আলোর প্রতিসরণ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
এখানে আলোকরশ্মি বায়ু থেকে প্লেক্সিগ্লাস মাধ্যমে প্রবেশ করছে।কিছু পরিমাণ আলো প্রতিফলিত হলেও তার অধিকাংশই প্রতিসরিত হচ্ছে।

আলোর প্রতিসরণ(ইংরেজি: Refraction of light) হলো এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে আলো প্রবেশ করলে উভয় মাধ্যমের বিভেদতলে এর দিক পরিবর্তিত হওয়ার ঘটনা।[১] এ ঘটনা স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয় যখন আলোকরশ্মি 0° ও 90° ব্যতিত অন্য যেকোনো কোণে মাধ্যমদ্বয়ের বিভেদতলে পড়ে। মূলত মাধ্যমগুলোর ঘনত্বের পার্থক্যের জন্যই আলোর প্রতিসরণ ঘটে থাকে.কোনো ব্যক্তিকে যদি দড়ি বেধে ছেড়ে দেওয়া হয়ও সে যদি সরলরেখা বরাবর যায় তবে তার বেগের পরিবর্তন হলেও অভিমুখের পরিবর্তন হয়না! কিন্তু কিছুটা কোন করে দৌড়ালে অভিমুখের পরিবর্তন হয়.অভিকেন্দ্র বলের দরুন এরুপ হয়.একই ভাবে আলো এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে গেলে ও একই ঘটনা ঘটে.সোজা গেলে কোনো পরিবরতন হয়না.কিন্তু হেলে পড়লে কনার সংঘর্ষের দরুন অভিমূখের পরিবর্তন ঘটে.সোজা লঘু থেকে ঘন মাধ্যমে গেলে ঘন মাধ্যমের কনাগুলির,তিন দিক থেকে বাধাবল সমান হওয়ায় প্রতিসৃত রশ্মির কোনো বিচ্যুতি হয়না !কিন্তু আলো কিছুটা হেলে প্রবেশ করলে আলোক কনার ওপর সবদিক থেকে বাধাবল সমান হয় না..সামনের দিকে একটা আস্তরন সৃস্টি হয়.ফলে আলো অভিলম্বের দিকে বাকে..আলো ঘন থেকে লঘুতে গেলে বিপরীত ঘটনা ঘটে..(আশিস)

প্রতিসরণের সূত্রসমূহ[সম্পাদনা]

আলোর প্রতিসরণের ওপর দুটি সূত্র বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, যথা:

  • একজোড়া নির্দিষ্ট মাধ্যম এবং একটি নির্দিষ্ট রংয়ের আলোর জন্য আপতন কোণের সাইন (sin) এবং প্রতিসরণ কোণের সাইনের (sin) অনুপাত সর্বদা ধ্রুব থাকে।[১] ১৬২০ সালে হল্যান্ডের বিজ্ঞানী স্নেল (Willebrord Snellius) সর্বপ্রথম এ সূত্র প্রকাশ করেন। তাই এ সূত্রটিকে স্নেলের সূত্রও বলা হয়।[২]
  • আপতিত রশ্মি, প্রতিসৃত রশ্মি আপতন বিন্দুতে বিভেদতলের ওপর অঙ্কিত অভিলম্ব একই সমতলে অবস্থান করে।[১][২]

প্রতিসরণাঙ্ক[সম্পাদনা]

আলোকরশ্মি x মাধ্যম থেকে y মাধ্যমে প্রবেশ করছে। যেখানে pআপতন কোণ এবং q প্রতিসরণ কোণ।

প্রতিসরণাঙ্ককে দু ভাবে বিভক্ত করা যেতে পারে যথা- আপেক্ষিক প্রতিসরণাঙ্ক ও পরম প্রতিসরণাঙ্ক। নিম্নে আরও বর্ণনা করা হল:

আপেক্ষিক প্রতিসরণাঙ্ক[সম্পাদনা]

কোনো নির্দিষ্ট রংয়ের আলো যখন এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে তীর্যকভাবে প্রবেশ করে তখন আপতন কোণ ও প্রতিসরণ কোণের সাইনের অনুপাত যে ধ্রুব সংখ্যা হয় তাকে প্রথম মাধ্যমের সাপেক্ষে দ্বিতীয় মাধ্যমের প্রতিসরণাঙ্ক (Relative Refractive index) বলে। উদাহরণস্বরূপ: যখন আলোকরশ্মি 'x' মাধ্যম থেকে 'y' মাধ্যমে প্রবেশ করে তখন আপতন কোণের সাইন ও প্রতিসরণ কোণের সাইনের অনুপাতকে বলা হবে 'x' মাধ্যমের সাপেক্ষে 'y' মাধ্যমের প্রতিসরণাঙ্ক। এখন 'x' মাধ্যমে আপতন কোণ যদি p এবং 'y' মাধ্যমে প্রতিসরণ কোণ যদি q হয় তবে- 'x' মাধ্যমের সাপেক্ষে 'y' মাধ্যমের প্রতিসরণাঙ্ক হবে:
xηy = \frac{sin p}{sin q}

পরম প্রতিসরণাঙ্ক[সম্পাদনা]

কোনো নির্দিষ্ট রংয়ের আলো যখন শূন্য মাধ্যম থেকে কোন স্বচ্ছ মাধ্যমে তীর্যকভাবে প্রবেশ করে তখন আপতন কোণ ও প্রতিসরণ কোণের সাইনের অনুপাতকে উক্ত মাধ্যমটির পরম প্রতিসরণাঙ্ক (Absolute Refractive Index) বলে। অর্থাৎ শূন্য মাধ্যমে কোন নির্দিষ্ট রংয়ের আলোকরশ্মির আপতন কোন p এবং অন্য মাধ্যমটিতে (ধরি, মাধ্যমটি y) প্রতিসরণ কোণ q হলে, উক্ত y মাধ্যমটির পরম প্রতিসরণাঙ্ক হবে:
ηy = \frac{sin p}{sin q}

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ১.০ ১.১ ১.২ ড. গিয়াস উদ্দিন আহমেদ; ড. মমিনুল হক; রাশিদুল হাসান; মাহেরা আহমেদ (জুন, ২০০৫)। "আলোর প্রতিসরণ"। উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই (দ্বিতীয় পত্র) (ষষ্ঠ সংস্করণ)। ঢাকা: মেট্রো পাবলিকেন্স। পৃ: ২৯৯–৩৬৪। 
  2. ২.০ ২.১ M. Nelkon (1993)। "Light"। Principles of Physics (10th সংস্করণ)। Singapore: SHING LEE PUBLISHERS PTE LTD.। পৃ: 272–273। আইএসবিএন 9971616688 

ashisbiswas (nahatahighschool)ashisbiswas560@gmail.com