ইউজিন কাসপারস্কি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ইউজিন কাসপারস্কি
Евгений Валентинович Касперский
Eugene Kaspersky - Kaspersky Lab.jpg
ইউজিন কাসপারস্কি
জন্ম ইয়েভজেনি ভ্যালেন্টিনোভিচ কাসপারস্কি
(১৯৬৫-১০-০৪) ৪ অক্টোবর ১৯৬৫ (বয়স ৪৯)
নভোরোসিস্ক, সোভিয়েত ইউনিয়ন
জাতীয়তা রুশ
পেশা কাসপারস্কি ল্যাবের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা
যে জন্য পরিচিত কাসপারস্কি ল্যাবের প্রতিষ্ঠাতা

ইউজিন কাসপারস্কি (রুশ: Евгений Валентинович Касперский, Yevgeniy Valentinovich Kasperskiy; জন্ম: ৪ অক্টোবর, ১৯৬৫) সোভিয়েত ইউনিয়নের নভোরোসিস্ক এলাকায় জন্মগ্রহণকারী গাণিতিক প্রকৌশলী ও তথ্য নিরাপত্তা বিষয়ের বিশেষজ্ঞ। কম্পিউটার ভাইরাসের উপর অনেকগুলো নিবন্ধের প্রণেতা এবং তিনি নিয়মিতভাবে কম্পিউটারের নিরাপত্তাবিষয়ক বিভিন্ন সেমিনারকনফারেন্সে অংশগ্রহণ করে থাকেন। ১৯৯৭ সালে কাসপারস্কি ল্যাবের সহ-উদ্যোক্তা হিসেবে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি অগ্রসরমান কাসপারস্কি এন্টি-ভাইরাস সফটওয়্যারের প্রভূত উন্নয়ন ঘটান। এ সফটওয়্যারটি কম্পিউটারের তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং কম্পিউটারের ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিতে হ্যাকারদের আক্রমণ ব্যর্থ করতে ব্যাপক সহায়ক।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

ইউজিন কাসপারস্কি মস্কোতে অবস্থিত রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং কেজিবি'র যৌথ পরিচালনায় ক্রিপ্টোগ্রাফি, টেলিকমিউনিকেশন্স এন্ড কম্পিউটার সায়েন্স ইনস্টিটিউট থেকে ১৯৮৭ সালে স্নাতক ডিগ্রী সম্পন্ন করেন তিনি।[১] এরপর ১৯৯১ সাল পর্যন্ত মাল্টি-ডিসিপ্লিনারী রিসার্চ ইনস্টিটিউটে কাজ করেন। সেখানেই ইউজিন প্রথমবারের মতো কম্পিউটারের ভাইরাসের বিষয়ে গবেষণা শুরু করেন। ১৯৮৯ সালে তিনি তাঁর কম্পিউটারে ক্যাসকেড নামীয় ভাইরাসের সন্ধান পান যা তাঁকে এ বিষয়ে ব্যাপক আগ্রহান্বিত করে তোলে। ফলে তিনি কম্পিউটার ভাইরাসের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ শুরু করেন। এ ভাইরাস দূরীকরণে পদক্ষেপ নেন। পরবর্তীকালে তিনি ম্যালিসিয়াস প্রোগ্রাম সংগ্রহ করতে শুরু করেন এবং এগুলো দূরীকরণে কাজ করতে থাকেন। এভাবেই এ বিশাল সংগ্রহশালা থেকেই তিনি কাসপারস্কি এন্টি-ভাইরাস ডাটাবেসের একটি প্রতিষ্ঠান তৈরী করেন। এ প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে আট মিলিয়নেরও বেশি তথ্য ধারণ করা হয়েছে এবং চুরানব্বই মিলিয়ন ম্যালওয়ারের নমুনা সংরক্ষিত আছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের অন্যতম পূর্ণাঙ্গ এন্টিভাইরাস ডাটাবেসের কেন্দ্রস্থল হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রয়েছে।

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

১৯৯১ সালে কামি ইনফরমেশন টেকনোলজিস সেন্টারে যোগদান করেন। সেখানে তিনি এবং তাঁর একদল সহকর্মী এভিপি এন্টিভাইরাস প্রকল্পের উন্নয়ন ঘটাতে সচেষ্ট হন যা পরবর্তীকালে কাসপারস্কি এন্টি-ভাইরাসের ধারণা যোগায়। ১৯৯৪ সালে এ প্রকল্পটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি অর্জন করে। অগণিত এন্টি-ভাইরাস প্রোগ্রামের সমন্বয়ক হামবুর্গ ইউনিভার্সিটির পরীক্ষাগারে ঐ সময়কার সবচেয়ে বেশি ভাইরাস শনাক্তকরণে কাসপারস্কির সাফল্যের হার ছিল সর্বোচ্চ। ১৯৯৭ সালে ইউজিন এবং তাঁর সহকর্মীরা স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার চিন্তা করেন। এভাবেই তিনি কাসপারস্কি ল্যাবের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পরিচিতি পান। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এক দশককাল তাঁর সাবেক স্ত্রী নাতালিয়া কাসপারস্কি প্রতিষ্ঠান প্রধান ছিলেন।[২] যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানের সাথে বিবাদের পর নভেম্বর, ২০০০ সালে এভিপি'র নাম পরিবর্তন করে কাসপারস্কি এন্টিভাইরাস রাখেন। ঐ সময় থেকে তিনি প্রতিষ্ঠানটির এন্টিভাইরাস গবেষণার প্রধান ছিলেন। ২০০৭ সালে কাসপারস্কি ল্যাবের সিইও বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করে অদ্যাবধি আসীন রয়েছেন।[৩]

২১ এপ্রিল, ২০১১ সালে রুশ গণমাধ্যমে তাঁর ২০ বছর বয়সী সন্তান নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে তাঁর সন্তান ইভানকে অপহরণ করা হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়।[৪] পরদিন রুশ পুলিশ ইভানকে উদ্ধার করে।[৫]

কাসপারস্কি ল্যাব[সম্পাদনা]

কাসপারস্কি ল্যাব আন্তর্জাতিক সংস্থা হিসেবে গ্রেট ব্রিটেনে নিবন্ধিত হয় এবং ২,৪০০ জনেরও অধিকসংখ্যক উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি কর্মরত আছেন। প্রতিষ্ঠানটি দুই শতাধিক দেশ ও রাজ্যসমূহে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ত্রিশটি দেশে নিজস্ব আঞ্চলিক কার্যালয় আছে। বিশ্বব্যাপী ৫টি অঞ্চলে - পশ্চিম ইউরোপ, পূর্ব ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্যআফ্রিকা, উত্তরদক্ষিণ্ আমেরিকা, এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল এবং জাপানে তাদের এন্টি-ভাইরাস সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

২০০৯ সালে ইউগিন কাসপারস্কির একটি বক্তব্য প্রদান করেন যা প্রণিধানযোগ্য:[৬]

প্রত্যেক ব্যক্তিরই নিজস্ব পরিচিতি আছে, রয়েছে ও থাকতে হবে অথবা ইন্টারনেট পাসপোর্ট থাকতে হবে, ... ইন্টারনেট ব্যবস্থার নকশা প্রণীত হয়েছিল মূলতঃ আমেরিকার বিজ্ঞানী এবং আমেরিকার সামরিক বাহিনীর জন্যে। পরবর্তীতে এটি সাধারণ জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়া হয় এবং এটি ছিল ভুল সিদ্ধান্ত ... কেননা এটি তার সহজাত গতিতেই চলতে থাকবে।

—কাসপারস্কি

সম্মাননা[সম্পাদনা]

প্রযুক্তি, বিজ্ঞান এবং ঈর্ষনীয় ব্যবসায়িক সাফল্যের প্রেক্ষাপটে ​ইউজিন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অনেকগুলো পুরস্কারসম্মাননায় অভিষিক্ত হয়েছেন। ১২ জুন, ২০০৯ সালে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট মেদভেদেভের পক্ষ থেকে রাশান স্টেট এওয়ার্ড পান।[৭] একই বছর চীনের বন্ধুত্বসূচক পুরস্কার লাভ করেন।[৬] ২০১১ সালে সিস-কন মিডিয়া পরিচালিত ভোটে তিনি 'বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী নিরাপত্তা নির্বাহী' মনোনীত হয়েছেন।

অন্যান্য সন্মাননার মধ্যে উল্লেখযোগ্য -

  • শীর্ষ ১০০ বিশ্ব চিন্তাবিদ - ফরেন পলিচি ম্যাগাজিন - ২০১২ [৮]
  • বছরের প্রযুক্তি নায়ক, V-3 - ২০১২ [৯]
  • আইটি চ্যানেল শীর্ষ -100 এক্সিকিউটিভ, CRN - ২০১২ [১০]
  • বিশ্বের সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী নিরাপত্তা এক্সিকিউটিভ SYS-CON Media – 2011 [১১]
  • বছরের ব্যবসা ব্যক্তি, আমেরিকান কমার্স চেম্বার, রাশিয়া -২০১১ [১২]
  • অসামান্য অবদান বিজনেস অ্যাওয়ার্ড - সিইও মধ্যপ্রাচ্য - ২০১১ [১৩]
  • CEO of the Year, SC Magazine Europe - 2010[১৪]
  • Lifetime Achievement Award, Virus Bulletin – 2010 [১৫]
  • Strategic Brand Leadership Award, World Brand Congress – 2010 [১৬]
  • Runet Prize (Contribution to the Russian-Language Internet), the Russian Federal Agency for the Press and Mass Communications – 2010 [১৭]

২০১২ সালে প্লাইমাউথ বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডক্টর অব টেকনোলজী প্রদান করে।[১৮]

অন্যান্য[সম্পাদনা]

বিশ্বের সবচেয়ে বড় কম্পিউটার প্রদর্শনী সিবিট ২০১২-ত ইউজিন কাসপারস্কি সাইবারযুদ্ধের সমূহ বিপদ সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদেরকে সতর্ক করে দেন। তিনি বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তাজনিত ভীতির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য বলেন।[১৯] সাম্প্রতিককালে তিনি বলেন যে, অ্যাপল এর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে; যেখানে মাইক্রোসফট ১০ থেকে ১২ বছর পূর্বেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে।[২০]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]