈমুরের সমাধিস্থলে স্থানান্তরিত করেন।
উলুগ বেগের স্থাপত্যকীর্তি[সম্পাদনা]
উলুগ বেগের নির্দেশে একটি মাদ্রাসা এবং একটি খানাকা সমরকন্দের রেজিস্তান স্কোয়্যারে মুখোমুখি নির্মীত হয় আরো বড় স্থাপত্যের অংশ হিসেবে যার মধ্যে ছিল কিছু মসজিদ, একটি কারাভানসরাই এবং একটি বাজার। এর মধ্যে বর্তমানে শুধু বিশালকায় মাদ্রাসাটি দাঁড়িয়ে আছে । খানাকার জমিতে সপ্তদশ শতাব্দীতে নির্মীত হয় শির দর মাদ্রাসা ।
উলুগ বেগ শিক্ষার প্রসারের জন্যে আরো দুটি মাদ্রাসা নির্মান করান । একটি বুখারায় - উলুগ বেগ মাদ্রাসা, অন্যটি গিজদুভনে । সমরকন্দের মাদ্রাসাটিই সবথেকে বড় এবং স্থাপত্যের অসাধারণ নিদর্শন। শিক্ষার উৎকর্ষের দিক দিয়েও এই মাদ্রাসা ছিল প্রথম সারিতে । সপ্তদশ শতকের শেষভাগ পর্যন্ত মাদ্রাসাটি চালু ছিল, পরবর্তী এক শতক ধরে এটি শস্যশালা হয়ে থাকে। বিংশ শতকের প্রথম ভাগ থেকে আবার এখানে শিক্ষাদান শুরু হয় ।
উলুগ বেগ ইসলামীয় সভ্যতার প্রাচীনতম মানমন্দিরের একটি নির্মান করান। এটি অবস্থিত সমরকন্দের শহরাঞ্চল ছাড়িয়ে চুপান-আতা সমভূমিতে, প্রাচীন আফ্রাসিয়াব শহরের ধ্বংসস্তুপের মধ্যে । ১৯০৮ সালে রুশ প্রত্নতাত্ত্বিক ভ্লাদিমির ভিয়াৎকিন (Vladimir Viatkin)এই গোলাকার ত্রিতল মানমন্দিরের ভিত এবং মর্মর পাথরের এক বৃহদাকার সেক্সট্যান্টের মাটিতে প্রোথিত অংশ খুঁড়ে বের করেন। গিয়াস আল-দিন জামশেদ কাশি এবং কাজি-জাদেহ রুমির মত প্রথিতযশা জ্যোতির্বিদেরা এখানে কাজ করেছেন। ১৪৪৯ সালে উলুগ বেগের হত্যার পরে মানমন্দিরটি ধ্বংস করে ফেলা হয়।
এর আগে নাসির আল-দিন তুসি (১২০১-১২৭৪) ইরানের মারাঘে শহরে ১২৫৮ সালে হুলাগু খানের (১২১৭-১২৬৫) অর্থানুকূল্যে একটি মানমন্দির নির্মান করান। উলুগ বেগের মানমন্দিরটির পরিকল্পনায় এবং যন্ত্রপাতির সন্নিবেশে তুসির মানমন্দিরটির প্রভাব পড়ে।
বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]
| এই নিবন্ধটি অসম্পূর্ণ। আপনি চাইলে এটিকে সমৃদ্ধ করে উইকিপিডিয়াকে সাহায্য করতে পারেন। |