আলোর প্রতিসরণ
আলোর প্রতিসরণ(ইংরেজি: Refraction of light) হলো এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে আলো প্রবেশ করলে উভয় মাধ্যমের বিভেদতলে এর দিক পরিবর্তিত হওয়ার ঘটনা।[১] এ ঘটনা স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয় যখন আলোকরশ্মি 0° ও 90° ব্যতিত অন্য যেকোনো কোণে মাধ্যমদ্বয়ের বিভেদতলে পড়ে। মূলত মাধ্যমগুলোর ঘনত্বের পার্থক্যের জন্যই আলোর প্রতিসরণ ঘটে থাকে।
পরিচ্ছেদসমূহ |
প্রতিসরণের সূত্রসমূহ [সম্পাদনা]
আলোর প্রতিসরণের ওপর দুটি সূত্র বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, যথা:
- একজোড়া নির্দিষ্ট মাধ্যম এবং একটি নির্দিষ্ট রংয়ের আলোর জন্য আপতন কোণের সাইন (sin) এবং প্রতিসরণ কোণের সাইনের (sin) অনুপাত সর্বদা ধ্রুব থাকে।[১] ১৬২০ সালে হল্যান্ডের বিজ্ঞানী স্নেল সর্বপ্রথম এ সূত্র প্রকাশ করেন। তাই এ সূত্রটিকে স্নেলের সূত্রও বলা হয়।[২]
- আপতিত রশ্মি, প্রতিসৃত রশ্মি আপতন বিন্দুতে বিভেদতলের ওপর অঙ্কিত অভিলম্ব একই সমতলে অবস্থান করে।[১][২]
প্রতিসরণাঙ্ক [সম্পাদনা]
প্রতিসরণাঙ্ককে দু ভাবে বিভক্ত করা যেতে পারে যথা- আপেক্ষিক প্রতিসরণাঙ্ক ও পরম প্রতিসরণাঙ্ক। নিম্নে আরও বর্ণনা করা হল:
আপেক্ষিক প্রতিসরণাঙ্ক [সম্পাদনা]
কোনো নির্দিষ্ট রংয়ের আলো যখন এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে তীর্যকভাবে প্রবেশ করে তখন আপতন কোণ ও প্রতিসরণ কোণের সাইনের অনুপাত যে ধ্রুব সংখ্যা হয় তাকে প্রথম মাধ্যমের সাপেক্ষে দ্বিতীয় মাধ্যমের প্রতিসরণাঙ্ক (Relative Refractive index) বলে। উদাহরণস্বরূপ: যখন আলোকরশ্মি 'x' মাধ্যম থেকে 'y' মাধ্যমে প্রবেশ করে তখন আপতন কোণের সাইন ও প্রতিসরণ কোণের সাইনের অনুপাতকে বলা হবে 'x' মাধ্যমের সাপেক্ষে 'y' মাধ্যমের প্রতিসরণাঙ্ক। এখন 'x' মাধ্যমে আপতন কোণ যদি p এবং 'y' মাধ্যমে প্রতিসরণ কোণ যদি q হয় তবে- 'x' মাধ্যমের সাপেক্ষে 'y' মাধ্যমের প্রতিসরণাঙ্ক হবে:
xηy = 
পরম প্রতিসরণাঙ্ক [সম্পাদনা]
কোনো নির্দিষ্ট রংয়ের আলো যখন শূন্য মাধ্যম থেকে কোন স্বচ্ছ মাধ্যমে তীর্যকভাবে প্রবেশ করে তখন আপতন কোণ ও প্রতিসরণ কোণের সাইনের অনুপাতকে উক্ত মাধ্যমটির পরম প্রতিসরণাঙ্ক (Absolute Refractive Index) বলে। অর্থাৎ শূন্য মাধ্যমে কোন নির্দিষ্ট রংয়ের আলোকরশ্মির আপতন কোন p এবং অন্য মাধ্যমটিতে (ধরি, মাধ্যমটি y) প্রতিসরণ কোণ q হলে, উক্ত y মাধ্যমটির পরম প্রতিসরণাঙ্ক হবে:
ηy = 
আরো দেখুন [সম্পাদনা]
তথ্যসূত্র [সম্পাদনা]
- ↑ ১.০ ১.১ ১.২ ড. গিয়াস উদ্দিন আহমেদ; ড. মমিনুল হক; রাশিদুল হাসান; মাহেরা আহমেদ (জুন, ২০০৫). "আলোর প্রতিসরণ". উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই (দ্বিতীয় পত্র) (ষষ্ঠ ed.). ঢাকা: মেট্রো পাবলিকেন্স. পৃ: ২৯৯-৩৬৪.
- ↑ ২.০ ২.১ M. Nelkon (1993). "Light". Principles of Physics (10th ed.). Singapore: SHING LEE PUBLISHERS PTE LTD.. পৃ: 272-273. আইএসবিএন 9971616688.
| এই নিবন্ধটি অসম্পূর্ণ। আপনি চাইলে এটিকে সমৃদ্ধ করে উইকিপিডিয়াকে সাহায্য করতে পারেন। |