আলী ইমাম

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
আলী ইমাম
Ali Imam Faizul Chowdhury.JPG
আলী ইমাম ২০১০
জীবিকা শিশু সাহিত্যিক, টিভি ব্যাক্তিত্ব
জাতীয়তা বাংলাদেশী
জাতি বাঙালি
নাগরিকত্ব বাংলাদেশ Flag of Bangladesh.svg
ধরণ শিশু সাহিত্য
উল্লেখযোগ্য পুরস্কার বাংলা একাডেমী পুরস্কার


আলী ইমাম (জন্ম: ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দের ৩১ ডিসেম্বর) বাংলাদেশী শিশু সাহিত্যিক এবং অডিও ভিজ্যুয়াল ব্যবস্থাপক। গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, ফিচার, ভ্রমণকাহিনী, বিজ্ঞান কল্পকাহিনী সবই তিনি লিখেছেন বাচ্চাদের জন্য।[১]

জন্ম[সম্পাদনা]

আলী ইমামের জন্ম ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। জন্মের ৬ মাস পরই পুরো পরিবারসহ ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করেন। পুরো পরিবারসহ থাকতেন পুরান ঢাকার ঠাটারীবাজারে। তাঁর শৈশব-কৈশোর কেটেছে পুরান ঢাকার ওয়ারী, লিঙ্কন রোড, নয়াবাজার, নওয়াবপুর, কাপ্তানবাজার, ফুলবাড়িয়ায় এলাকায়। [২]

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

আলী ইমাম এ পর্যন্ত প্রায় ২০০টির মতো পুস্তক রচনা করেছেন ও ৪০টির মতো গ্রন্থ রচনা করেছেন।শিশু মনস্তত্ত্ব, রোমাঞ্চ এবং মানবতা ধরনের বিষয় তাঁর কাহিনীতে উঠে এসেছে।তিনি সহজ সরল ভাষায় লিখেন। তার লেখায় বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী, রোমাঞ্চকর উপন্যাস ও ইতিহাস সংশ্লিষ্ট রচনা লক্ষণীয়। আলী ইমাম বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহা-ব্যবস্থাপক ছিলেন এবং ২০০৬ সালে চাকুরী থেকে অবসরগ্রহণ করেন। তারপর তিনি স্যার সাঈদ ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজিতে ভর্তি হন কম্পিউটার প্রকৌশল বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি নেওয়ার জন্য। ২০১০ সালে তিনি তাঁর শিক্ষা সমাপ্ত করেন এবং জনসেবামূলক নিজের প্রতিষ্ঠান খুলে বসেন।তিনি একে বলেন বযিমস। এছাড়াও তিনি অনেক ব্লগের লেখক।

প্রকাশিত গ্রন্থ[সম্পাদনা]

প্রবন্ধ-গবেষণা[সম্পাদনা]

সোনালী তোরণ (১৯৮৬); আলোয় ভুবন ভরা (১৯৮৭); দুঃসাহসী অভিযাত্রী (১৯৮৮); প্রিয়-প্রসঙ্গ (১৯৯০); বুনোহাঁসের পালক (১৯৯০); সেসুলয়েডের পাঁচালী (১৯৯০); রক্ত দিয়ে কেনা (গল্প, ১৯৯১); ভিনদেশী কিশোর গল্প (১৯৯১); কাছের পাহাড় দূরের পর্বত (১৯৯২); সাগর থেকে সাগরে (১৯৯২); বাংলাদেশের কথা (১৯৯২); বিদেশি পর্যটকদের চোখে বাংলাদেশ (১৯৯৪); দূরের দ্বীপ কাছের দ্বীপ (১৯৯৬); প্রাচীন বাংলা বৌদ্ধ বিহার (১৯৯৬); বাঙলা নামে দেশ (১৯৯৭); ডানা মলার দিন (১৯৯৭); দেখোরে নয়ন মেলে (১৯৯৯); ভ্রমণ কাহিনী : কাছে থেকে দূরে (১৯৯১)।

কবিতা[সম্পাদনা]

ধলপহর (১৯৭৯); হিজল কাঠের নাও (১৯৮৬); তোমাদের জন্যে (১৯৯৪); সবুজ খাতা (১৯৯৬); ঘাসের ডগায় হলুদ ফড়িঙ (১৯৯৯)।

শিশুসাহিত্য[সম্পাদনা]

দ্বীপের নাম মধুবুনিয়া (গল্প, ১৯৭৫); অপারেশন কাঁকনপুর (উপন্যাস, ১৯৭৮); তিরিমুখীর চৈতা (রহস্য উপন্যাস, ১৯৭৯); রুপোলী ফিতে (গল্প, ১৯৭৯); শাদা পরী (গল্প, ১৯৭৯); পাখিদের নিয়ে (১৯৭৯); চারজনে (গল্প, ১৯৭৯); সোনার তস্তুরী (গল্প, ১৯৮০); নীল নেশা (১৯৮২); প্রবাল দ্বীপের আতঙ্ক (উপন্যাস, ১৯৮৩); জাফলঙ্গের বিভীষিকা (উপন্যাস, ১৯৯১); আলোর ফুল (গল্প, ১৯৮৪); পাখি দেখা (গল্প, ১৯৮৪); রক্তমাখা পুঁথি (উপন্যাস, ১৯৮৪); সবুজ বাড়ির কালো তিতির (গল্প, ১৯৮৫); আলোয় ভুবন ভরা (১৯৮৬); পাখির জগৎ (১৯৮৫); বাংলা নামে দেশ (১৯৮৬); পিশাচের ছায়া (১৯৮৬); বাদাবনে লড়াই (উপন্যাস, ১৯৮৬); পাখির আর পাখি (১৯৮৭); আলোর পাখি (১৯৮৯); পাখির কাছে (গল্প); ঝণ্টি পাহাড়ের চন্দন বাক্স (১৯৯০); হিমছড়ির ভয়ঙ্কর (১৯৯২); এখনও রহস্য (১৯৯২); জ্ঞানের কথা (১৯৯২); হরেক রকম গল্প (গল্প, ১৯৯৪); কতো যে রহস্য (রহস্য গল্প, ১৯৯৪); জানতে হলে গাছ-গাছালি (১৯৯৪); জানতে হলে পাখ-পাখালি (১৯৯৪); গল্পগুলো হাসির (১৯৯৬); কত যে রহস্য (১৯৯৬); চিলামুখীর বিলে (১৯৯৭); সনুমামার অভিযান (১৯৯৭); আরো রহস্য (১৯৯৭); শুধু রহস্য (১৯৯৭); দানব পাখির রহস্য (১৯৯৯); জাগলো জীবন নদীর তীরে (১৯৯৯)।

কিশোর উপন্যাস[সম্পাদনা]

রক্তপিশাচ তিতিরোয়া (১৯৮৬); ভয়াল ভয়ঙ্কর (১৯৮৭); নীল শয়তান (১৯৮৭); ভয়ঙ্করের হাতছানি (১৯৯০); রক্তপিশাচ (১৯৯০) ইয়েতির চিৎকার (১৯৯০); নীল চোখের ছেলে (১৯৯২); লড়াই (১৯৯২); পিশাচের থাবা (১৯৯৪); জীবনের জন্য (১৯৯৪); মহাস্থানগড় রহস্য (১৯৯৪); রহস্যময় ১৯৯৬); বনকুসুমপুর রহস্য (১৯৯৬); হিমকুঁড়ির জঙ্গলে (১৯৯৭); গাঙচিল দ্বীপের বিভীষিকা (১৯৯৯); দানব পাখির রহস্য (১৯৯৯); জাগলো জীবন নদীর তীরে (১৯৯৯); ঘাসের ডগায় হলুদ ফড়িঙ (১৯৯৯); অচল ছবি সচল হলো (১৯৯৯);

বিবিধঃ সায়েন্স, সায়েন্স ফিকশন[সম্পাদনা]

গল্পগুলো ইতিহাসের (১৯৯৯); মহাবিশ্বের মহাবিস্ময় (২০০০); বিচিত্র জীব জগত (২০০০); কাছের প্রাণী দূরের প্রাণী (২০০০); পশুপাখি কীটপতঙ্গ (২০০০); রক্তের বিনিময় (২০০০); এ্যাডভেনচার (২০০০); গল্পগুলো কল্পবিজ্ঞানের (২০০০); নির্বাচিত আলী ইমাম (২০০০); বাছাই সায়েন্স ফিকশন (২০০০); জ্ঞানের কথা (২০০০); ছোটদের সেরা গল্প (১৪০৭); গল্প ৫০ (২০০১); কিশোর সমগ্র (তৃতীয় খ-, ২০০১); আকাশ ভরা সূর্য তারা (২০০১); তারার আলোয় ঝিকিমিকি (২০০১); এই পৃথিবীর গোড়ার কথা (২০০১); সাগর হলো কেমন করে (২০০১); জাগল যখন প্রাণের সাড়া (২০০১); পানি ছেড়ে ডাঙার দিকে (২০০১); যুগটা ছিল ডাইনোসরের (২০০১); আকাশ নীলে ডানা মেলে (২০০১); অতীতের প্রাণী (২০০১); গল্পগুলো বনের (২০০১); ধন ধান্য পুষ্প ভরা (২০০১); স্বপ্ন দিয়ে তৈরি (২০০১); সাগর থেকে সাগরে (২০০১); সকল দেশের সেরা (২০০১); স্মৃতি দিয়ে ঘেরা (২০০১); নীল সাগরের প্রাণী (২০০১); তোমার আকাশ তোমার বাতাস (২০০১); আমার প্রাণে বাজায় বাঁশি (২০০১); সোনালি মাছ রুপোলি পাখি (২০০১); পাখি সব করে রব (২০০১); পাহাড়পুর থেকে ময়নামতি (২০০১); পাখির খবর (২০০১); কত কথা কত কাহিনী (২০০১); এই পাখি সেই পাখি (২০০১); যদি যাও সোনারগাঁও (২০০১) হিমালয়ের রহস্য ইয়েতি (২০০১); বন-বনানীর গাছ-গাছালি (২০০১); পাখির পরিচয় (২০০১); মহাবিশ্বের জানা-অজানা (২০০১); জাহাঙ্গীরনগর থেকে ঢাকা (২০০১); রহস্যের খোঁজে (২০০১); পনেরটি সায়েন্স ফিকশন (২০০১); রহস্যময় সময়-সুড়ঙ্গ (২০০১); পিতি নাম্বার ওয়ান (২০০১); কিশোর সঞ্চয়ন (২০০১); জানা-অজানা (১ম খ-, ২০০২); কিশোর উপন্যাস সমগ্র (২০০২); গল্পসমগ্র (২০০২); কিশোর উপন্যাস সমগ্র (২০০২); গল্পসমগ্র (২০০২); আলী ইমাম অমনিবাস (২০০২); নির্বাচিত সাইন্স ফিকশন (২০০২); বুনোহাঁসের রক্ত (১৯৯৬); মুক্তিযুদ্ধের কিশোর গল্প (১৯৯৪) ছয়টি সায়েন্স ফিকশন (১৯৯৪); সেরা কল্পবিজ্ঞানের গল্প (১৯৯৬)।

জীবনী[সম্পাদনা]

শেষ নেই (১৯৭৯); ধূসর পুঁথি (১৯৮০); জীবন বাংলাদেশ : মরণ বাংলাদেশ (১৯৮১); খেয়াল খুশির রাজা (১৯৯১); ফোটে কত ফুল (১৯৯১); আলোর নাচন পাতায় পাতায়; আলোর চিঠি (১৯৯৯)।

বিজ্ঞান[সম্পাদনা]

বিস্ময়কর বিজ্ঞান; রহস্যময় বিজ্ঞান (১৯৮৮); রোমাঞ্চকর বিজ্ঞান (১৯৮৯); জানার আছে অনেক কিছু (১৯৯৬)। সংকলন : কিশোর সমগ্র (১৯৯৬)।

পুরস্কার=[সম্পাদনা]

গ্রন্থসূত্র[সম্পাদনা]

  • বাংলা একাডেমী লেখক অভিধান, ২০০৭, ঢাকা।

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. [১]
  2. http://www.shokalerkhabor.com/online/archive_details.php?id=45190&&%20page_id=%2046&issue_date=2011-11-19