উজবেকিস্তান
| O‘zbekiston Respublikasi এ্যজ়্বেকিস্তন্ রেস্পুব্লিকাসি উজবেকিস্তান প্রজাতন্ত্র
|
||||||
|---|---|---|---|---|---|---|
|
|
||||||
| জাতীয় সঙ্গীত National Anthem of the Republic of Uzbekistan |
||||||
| রাজধানী (ও বৃহত্তম নগরী) |
তাশখন্দ 41°16′N 69°13′E / 41.267°উ 69.217°পূ |
|||||
| রাষ্ট্রীয় ভাষাসমূহ | উজবেক ও রুশ | |||||
| জাতীয়তাসূচক বিশেষণ | উজবেকিস্তানী[১] | |||||
| সরকার | প্রজাতন্ত্র | |||||
| - | রাষ্ট্রপতি | ইসলম ক্যারিমভ | ||||
| - | প্রধানমন্ত্রী | শ্যাভক্যাত মিরজিয়য়েভ | ||||
| Independence | সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে | |||||
| - | Formation | 17471 | ||||
| - | Declared | September 1 1991 | ||||
| - | Recognized | December 8 1991 | ||||
| - | Completed | December 25 1991 | ||||
| আয়তন | ||||||
| - | মোট | ৪৪৭ বর্গকি.মি. (56th) ১৭২ বর্গমাইল |
||||
| - | জলভাগ (%) | 4.9 | ||||
| জনসংখ্যা | ||||||
| - | July 2005 আনুমানিক | 26,593,000 (44th) | ||||
| - | ঘনত্ব | 59/বর্গ কিলোমিটার ১৫৩/বর্গমাইল |
||||
| জিডিপি (পিপিপি) | 2005 আনুমানিক | |||||
| - | মোট | $50.395 billion (74th) | ||||
| - | মাথাপিছু | $2,283 (145th) | ||||
| জিনি (2000) | 26.8 (low) | |||||
| এইচডিআই (2007) | 0.702 (medium) (113th) | |||||
| মুদ্রা | Uzbekistan som (Uzbekiston so'mi) (UZS) |
|||||
| সময় স্থান | UZT (ইউটিসি+5) | |||||
| - | গ্রীষ্মকালীন (ডিএসটি) | not observed (ইউটিসি+5) | ||||
| ইন্টারনেট টিএলডি | .uz | |||||
| কলিং কোড | 998 | |||||
| ১ | As Bukharian Emirate, Kokand Khanate, Khwarezm. | |||||
উজবেকিস্তান (উজবেক ভাষায় O‘zbekiston এ্যজ়্বেকিস্তন্) মধ্য এশিয়ার একটি প্রজাতন্ত্র। এর পশ্চিম ও উত্তরে কাজাকিস্তান, পূর্বে কিরগিজস্তান, দক্ষিণ-পূর্বে তাজিকিস্তান, এবং দক্ষিণে আফগানিস্তান ও তুর্কমেনিস্তান। উজবেকিস্তানের পশ্চিম অংশে দেশটির প্রায় ৩৭% এলাকা নিয়ে স্বায়ত্বশাসিত কোরাকালপোগ প্রজাতন্ত্র অবস্থিত। উজবেকিস্তানের উত্তর-পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত তাশখন্দ দেশটির রাজধানী শহর এবং শিল্প ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। উজবেকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ উজবেক জাতির লোক। উজবেক ভাষা এখানকার রাষ্ট্রীয় ভাষা।
১৯২৪ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত উজবেকিস্তান সোভিয়েত ইউনিয়নের অধীন উজবেক সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র নামে পরিচিত ছিল। ১৯৯১ সালে এটি স্বাধীনতা লাভ করে। ১৯৯২ সালে সংবিধান সংশোধন করে এটিকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়। কিন্তু তা স্বত্ত্বেও সোভিয়েত আমলে প্রচলিত কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন রূপ আজও দেশটির আর্থ-রাজনৈতিক কাঠামোয় রয়ে গেছে। যদিও সংবিধানে বহুদলীয় ব্যবস্থার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, দেশটির রাষ্ট্রপতি ইসলম ক্যারিমভ (উজবেকে Islom Karimov ইস্লম্ ক্যারিমভ়্) এক ধরনের স্বৈরশাসনের প্রবর্তন করেছেন, যাতে বিরোধী মতের প্রতি সহনশীলতা প্রদর্শিত হয় না। করিমভ বাজার সংস্কারের ব্যাপারেও ধীরে চলো নীতি গ্রহণ করেছেন। ফলে এখনও অর্থনীতির অনেক ক্ষেত্রে সরকারের শক্ত নিয়ন্ত্রণ আছে।
পরিচ্ছেদসমূহ |
ইতিহাস [সম্পাদনা]
রাজনীতি [সম্পাদনা]
উজবেকিস্তানের রাজনীতি একটি রাষ্ট্রপতিশাসিত প্রজাতন্ত্র কাঠামোয় সংঘটিত হয়। রাষ্ট্রপতি হলেন একাধারে রাষ্ট্রের প্রধান ও সরকারপ্রধান। রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতা সরকারের উপর ন্যস্ত। আইন প্রণয়নের ক্ষমতা সরকার এবং দ্বিকাক্ষিক আইনসভা উভয়ের উপর ন্যস্ত। উজবেকিস্তানে সরকারী পদপ্রাপ্তি রাজনৈতিক দলের সদস্যপদ নয়, বরং কে কোন গোত্রের, তার উপর অনেকাংশে নির্ভরশীল।
প্রশাসনিক অঞ্চলসমূহ [সম্পাদনা]
ভূগোল [সম্পাদনা]
- মূল নিবন্ধ: উজবেকিস্তানের ভূগোল
উজবেকিস্তানের ৮০% এলাকা সমতল মরুভূমি। দেশের পূর্বভাগে রয়েছে সুউচ্চ পর্বতমালা যেগুলি ৪,৫০০ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত উঠে গেছে। উজবেকিস্তানের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্ত তিয়ান শান পর্বতমালার পশ্চিম পাদদেশ নিয়ে গঠিত। উজবেকিস্তানের উত্তরের নিম্নভূমি কিজিল কুম নামের এক বিশাল মরুভূমি, যা দক্ষিণ কাজাকিস্তানেও প্রসারিত হয়েছে। ফের্গানা উপত্যকা উজবেকিস্তানের সবচেয়ে উর্বর অঞ্চল; এটি কিজিল কুম মরুভূমির ঠিক পূর্বে অবস্থিত এবং উত্তর, দক্ষিণ ও পশ্চিমে পর্বতমালা দ্বারা বেষ্টিত। সির দরিয়া নদী এই অঞ্চলটিকে কিজিল কুম মরুভূমি থেকে পৃথক করেছে। আমু দরিয়া অপর গুরুত্বপূর্ণ নদী।
উজবেকিস্তানে প্রায়ই ভূমিকম্প হয়। ১৯৬৬ সালে এমনই এক ভূমিকম্পে রাজধানী তাশখন্দের বেশির ভাগ অংশ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।
অর্থনীতি [সম্পাদনা]
উজবেকিস্তান প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সভ্যতাকে সংযুক্তকারী বিখ্যাত রেশম পথের উপর অবস্থিত। উজবেকিস্তানের যাদুঘরগুলিতে প্রায় ২০ লক্ষের মত প্রত্নবস্তু রয়েছে, যেগুলি মধ্য এশিয়ায় প্রায় ৭০০০ বছর ধরে বসবাসকারী বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করছে। অনেক পর্যটক এই সমৃদ্ধ ইতিহাস সম্বন্ধে জানার উদ্দেশ্যে উজবেকিস্তান ভ্রমণ করেন। এছাড়াও যারা সক্রিয় পর্যটনে আগ্রহী, তাদের জন্য উজবেকিস্তানের পাহাড়গুলি চড়া এবং তুষারাবৃত পাহাড়গুলিতে স্কি করার সুব্যবস্থা আছে। উজবেকিস্তানের ২য় বৃহত্তম শহর সমরকন্দ রেশম পথের মধ্যস্থলে অবস্থিত এবং এটি বিশ্বের প্রাচীনতম শহরগুলির একটি। আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৭ম শতকে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এখানকার অধিবাসীরা মূলত তাজিক। ৩২৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মহান আলেকজান্ডার এটি বিজয় করেন। সমরকন্দের প্রধান আকর্ষণ রেগিস্তান নামের এলাকা, যার চারপাশ ঘিরে আছে অনেকগুলি প্রাচীন মাদ্রাসা। এছাড়াও এখানে অনেক বিখ্যাত মসজিদ ও স্মৃতিস্তম্ভ আছে।
জনসংখ্যা [সম্পাদনা]
উজবেকিস্তানের প্রধান ভাষা হল উজবেক ভাষা (উত্তর উপভাষাটি)। এতে উজবেকিস্তানের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ লোক কথা বলেন। প্রায় ১৪% লোক রুশ ভাষায় এবং প্রায় ৪% লোক তাজিকি ভাষায় কথা বলেন। এছাড়া পার্শ্ববর্তী দেশগুলিতে থেকে আগত অনেকগুলি ভাষা, যেমন তুর্কমেন, কাজাক ওকিরঘিজ ভাষা এখানে প্রচলিত।
উজবেক ভাষা বিংশ শতাব্দীর শুরুতে আরবি লিপিতে লেখা হত। সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ হবার পর লেনিনের অধীনে এটি লাতিন লিপিতে লেখা শুরু হয়। কিন্তু স্তালিন ক্ষমতা দখলের পর ১৯৪০-এর দশক থেকে এটি সিরিলীয় লিপিতে লেখা হতে থাকে। ১৯৯১ সালে উজবেকিস্তান স্বাধীনতা লাভ করলে প্রাক্তন সোভিয়েত দেশগুলির থেকে রাষ্ট্রীয় স্বাতন্ত্র্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে উজবেক সরকার ১৯৯৩ সালে উজবেক ভাষা সরকারীভাবে আবার লাতিন লিপিতে লেখার আদেশ জারি করে। উজবেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে ধাপে ধাপে এই লিপি সংস্কার বাস্তবায়ন করা হয় এবং ২০০০-এর দশকের মাঝামাঝি এই সংস্কার সম্পূর্ণ হবে বলে ধারণা করা হয়। কিন্তু এই লিপি সংস্কার সিরিলীয় লিপিতে অভ্যস্ত বয়স্ক ও প্রবাসী উজবেকদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। তাছাড়া এতে দেশটির নবীন প্রজন্মের সিরিলীয় লিপিতে লেখা ইতিহাস থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার সম্ভাবনা আছে।