ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

ঈশ্বরগঞ্জ বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা

অবস্থান[সম্পাদনা]

উপজেলা ঘোষণার সাল ১৫ নভেম্বর, ১৯৮৩ খ্রিঃ । উত্তরে গৌরীপুর, দক্ষিণে নান্দাইল, পূর্বে নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া, পশ্চিমে ময়মনসিংহ সদর ও ত্রিশাল উপজেলা অবস্থিত।

প্রশাসনিক এলাকা[সম্পাদনা]

উপজেলার মোট আয়তন ২৮৬.১৯ বর্গ কিলোমিটার। এটি ১টি থানা, ১টি পৌরসভা (খ শ্রেণীর), ৯টি ওয়ার্ড, ১৩টি মহল্লা, ১১টি ইউনিয়ন, ২৯৩টি মৌজা, ২৯১টি গ্রাম নিয়ে গঠিত। প্রাকৃতিক সম্পদ বালু মহল ১টি, আয়তন ৯.৫৬ একর।

ইতিহাস - উত্‍পত্তি ও নামকরণ[সম্পাদনা]

শুরুতেই ঈশ্বরগঞ্জের নামকরণঈশ্বরগঞ্জ ছিলো না। ইংরেজ শাসন আমলে এর নামকরণ ছিলো পিতলগঞ্জ। পিতলগঞ্জ থেকে ঈশ্বরগঞ্জের নামকরণ হওয়ার পিছনেও রয়েছে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট। ঈশ্বরপাটনী নামে এক খেয়ামাঝি ছিলো। তাঁর কাজ ছিলো ব্রহ্মপুত্রের শাখা নদী অথচগভীর খরস্রোতা ‘কাঁচা মাটিয়া' নদীর বুক বেয়ে ঈশ্বরগঞ্জ সদরের পাশেই দওপাড়া গ্রাম এলাকায় পিতলগঞ্জ বাজারের ঘাটে খেয়াপারাপার করা। পিতলগঞ্জ বাজারটি ছিলো ইংরেজদের স্থাপিত। ঈশ্বরগঞ্জ ছিলো গৌরীপুরের জমিদারদের পরগণা। খেয়ামাঝি ঈশ্বরপাটনীকে খেয়াপারাপারের জন্যে জমিদারের নায়েবকে নজরানা দিয়ে খেয়াপারাপার করতে হতো।ঈশ্বরপাটনী আস্তে আস্তে পরিচিত ও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। পিতলগঞ্জ হাটে খেয়াপারাপারের জন্যেই তাঁর এই পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা। পণ্য বেচাকেনার জন্যে মানুষকে স্বাভাবিক ভাবেই খেয়াপারাপার করতে হতো। এক পর্যায়ে ইংরেজগণ নীলকুঠি স্থাপন করে এবং মানুষকে নীল চাষে বাধ্য করে। ইংরেজরা নির্বিচারে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ বিশেষ করে পিতলগঞ্জের ব্যবসায়ীদের অতিষ্ঠ করে তোলে। অত্যাচারে মানুষের প্রাণ ওষ্ঠাগত অবস্থা। অত্যাচারে অতিষ্ঠ হলেও মানুষ প্রতিবাদ করার মতো সাহসী ভূমিকা পালন করতে পারেনি। ঈশ্বরপাটনী মানুষের এই দুর্ভোগ ও দুর্দশার নিরব সাক্ষী। নীলকরদের অত্যাচার মেনে নিতে পারেনি ঈশ্বরপাটনী। সেক্ষুব্ধ ও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। প্রতিবাদী হয়ে ওঠে সে, হয় দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ। এক পর্যায়ে কোনো একদিন নীলকুঠির সাহেবগণ হাটে সমাগত মানুষদের নীলচাষ করতেবলে, ধমক দেয়, এমনকি চাবুক পর্যন্ত মারে। ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে হাটে আসা মানুষগণ। চাবুকের আঘাতেজর্জরিত মানুষের হাহাকারে প্রকম্পিত হয় পিতলগঞ্জের আকাশ-বাতাস। ঈশ্বরপাটনী এই অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে শাল কাঠের বৈঠা হাতে নিয়ে দৌড়ে যায় এবং চিৎকার করে বলতে থাকে ‘সাহেব চাবুক মারাবন্ধ কর'। ইংরেজ সাহেবগণ এতেক্ষুব্ধ হয় এবং ঈশ্বরপাটনীরগায়ে চাবুক চালাতে থাকে। ঈশ্বরপাটনীর ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায় এবং হাতের বৈঠা দিয়ে ইংরেজ সাহেবের মাথায় আঘাত করে। এতে করে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে নীলকুঠির সাহেব।রক্ত ঝরতে থাকে তার। রক্তক্ষরণে এক পর্যায়ে নীলকুঠির সাহেব মারা যায়। সৃষ্টি হয় ভীতসন্ত্রস্থ অবস্থা। পিতলগঞ্জের অবস্থা হয়ে পড়ে থমথমে। পিতলগঞ্জে যেনো ঝড় হইতে থাকে এই ঘটনায়।সমগ্র বাংলায়ও এর প্রভাব পড়ে। ঈশ্বরপাটনীও প্রাণে বাঁচতে পারেনি। ভেঙে যায় পিতলগঞ্জের হাট। তৎকালীন গৌরীপুরের জমিদার ব্রজেন্দ্র কিশোর চৌধুরী বর্তমান ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা সদরের জন্যে দত্তপাড়া চরনিখলা মৌজায় বাজার স্থাপনকরার জন্যে জমি দান করেন। তিনি ঈশ্বরপাটনীর নামের ঈশ্বরের সঙ্গে গঞ্জ যোগ করে বাজারের নাম দেন ঈশ্বরগঞ্জ।সেই থেকেই ঈশ্বরগঞ্জ নামের সূত্রপাত।

জনসংখ্যার উপাত্ত[সম্পাদনা]

মোট জনসংখ্যা ৩,৭০,৮৫০ জন (২০০১ সনের আদমশুমারী অনুযায়ী), পুরুষ ১,৮৯,১৫২ জন,মহিলা ১,৮১,৬৯৮ জন, জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১,১৩৭ জন, মোট খানার সংখ্যা ৭৯,২৭৬ টি, বার্ষিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.২১%।

শিক্ষা[সম্পাদনা]

শিক্ষার হার ৩৫.২০% (পুরুষ ৩৮.৭০.%, মহিলা ৩১.৫০%)। মোট প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৯৬টি (সরকারী ৯২টি, বেসরকারী রেজিষ্টার্ড ৩১টি, আন রেজিষ্টার্ড ২টি, কিন্ডার গার্ডেন ১২টি, স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা ৩২টি, উচ্চ মাদ্রাসা সংলগ্ন ২০টি, কমিউনিটি ৫টি, এনজিও ২টি), নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৩টি, ৯ম শ্রেণীর অনুমতি প্রাপ্ত বিদ্যালয় ২টি, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ২৩টি, স্কুল এন্ড কলেজ ২টি, ডিগ্রীকলেজ ২টি (বেসরকারী), কামিল মাদ্রাসা ১টি, ফাযিল মাদ্রাসা ৩টি, আলিম মাদ্রাসা ২টি, দাখিল মাদ্রাসা ১৭টি।

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

কৃষি ৭০.৫২%, অকৃষি শ্রমিক ৩.৩৮%, ব্যবসা ১০.২২%, চাকুরি ৩.৮৪%, অন্যান্য ১২.০৪%। কৃষি মোট জমি ২৮৬১৯ হেক্টর। এক ফসলী জমি ১৫২৩ হেক্টর, দুই ফসলী জমি ১৬৩৫৯ হেক্টর, তিন ফসলী জমি ৬৩৩৮ হেক্টর, চার ফসলী জমি ২৮০ হেক্টর। নীট ফসলী জমি ২৪৫০০ হেক্টর, মোট ফসলী জমি ৫৪৩৭৫ হেক্টর, ফসলের নিবিড়তা ২২২%। বর্গাচাষী ৭৩০০ জন, প্রান্তিক চাষী ২৭৪৫১ জন, ক্ষুদ্র চাষী ৭৯৩৩ জন, মাঝারী চাষী ৫৮৩৩ জন, বড় চাষী ১৩৭৬ জন। কৃষি ব্লকের সংখ্যা ৫০টি, কৃষি বিষয়ক পরামর্শ কেন্দ্র ৫০টি, সয়েল মিনিল্যাব ৫টি, বিএডিসি বীজ গুদাম ১টি, বিএডিসি বীজ ডিলার ২০ জন, বিসিআইসি সার ডিলার ১০ জন। সেচ সুবিধা সেচাধীন জমি ২০৮৫০ হেক্টর। গভীর নলকুপ মোট ২৪৪টি (বিদ্যুৎ চালিত ২১১টি, ডিজেলচালিত ৩৩টি), অগভীর নলকুপ মোট ৪৫৪২টি (বিদ্যুৎ চালিত ১৩৪২টি, ডিজেল চালিত ৩২০০টি), পাওয়ার পাম্প মোট ২০৮টি (বিদ্যুৎ চালিত ৬টি, ডিজেল চালিত ২০২টি)। মৎস্য সম্পদ নিবিড় পদ্ধতিতে মাছ চাষের আওতায় খামার (বেসরকারী বাণিজ্যিক খামার) ১৫টি, আয়তন২৯.৫ হেক্টর ও উৎপাদন ১২২ মেট্রিক টন। সনাতন/উন্নত সনাতন পদ্ধতিতে মাছ চাষের আওতায় পুকুর ১৩৯৪২টি, আয়তন ১৮৯৭.৯৩ হেক্টর ও উৎপাদন ৪৯১৭ মেট্রিক টন। পশু সম্পদ পশু চিকিৎসালয় ১টি, কৃত্রিম প্রজনন উপকেন্দ্র ১টি, কৃত্রিম প্রজনন পয়েন্ট ১টি।গবাদি পশুর খামার ১০২টি, ছাগলের খামার ৪০২টি, মুরগী খামার ১২৫টি, হাঁস খামার ১১০টি। গরু ২,২১১৯৮টি, মহিষ ৩৫৮টি, ছাগল ৬৬৭০০টি, ভেড়া ৩৪৩৬টি, ঘোড়া ১০১টি, শুকর ৪১টি, হাঁস ১১০৫৪০টি, মুরগী ৫২৫৮৩৫টি।

কৃতী ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

মোঃ আব্দুল কাইয়ুম (সাংবাদিক)

বিবিধ[সম্পাদনা]

স্বাস্থ্যকেন্দ্রঃ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স১টি (৫০ শয্যাবিশিষ্ট), পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র ৬টি, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ৩টি, কমিউনিটি ক্লিনিক ৪২টি। সরকারী অ্যাম্বুলেন্স ১টি। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠা ন মসজিদ ৬৬৬টি, মন্দির ১৮টি, মাজার ১৩টি।

ঈশ্বরগঞ্জের ঐতিহাসিক ইউনিয়ন আঠারবাড়ী । আঠারবাড়ীতে রয়েছে বাংলাদেশের প্রথম সাড়ীর হাটবাজারের মধ্যে অন্যতম বাজার হচ্ছে রায়বাজার। আরো রয়েছে ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ী ।

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]


ময়মনসিংহ জেলা Flag of Bangladesh
উপজেলা/থানাঃ ত্রিশাল | গৌরীপুর | মুক্তাগাছা | ফুলপুর | হালুয়াঘাট | ময়মনসিংহ সদর | ভালুকা | ফুলবাড়িয়া | গফরগাঁও | ঈশ্বরগঞ্জ | নান্দাইল | ধোবাউড়া

টেমপ্লেট:সম্পূর্ণ