আলিকদম উপজেলা
|
|
এই নিবন্ধটিতে কোনো উৎস বা তথ্যসূত্র উদ্ধৃত করা হয়নি। দয়া করে উপযুক্ত নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র থেকে উৎস প্রদান করে নিবন্ধটির মানোন্নয়নে সাহায্য করুন। (সাহায্যের জন্য দেখুন: যাচাইযোগ্যতা) নিবন্ধের যেসব অংশে সঠিক তথ্যসূত্রের উল্লেখ নেই, সেগুলি যেকোনো মুহূর্তে সরিয়ে ফেলা হতে পারে। (মার্চ ২০১০) |
| আলিকদম উপজেলা | |
| বিভাগ - জেলা |
চট্টগ্রাম বিভাগ - বান্দরবান জেলা |
| স্থানাঙ্ক | 21.6667° N 92.3056° E |
| আয়তন | 885.78 km² |
| সময় স্থান | বিএসটি (UTC+6) |
| জনসংখ্যা (1991) - ঘনত্ব |
24782 - 28/কিমি² |
| মানচিত্র সংযোগ: Official Map of Ali Kadam | |
আলিকদম বাংলাদেশের বান্দরবান জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা।
সূচিপত্র |
[সম্পাদনা] অবস্থান
গ্রন্থনায়: মমতাজ উদ্দিন আহমদ (সাংবাদিক), আলীকদম, বান্দরবান: নয়ন জুড়ানো স্নিগ্ধ সবুজ বনানীঘেরা, খরস্রোতা মাতামুহুরী ও অসংখ্য গিরি নির্ঝর বিধৌত ‘গিরির স্বপ্নপুরি একটি আদর্শ উপজেলার নাম ‘আলীকদম। অন্তর্বিহীন মৌন নিস্তব্ধ সৌন্দর্য আর পাহাড়-পর্বত সমাকীর্ণ উচ্চভূমির এ উপজেলাটি প্রাচীন ইতিহাস-ঐতিহ্যমন্ডিত। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত পার্বত্য বান্দরবান জেলার অন্তর্গত এ উপজেলা। বাংলা ভাষাভাষির পাশাপাশি নৃতাত্বিক বৈশিষ্ট্যে সমুন্নত উপজেলার সার্বিক চালচিত্র। প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্যে ভরা সম্ভাবনাময়ী সুরম্য এ উপজেলা হতে পারে উন্নয়নের প্রাণকেন্দ্র। কিন্তু আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, ভৌত অবকাঠামো ও শিক্ষায় পিছিয়ে থাকা প্রাচুর্যময় এ উপজেলাটি বিভিন্নভাবে অবহেলিত ও বঞ্চিত ।
তথ্যসূত্র: গিরিনন্দিনী আলীকদম, লেখক- মমতাজ উদ্দিন আহমদ, প্রকাশকাল: একুশে বইমেলা ২০০৮।
[সম্পাদনা] প্রশাসনিক এলাকা
গ্রন্থনায়: মমতাজ উদ্দিন আহমদ (সাংবাদিক), আলীকদম, বান্দরবান: মাতামুহুরী নদী উপত্যকাভূক্ত আলীকদম থেকে পার্শ্ববর্তী আরকান/বার্মার সীমান্ত অঞ্চল বেশী দুরে নয়। সমসাময়িক ইতিহাসের পাতা থেকে জানা যায়, আলীকদম একটি প্রাচীন জনপদ। ১৭১১ খ্রীস্টাব্দে জনৈক চন্দন খাঁ ওরফে তৈন খাঁ মাতামুহুরী সীমান্তে একটি উপজাতীয় রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ছিলেন আরকানী রাজার অনুগত সামন্ত। তার চতুর্থ পুরুষ জালাল খাঁ মোগলদের আনুগত্য মেনে নেন এবং খাজনা দিতে সম্মত হোন। কিন্তু ১৭২৪ খ্রীস্টাব্দে তিনি মোগল সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। তখন দোহাজারী ঘাটির মোগল ফৌজদার কৃষাণ চাঁদ তার বিরুদ্ধে অভিযান করেন। ফলে বিদ্রোহীরা পরাজিত, পর্যুদুস্ত ও আরাকানে বিতাড়িত হন। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক গবেষক সাংবাদিক আতিকুর রহমান তাঁর এক গবেষণায় লিখেছেন ........ এতদাঞ্চল প্রাচীন মুসলিম অধিকৃত এলাকা। বিস্মিত হলেও এখানকার প্রাচীন মুসলিম আধিপত্য অল্প বিস্তর ইতিাহসে বিবৃত আছে। ইতিহাসে দেখা যায় আরকানের রাজা ইঙ্গ চন্দ্র ৯৫৩ ইং সালে জৈনক ‘সুরতান’ কে তাড়া করে চট্টগ্রামের দিকে অভিযান করেছেন এবং এ অভিযানে কুমিরার কাওনিয়াছড়া পর্যন্ত দক্ষিণাঞ্চল তার দখলীভুত হয়। ‘সুরতান’ আরবি সুলতান শব্দেরই মঘী বিকৃতি। যার বাংলা প্রতিশব্দ হলো রাজা। এটাই প্রামাণ: বাংলায় মুসলিম সুলতানী আমল শুরু হওয়ার প্রায় ৩শ’ বছর আগে দক্ষিণ চট্টগ্রামে মুসলিম রাজত্বের প্রতিষ্ঠা ঘটে গিয়েছিলো। ১৩৩৯-৪০ ইং সালে সুলতান ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ্ প্রথম এ অঞ্চল বাংলা সুলতানাতের অন্তর্ভূক্ত করেন। ১৪০৬ খ্রী: সালে আরকানের রাজা নরমিখলা বর্মী রাজা কর্তৃক রাজ্যচ্যুত হন। পরে তিনি সুলতান গিয়াস উদ্দিন আজম শাহের আশ্রয় গ্রহণ করেন। ২৪ বছর পর ১৪৩২ ইং সালে সুলতান জামাল উদ্দিনের সহায়তায় তিনি তা পূণর্দখল করেন। সে অভিযান কালে দক্ষিণ চট্টগ্রামে কোন বিজাতীয় শাসন থাকলে নির্বিবাদে তা ডিঙ্গিয়ে আরকান দখল করা সম্ভব হতো না। রাজা নরমিখলার রাজ্য প্রতিরক্ষায় সুলতানের সৈন্যরা তথায় ঘাটি স্থাপন করেন। রাজ্য পরিচালনায় তখন মুসলিম আমলাদের নিযুক্ত করা হয়। ওদের সঙ্গী সাথী হয়ে আরকানের সাধারণ বাঙ্গালীরাও বিপুল সংখ্যায় যায়। এ প্রভাবে গোটা দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের সীমান্তবর্তী শঙ্খ, মাতামুহুরী ও নাফ নদী হয়ে পড়ে বাঙ্গালী মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা। পরে সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ ১৫১২ সালে গোটা চট্টগ্রাম নিজ দখলে আনেন। খোদা বখশ্ খান ছিলেন তার অধীনে দক্ষিণ চট্টগ্রাম অঞ্চলের শাসক। এ প্রশাসনিক এলাকার সদর দফতর ছিলো আলীকদম। মিঃ বারোজের মানচিত্রে এ আলীকদম রাজ্য ও খোদা বখশ্ খানের কথা পরিষ্কার ভাবে ব্যক্ত আছে। ইতিহাসসুত্রে একথা বলা যায় যে, পার্বত্য আলীকদম উপজেলা পার্বত্যাঞ্চলের ইতিহাসের উপজীব্য। এখানকার বিলুপ্তপ্রায় আলীর সুড়ঙ্গ ছাড়াও রয়েছে বেশ কয়েকটি প্রাচীন পুকুর। তাছাড়া এখানকার নয়াপাড়া গ্রামে প্রাচীন ইটভাটার অস্তিত্ব এখনো বিদ্যমান। যা বর্তমানে নয়াপাড়া সরকারী প্রাঃ বিদ্যালয়ের দক্ষিণ-পূর্ব পার্শ্বে একটি ব্যক্তি মালিকানাধীন বসতভিটা। গত ২৪ অক্টোবর/১৯৯৯ ইং সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক গ্রন্থপ্রণেতা গবেষক আতিকুর রহমান সহ স্থানীয় সাংবাদিকরা ঐ এলাকায় মাটি খুঁড়ে ইট আবিস্কার করেছেন। আবিস্কৃত ইটগুলোর গঠনপ্রণালীতে সুলতানী আমলের ইট বলে অনুমিত হয়। উদ্ধারকৃত ইটিগুলো দৈঘ সাত ইঞ্চি প্রস্থে সাড়ে চার ইঞ্চি আর পুরো দেড় ইঞ্চি মাত্র। প্রস্তের দ্বিগুণ j¤^v হলে ৯ ইঞ্চি হওয়ার কথা। সম্ভবত ক্ষয় হয়ে যাওয়ায় এমনটি হয়েছে। আবিস্কৃত ইটগুলো বর্তমানে আলীকদম প্রেসক্লাবে রক্ষিত আছে। তথ্যসূত্র: গিরিনন্দিনী আলীকদম, প্রকাশকাল: একুশে বইমেলা ২০০৮।
[সম্পাদনা] জনসংখ্যার উপাত্ত
২০০১ সালের আদম শুমারী অনুযায়ী আলীকদম উপজেলা মোট জনসংখ্যার পরিমাণ- ৩৪,০০২ জন। এর মধ্যে পুরুষের সংখ্যা- ১৮ হাজার ৬ শত ৯২ জন এবং মহিলার সংখ্যা- ১৫ হাজার ৩ শত ১০ জন। তবে বেসরকারী তথ্যমতে এ উপজেলার জনসংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার হবে। জনসংখ্যার বন্টন : সমপ্রদার পুরুষ মহিলা মোট মুসলিম ১০,৪১১ জন ৮,৫১৩ জন ১৮,৯২৪ জন হিন্দু ৫৮৫ জন ৪৭৪ জন ১,০৫৯ জন মুরুং ৪২২২ জন ৩৩৫৪ জন ৭৬৭৬ জন মার্মা ১৬৭৫ জন ১৩৭১ জন ৩০৪৬ জন ত্রিপুরা ৯০১ জন ৭৩৯ জন ১৬৪০ জন তঞ্চঙ্গা ৬৪৪ জন ৫৫২ জন ১১৯৬ জন চাকমা ২১৪ জন ১৭৫ জন ৩৮৯ জন বড়ুয়া ৪০ জন ৩২ জন ৭২ জন
তথ্যসূত্র: গিরিনন্দিনী আলীকদম, লেখক- মমতাজ উদ্দিন আহমদ, প্রকাশকাল: একুশে বইমেলা ২০০৮।
[সম্পাদনা] শিক্ষা
গ্রন্থনায়: মমতাজ উদ্দিন আহমদ (সাংবাদিক), আলীকদম, বান্দরবান: পার্বত্য আলীকদম উপজেলায় স্বাধনতা পূর্ববর্তী কাল থেকেই প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার সূচনা হয়। ১৯৬০ সালে ‘আলীকদম প্রাথমিক বিদ্যালয়’ বর্তমান আলীকদম আদর্শ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়’টির গোড়াপত্তন ঘটেছিল। এ উপজেলা শিক্ষাক্ষেত্রে খুবই অনগ্রসর জনপদ। আধুনিক বিশ্বে বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তির চরম উৎকর্ষতার এ যুগে শিক্ষিত সমাজ সৃষ্টি না হলে দারিদ্র বিমোচন থেকে শুরু করে কোন পরিকল্পনা প্রণয়ন, উন্নয়ন বাস্তবায়ন, সংস্কৃতি ও শিল্প-সাহিত্য চর্চাকে এগিয়ে নেওয়া অসম্ভব। অথচ এখানে একটি সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়, একটি বেসরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও একটি দাখিল মাদ্রাসা রয়েছে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে। বাস্তবতার নিরিখে বলতে হয়, এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমুহের লেখাপড়ার মান ও পরিবেশ কাঙ্খিতমানের নয়। দু:খজনক হলেও সত্য যে, এতদাঞ্চলের ছাত্র-ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষার জন্য কলেজ না থাকায় দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীরা অধিকন্তু উচ্চ শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। তবে আশার কথা যে, আলীকদম জোনের সাবেক অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল আবুল কালাম আজাদ, পিএসসি, এলএসসি’র উৎসাহ-উদ্দীপনায় স্থানীয় শিক্ষানুরাগীদের দাবীর প্রেক্ষিতে ‘আলীকদম মৈত্রী জুনিয়র হাইস্কুল (প্রস্তাবিত স্কুল এন্ড কলেজ)’ নামে আরো একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গোড়াপত্তন হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটিকে স্কুল এন্ড কলেজে উন্নীত করা গেলে এ জনপদের শিক্ষার মান আরো বৃদ্ধি পাবে বলে আমরা আশাবাদী।
উপজেলার শিক্ষিতের হার বাংলাদেশের সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে আলীকদম উপজেলার শিক্ষার হার তুলনামূলক কম হলেও হতাশাজনক নয়। পুরো উপজেলায় শিক্ষিতের হার ২২%। এর মধ্যে শিক্ষিত পুরুষের হার ১২.০৯% ও মহিলা শিক্ষিতের হার ০৯.৯১%। সরকারী ও এনজিও পর্যায়ে শিক্ষা কার্যক্রম আলীকদম এ দেশের একটি পশ্চাৎপদ উপজেলা। দেশের অপরাপর পশ্চাৎপদ উপজেলার ন্যায় এ উপজেলার শিক্ষার মান সন্তোষজনক নয়। তাছাড়া পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে এলাকার জনগোষ্ঠী হত-দরিদ্র। আলীকদম উপজেলায় উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই। মাধ্যমিক পর্যায়ে রয়েছে ৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এরমধ্যে আলীকদম সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়, আলীকদম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, চৈক্ষ্যং উচ্চ বিদ্যালয়, আলীকদম ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা ও আলীকদম আবাসিক উপজাতীয় বিদ্যালয়। একমাত্র সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়টি ১৯৭৬ সালে নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে এবং ১৯৮৬ সালে মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে ¯^xK…wZ লাভ করে। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ১৯৮৯ সালে আলীকদমে এক জনসভায় বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের ঘোষণা দেন। এখানে উল্লেখ্য যে, বিদ্যালয়টির ক্রমউন্নয়নে তৎকালীন আলীকদম জোন কমান্ডার কর্ণেল মোঃ শাহজাহান মিয়া (অবঃ), কর্ণেল মিজবাউর রহমান (মরহুম), আলীকদমের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আবু জাফর, সাবেক আলীকদম ইউ.পি চেয়ারম্যান আলীমুদ্দিন, সমাজসেবী হাজী মরহুম ছাবের আহামদ, সাবেক ইউ.পি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন, মাস্টার আব্দুল ওয়াহেদ ভূঁইয়া, থোয়াইউগ্য হেডম্যান, লামার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলী মিয়া, মরহুম আহমদ কবির, সাবেক বোমাং সার্কেলের রাজা ¯^Mx©q মংশৈপ্রু চৌধুরী, সাবেক স্থানীয় সরকার পরিষদের চেয়ারম্যান সাচিংপ্রু জেরী প্রমূখ। উপজেলার একমাত্র সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়টি মূলতঃ স্থানীয় বাঙ্গালী-পাহাড়ী জনগোষ্ঠীর ছেলেমেয়েদের অধিকন্তু মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা সুযোগ করে দিচ্ছে। মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়টি ১৯৯১ সালে আলীকদম সেনা জোন ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে এবং ১৯৯৪ সালে মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় হিসেবে ¯^xK…wZ পায়। অপরদিকে, ১৯৭৮ ইং সালে এতাদাঞ্চলের বিশিষ্ট ধর্মজ্ঞানশিক্ষানুরাগী মরহুম মাওলানা আবুল কালাম আজাদের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠা লাভ করে আলীকদম ইসলামীয়া দাখিল মাদারাসা। মাদ্রাসাটি সরকারী নিবন্ধনভূক্ত। এছাড়া আলীকদম ফয়জুল উলুম ও এতিমখানা নামে অপর একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়ন অবকাঠামো বিনির্মাণ প্রচেষ্টায় সদা প্রাণোচ্ছ্বল পরিচালক মাওলানা শামশুল হুদা সিদ্দিকীর অক্লান্ত ত্যাগ ও শ্রম স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ১৯৮৬ইং সালে এ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটির গোড়াপত্তন হয়। মাদরাসাটির প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন মাওলানা আফছার উদ্দিন ও মাওলানা আব্দুল হক। সে সময় এলাকাবাসীর পাশাপাশি তাঁদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন পটিয়া জামেয়া ইসলামিয়া মাদরাসার সাবেক পরিচালক আল্লামা হাজী ইউনুচ, হাটহাজারী দারুল উলুম মাদরাসার পরিচালক আহমদ শফী প্রমুখ। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি সমগ্র এলাকায় দ্বীনি শিক্ষার আলোক শিখা ছড়িয়ে আধুনিক শিক্ষার mgš^q সাধন করে সমাজে তাহজিব, তামুদ্দুন ও ইসলামী মূল্যবোধ সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অপরদিকে, আলীকদমের রেপারপাড়িতে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড একটি আবাসিক মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিচালনা করছে। বিদ্যালয় মারাইংতং (মিরিঞ্জা) পাহাড়ের পাদদেশে ১১ একর জায়গায় সবুজাভ প্রকৃতির এক নির্মল পরিবেশে ১৯৯১ইং সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিদ্যালয়টি উপজাতীয় ছেলেমেয়েদের শিক্ষার্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলছে। অপরদিকে, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত ১ম শ্রেণী হতে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত আলীকদম উপজাতিয় আবাসিক বিদ্যালয়ে পশ্চাৎপদ উপজাতিয় ছেলে-মেয়েদেরকে বিনামূল্যে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষাসামগ্রী, চিকিৎসা ও সুশিক্ষার মাধ্যমে আধুনিক সভ্যতার সাথে পরিচয় করে আত্মনির্ভরশীল জাতিতে পরিণত করাই বিদ্যালয়টির উদ্দেশ্য। তবে একই পরিবেশে পাহাড়ী-বাঙ্গালী দু’সমপ্রদায়ের ছেলে-মেয়েরা বসবাস করলেও উক্ত স্কুলে কোন বাঙ্গালী ছেলে-মেয়েদের পড়ার অধিকার নেই। সরকারের এ বৈষম্যনীতি দুরিকরণ সময়ের দাবী। পার্বত্য আলীকদম উপজেলা অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া জনপদ হওয়ায় এখানকার শিক্ষার্থীর সিংহভাগ অভিভাবকই আর্থিকভাবে A¯^”Qj|
শিক্ষাক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা ও বৈষম্য : আলীকদম উপজেলার শিক্ষাউন্নয়নে স্থানীয় নেতৃত্বের আত্মকেন্দ্রীকতা, হীনমন্যতা, অসচেতনা, অদুরদর্র্শীতা, খেয়ালীপনা সর্বোপরি অজ্ঞ নেতত্বের বিরূপ প্রতিচ্ছায়ায় এখানকার বিদ্যালয়সমুহের শিক্ষার পরিবেশ বিমূর্ত। কাঙ্খিত মানের শিক্ষা থেকেও বঞ্চিত এ প্রজন্মের সিংহভাগ অংশ। এখানকার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমুহের অধিকাংশের লেখাপড়ার মান ‘নামে তালপুকুর হলেও তাতে ঘটি ডুবেনা’ অবস্থা। এ উপজেলা নারী শিক্ষার একমাত্র বাহন আলীকদম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টির অবস্থাও তথৈবচ। নারী শিক্ষা সুতিকাগার হিসেবে বিদ্যালয়টি নব্বই দশকে যাত্রা শুরু করলেও শিক্ষক ও এলাকাবাসীর মধ্যে mgš^qnxbZv ও নির্লিপ্ততায় শিক্ষাঙ্গনটির অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করছে।
প্রাথমিক বিদ্যালয় ও এর শিক্ষার মান পরিসংখ্যনে জানা যায়, আলীকদম উপজেলায় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৪ টি, বেসরকারী রেজিঃ প্রাথমিক বিদ্যালয় ০৮ টি, আনরেজিঃ বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়- ০১ টি, স্যাটেলাইট বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়- ১০ টি, কমিউনিটি বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়- ০৩ টি, কিন্ডার গার্টেন স্কুল ০১ টি। সরকারী-বেসরকারী পর্যায়ে আলাদা কোন এবতেদায়ী মাদ্রাসা নেই। তবে গত ২০০৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এর ব্যবস্থাপনায় মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গনশিক্ষা কার্যক্রম চালু রয়েছে। এছাড়াও উপজেলার ৬টি এনজিও’র মধ্যে শিক্ষার জন্য কাজ করেন- ব্র্যাক, প্রশিকা, কারিতাস ও তৈমু। উপজেলায় ১৫টি ব্র্যাক স্কুল রয়েছে।
দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, পার্বত্য এ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষার মানের ক্ষেত্রে বিগত বছরগুলো চালচিত্র মোটেও সন্তোষজনক নয়। ২০০৬ ও ২০০৭ সালের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার ফলাফলের দিকে থাকালে তা স্পষ্ট হবে। তবে দু’একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ফলাফল অর্জনের ক্ষেত্রে নিজেদের পারঙ্গমতা দেখিয়েছেন।
২০০৭ সালের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার ফলাফল হতাশাব্যঞ্জক।পাশের হার ছিল মাত্র ৫৬.৯৬%। এরমধ্যে ৩টি স্কুল থেকে কোন ছাত্র-ছাত্রীই পাস করতে পারেনি। ২৪টি বিদ্যালয়ের মাঝে একটি মাত্র বিদ্যালয় শতভাগ ছাত্র-ছাত্রী পাশ করানোর কৃতিত্ব অর্জন করে। ’০৭ সালে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় ২৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৩১৬ জন শিক্ষার্থী। পরীক্ষায় উপস্থিতির হার ছিল ৯৩.৭৬। পরীক্ষায় অংশ নেয়া ছাত্রদের মধ্যে পাশে করেছে মাত্র ১০৫ জন এবং ছাত্রী ৭৫ জন। সবমিলিয়ে পাশের হার মাত্র ৫৬.৯৬%। পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, ছাত্রদের চেয়ে ছাত্রীরা পিছিয়ে আছে। গড় পাশের হারে ছাত্র ৬৭.৭৪% এবং ছাত্রী ৪৬.৫৮%।এ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষাক্ষেত্রে নানা অসুবিধার মধ্যে কর্তৃপক্ষেরও কিছু নেতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। এরমধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হলো- কিছু সংখ্যক শিক্ষককে বছরে পর বছর ধরে দুরবর্তী স্কুল সমুহে রেখে দিলেও কিছু শিক্ষককে উপজেলা সদর কেন্দ্রীক স্কুলগুলোতেই নিয়োজিত রাখা হয়েছে। দুরবর্তী স্কুলের শিক্ষকরা যাতায়াত ভাড়া দিতে দিতে মাসিক বেতনের অর্ধেক টাকা শেষ হয়ে যায়। পর্যবেক্ষক মহল মনে করেন, উপজেলার অভ্যন্তরে কাছের ও দুরের শিক্ষকদের মধ্যে নিয়োগ-বদলী বাস্তবায়ন করা জরুরী। অন্যথায় শিক্ষকদের পাঠদানে আন্তরিকতা সৃষ্টি হবেনা।
কর্মসংস্থানহীন এ উপজেলায় অনেক পরিবারের শিশুরা স্কুলে বিমুখ রয়েছে। যদিও সদাশয় সরকার ‘সবার জন্য শিক্ষা কর্মসূচী’ বাস্তবায়নে আন্তরিক। সরকারী প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমুহে ঝরে পড়ে শিশুর সংখ্যা অনেক। অত্র উপজেলায় ঝরে পড়া শিশুর সংখ্যা নির্ধারণে বাস্তবসম্মত কোন জরিপ পাওয়া যায়নি। সবার জন্য শিক্ষা কর্মসূচী এ উপজেলায় তেমন অগ্রগতি নেই। উপজাতীয় মুরুং, ত্রিপুরা, মার্মা ছেলেমেয়েদের শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি কয়েকটি এনজিও কাজ করে যাচ্ছে। তবে সরকারী ও এনজিওদের শিক্ষা সুযোগ থেকে এখানকার দরিদ্র বাঙ্গালী ছেলে মেয়েরা বঞ্চিত রয়েছে। একই আবহাওয়া ও পরিবেশে বেড়ে উঠা ছেলেমেয়েদের মাঝে দ্বিমুখী শিক্ষা ব্যবস্থার সুযোগ বাঙ্গালী শিশুদের সাথে বৈরী আচরণ করা হচ্ছে। উপজেলা অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয় দুরবর্তী প্রত্যান্ত পাহাড়ী এলাকায় হওয়ায় সে সবের শিক্ষার গুণগত মান সন্তোষজনক নয়। অধিকন্তু তদারকির অভাবে স্কুলে শিক্ষকদের অনুপস্থিতি সহ বিভিন্ন সমস্যা বিরাজ করছে।
প্রস্তাবনাঃ উপজেলার সামগ্রিক শিক্ষার মানোন্নয়ন কল্পে এক প্রস্তাবনায় দেখা গেছে, বেশ কতিপয় অসংগতির বিষয়। সে সবের বাস্তবায়ন করা গেলে প্রাথমিক শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নতির আশা করা যায়। এগুলি হলোঃ 1) বিদ্যালয় সমুহের শুণ্য পদ পুরণ, 2) নীতিমালা মোতাবেক ছাত্র সংখ্যার অনুপাতে শিক্ষক পদ সংখ্যা বাড়ানো। 3) উপবৃত্তির পরিমাণ ৪০% থেকে ৮০% উন্নীত করা। 4) প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অফিস সহকারী’র পদসৃষ্টি করে প্রধান শিক্ষককে পাঠদান কার্যক্রমে মনযোগী হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা। 5) শিক্ষকদের পাঠদানে অধিকতর মনোনিবেশে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ। 6) পাঠ্যসূচীতে এমন একটি বিষয় অন্তর্ভূক্তি করা যাতে করে ছেলে মেয়েরা স্কুলে যেতে অধিকতর আগ্রহী হয়। 7) বিদ্যালয় সমুহের আসবাবপত্র সংকট নিরসন করা। 8) এতিমখানাগুলোতে ক্যাপাসিট্যান্টগ্রান্ড বাড়ানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। 9) বিদ্যালয়সমুহের মাঠ উন্নয়নের মাধ্যমে ছাত্র/ছাত্রীদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করা। 10) শিক্ষক নিয়োগে ¯^RbcÖxwZ ও রাজনীতিকরণ বন্ধ রেখে মেধার মূল্যায়ন করে নিয়োগ প্রদান করা। এছাড়া অত্র উপজেলায় নুরানী শিক্ষা নামে যে সব প্রতিষ্ঠান মসজিদ ভিত্তিক গড়ে উঠেছে এগুলির শিক্ষার মানের সাথে সরকারী নীতিমালা অনুসরণ করা প্রয়োজন। এ সব প্রতিষ্ঠানে কোন আধুনিক উপকরণ তথা চেয়ার, টেবিল নেই। শিশুরা ফ্লোরে বসে শিক্ষা গ্রহণ করে থাকে। সরকারীভাবে এসব প্রতিষ্ঠানকে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করা দরকার।
সরকারী-বেসরকারী মাধ্যমিক স্কুল ও মাদ্রাসার সংখ্যা; এবং প্রদত্ত শিক্ষার মান জাতীর সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য শিক্ষার বিকল্প নেই। উপজেলায় মাধ্যমিক স্তরের সরকারী-বেসরকারী স্কুল মাদ্রাসার শিক্ষার মান সন্তোষ জনক নয়। অত্র উপজেলায় ০১ টি সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়, ০১ টি বেসরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও ০২ টি নিন্ম মাধ্যমিক স্কুল মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার প্রসারে অবদান রেখে আসছে। অপরক্ষেত্রে ০১ টি দাখিল মাদ্রসা ও ০১ টি কওমী মাদ্রাসা এ উপজেলার শিক্ষা বিস্তারে mgš^q সাধন করে চলছে। এছাড়া পশ্চাৎপদ উপজাতীয় শিক্ষার জন্য এনজিও কর্তৃক পরিচালিত কয়েক আবাসিক হোস্টেল রয়েছে। আলীকদম সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে বিগত কয়েক বছর ধরে এসএসসি পরীক্ষায় ফল বিপর্যয় লক্ষনীয়। স্কুলটিতে শিক্ষক শূন্যতা বিরাজমান। শূন্যপদ পূরণ করে বিদ্যালয়টির আমুল পরিবর্তন আনা বর্তমানে সময়ে দাবী হয়ে উঠেছে। অপরদিকে, দাখিল মাদ্রাসাটির শিক্ষার মানও সন্তোষজনক নয়। বেসরকারী পর্যায়ে ২টি নিন্ম মাধ্যমিক স্কুল থাকলেও এ দু’টি প্রতিষ্ঠানের প্রদত্ত শিক্ষার মান আশাব্যঞ্জক নয়। উপজেলা মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার একমাত্র বাহন উপরোক্ত বিদ্যালয়গুলো।
প্রস্তাবনা: বিভিন্ন বিদ্যালয়ে যে সব শিক্ষক-কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে রয়েছেন তাদের কে অন্যত্র বদলীর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। শিক্ষার মানোন্নয়ন কল্পে দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ ও শুন্যপদ পুরণ করা অপরিহার্য। আলীকদম সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়কে দ্বাদশ শ্রেণী এবং দাখিল মাদ্রাসাটিকে ফাজিল পর্যন্ত চালু করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
সরকারী-বেসরকারী কলেজ ও সিনিয়র মাদ্রাসা এবং ঝরে পড়া ছাত্র/ছাত্রী
দেশ ¯^vax‡bi ৩৭ বছর পরেও পার্বত্য এ উপজেলায় কোন কলেজ ও সিনিয়র মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এক্ষেত্রে এলাকার শিক্ষানুরগী মহলের সদিচ্ছার অভাব রয়েছে বলে প্রতিয়মান হয়। যার ফলশ্রুতিতে এ উপজেলার শিক্ষার্থীরা মাধ্যমিক স্তর পার হয়েও অন্যান্য উপজেলায় পাড়ি জমাতে হয়। আর্থিক দৈন্যতার কারণে অনেক গরীব মা-বাবারা সন্তানদেরকে বাহিরে পাঠিয়ে শিক্ষার সুযোগ করে দিতে অপারগ। এ কারণে উচ্চ শিক্ষাক্ষেত্রে তুলনামূলক পিছিয়ে আছে এ উপজেলা। ১৯৭৬ ইং সালে আলীকদম উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা লাভ করে শিক্ষাক্ষেত্রে পশ্চাৎপদ এ উপজেলাকে অন্ধকার থেকে আলোতে নিয়ে এসেছিল। পাহাড়ী-বাঙ্গালী জনগোষ্ঠীর ছেলেমেয়েদের শিক্ষার আলো দানে এ স্কুলটির অবদান অতিব গুরুত্বের দাবীদার। স্কুলটি নানা প্রতিকুলতা কাটিয়ে বর্তমানে পুর্ণ সরকারী সুযোগ সুবিধা ভোগ করে যাচ্ছে। এ স্কুলটিকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যায়ে উন্নীত করা হলে এখানকার পাহাড়ী-বাঙ্গালী ছাত্র/ছাত্রীরা উচ্চ শিক্ষায় একদাপ এগিয়ে যেতো। ইতোপূর্বে স্থানীয় পর্যায়ে কলেজ প্রতিষ্ঠার নামে অনেকে উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু সে সব উদ্যোগ ¯^v_© সংশ্লিষ্ট সংঘাতে মুখ থুবড়ে পড়ে। বর্তমানেও এধরণের একটি প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
বিগত ১৯৭৮ ইং সালে ধর্মজ্ঞানশিক্ষানুরাগী মাওঃ আবুল কালাম আজাদ নিরলস প্রচেষ্ঠায় আলীকদম ইসলামিয়া মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন। পরে মাদ্রাসাটি দাখিল পর্যায়ে উন্নীত হয়। বর্তমানে আধা সরকারী প্রতিষ্ঠান হিসাবে আধুনিক ও দ্বীনি শিক্ষা বিস্তারে অবদান রাখছে। মাদ্রাসাটিতে যোগ্য শিক্ষকের অভাব রয়েছে বলে জানা যায়। মাদ্রাসাটিকে ফাজিল মানে উন্নীত করলে উপজেলায় শিক্ষার বিস্তারের পাশাপাশি এলাকার দরিদ্র অভিভাবকদের বাড়তি অর্থনৈতিক বোঝা কমে যেতো।
প্রাইমারি ও স্কুল পর্যায়ে এ উপজেলায় ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের (উৎড়ঢ় ড়ঁঃ ংঃঁফবহঃং) সংখ্যা এ উপজেলায় উল্লেখ করার মতো। এলাকার অর্থনৈতিকভাবে A¯^”Qj পিতা-মাতারা তাদের সন্তানদের প্রয়োজনীয় শিক্ষার পরিবেশ ও সুযোগ করে দিতে অপারগ। উপজেলায় কোন কলেজ বা সিনিয়র মাদরাসা নেই। ফলে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা সমাপ্ত করে ছাত্র/ছাত্রীরা মা-বাবার গলগ্রহ হিসাবে দেখা দেয়। কর্মসংস্থানও তেমন গড়ে না উঠায় অধিকন্ত শিক্ষিত বেকারের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। এক্ষেত্রে ছেলে-মেয়ের হার সমান হবে বলে অনুমেয়।
শিক্ষাক্ষেত্রে নবদিগন্তের দ্বার উন্মোচন: ‘আলীকদম মৈত্রী জুনিয়র হাইস্কুল প্রতিষ্ঠা’ ঃ গত ১৯ wW‡m¤^i ২০০৭ খ্রিস্টাব্দে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানাজামা লুসাই প্রথম আলীকদম সফরে আসলে স্থানীয় জনগণের পক্ষে মোঃ কালাম চেয়ারম্যান, মোহাম্মদ আবু হানিফ ও মাওলানা শামশুল হুদা সিদ্দিকীর দাবীর প্রেক্ষিতে তিনি একটি নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় নির্মাণে ৫ লক্ষ টাকা অনুদানের আশ্বাস দেন। এ ধারাবাহিকতায় চলতি ২০০৮ সালের জানুয়ারী মাসে আলীকদম জোন কমান্ডার লেঃ কর্ণেল আবুল কালাম আজাদ ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমল কৃষ্ণ মন্ডল এর উৎসাহ-উদ্দীপনায় বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠায় স্থানীয় কতিপয় শিক্ষানুরাগী মহল এগিয়ে আসেন। ফলশ্রুতিতে গত ১৭ জানুয়ারী উপজেলা সদর এলাকায় জোন কমান্ডার কর্তৃক প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শনের মাধ্যমে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার দ্বার উন্মোচন হয়। স্কুলটির গোড়াপত্তনের ফলে নিম্ন মাধ্যমিক শিক্ষার সুযোগ থেকে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ করা যাবে।
স্কুলটি প্রতিষ্ঠা কল্পে এক মতিবিনিময় সভায় গত ১৭ জানুয়ারী আলীকদম প্রেসক্লাবে মানবাধিকার কর্মী রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম মতবিনিময় সভাটিতে নিম্নোক্ত ব্যক্তিদের নাম ¯^v‡ii ক্রমানুসারে দেয়া হলো:- অংশেথোয়াই মার্মা, সাতুল বড়ুয়া, আব্দুল মতিন †g¤^vi, আবুল বশর, মমতাজ উদ্দিন আহমদ, আবু শামা, মোহাম্মদ আবু হানিফ, মোহাম্মদ মহি উদ্দিন, মোহাম্মদ আবু ছৈয়দ, এসএম ইসমাইল হাসান, মংফোঞাই ‡g¤^vi, আবুল হাসেম, মোঃ কামাল উদ্দিন, ওমর ফারুক বাপ্পী প্রমুখ। সভায় আলীকদম জোন কমান্ডার লেঃ কর্ণেল আবুল কালাম আজাদ, পিএসসি, এলএসসি ও আলীকদম উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমল কৃষ্ণ মন্ডলকে প্রধান উপদেষ্টা ও পৃষ্ঠপোষক করে ২৬ সদস্যের ‘উপদেষ্টা কমিটি’ এবং মোহাম্মদ আবু হানিফকে আহ্বায়ক ও মমতাজ উদ্দিন আহমদকে সদস্য সচিব করে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট ‘স্কুল বাস্তবায়ন কমিটি’ গঠিত হয়।
প্রস্তাবনাঃ এ উপজেলায় উচ্চ শিক্ষার প্রসারে উক্ত জুনিয়র হাইস্কুলটিকে স্কুল এন্ড কলেজে রূপান্তরিত করা গেলে এ উপজেলার শিক্ষার প্রসার আরো বৃদ্ধি পাবে এবং দরিদ্র মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীরা উচ্চ শিক্ষার সুযোগ পাবে। এ ব্যাপারে প্রশাসনসহ শিক্ষানুরাগী সকলকে উদ্যোগী হতে হবে।
তথ্যসূত্র: গিরিনন্দিনী আলীকদম, লেখক- মমতাজ উদ্দিন আহমদ, প্রকাশকাল: একুশে বইমেলা ২০০৮।
[সম্পাদনা] অর্থনীতি
আলীকদমের অর্থনীতি
গ্রন্থনায়: মমতাজ উদ্দিন আহমদ (সাংবাদিক), আলীকদম, বান্দরবান: এ উপজেলার পাহাড়ী-বাঙ্গালী জন সমাজের ঘূর্ণিয়মান অর্থনীতির চাকা এখনো ধীরলয়ে চলছে। বসবাসরত সিংহভাগ লোকজন অর্থনৈতিকভাবে ¯^qsm¤ú~Y©Zv এখনো পায়নি। পাহাড়ী ভূমিতে জুম চাষ করে অধিকাংশ উপজাতীয় লোকজন জীবিকা নির্বাহ করেন। সেই আদিম পদ্ধতিতে জুম চাষের মাধ্যমে জীবিকা আহরণ করে এলাকার সবুজ পাহাড়কে শ্মশানের ছাইয়ে পরিণত করলেও অর্থনীতিতে পরিবর্তন আসেনি তাদের। অপরদিকে, বাঙ্গালী জন সমাজেও খেটে খাওয়া লোকের সংখ্যা বেশী। পাহাড়ের বাঁশ-কাঠ কেটে জঠর জ্বালা মিটালেও তাদের অর্থনীতির চাকা মাঝে মধ্যে থমকে দাড়ায় পারিপার্শ্বিক বিভিন্ন বিধি-নিষিধের কারণে। অর্থনৈতিকভাবে পশ্চাৎপদ পার্বত্য এ ভূখন্ডের একটি চিত্র ফুটে উঠেছে এখানকার ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক উচ্চত মনি তঞ্চঙ্গ্যার উপলব্ধিজাত নিন্মোক্ত কবিতায়- “প্রকৃতির যক্ষঃপুরে থাকি তথাপি আমি যে wbt¯^; কান্তারে কান্ডারী। ওরা লুঠে নেয় সব- দুরে গড়ে অট্টালিকা- অমরাবতী নগর। আর নয় লুঠেরা, দাও ফিরিয়ে আমার শৈলকুঞ্জখানি; বিশুদ্ধ সমীরে এনে দাও- বিহঙ্গ কাকলী।” স্থানীয় লোকজন সামপ্রতিককালে ব্যবসা-বাণিজ্যে কিছুটা অগ্রসর হয়েছে। উপজেলাবাসীর অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরকারী পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য তেমন কোন সুযোগ সৃষ্টি করা হয়নি। এলাকার সুষম উন্নয়নে স্থানীয় নেতৃত্বের উল্লেখযোগ্য কোন কর্মপরিকল্পনা দেখা যায় না। রাজনৈতিক হানাহানি ও আইন শৃঙ্খলায় তেমন কোন বিরূপ প্রভাব না পড়লেও অর্থনৈতিক উন্নয়ন কর্মকান্ডে আন্তরিকতার অভাব রয়েছে সর্বস্তরে। এখানকার বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর জীবনমান কার্যত: সেই তিমিরেই রয়ে গেছে। এক সমীক্ষায় দেখা জানা গেছে, পার্বত্য এ উপজেলায় চা-শিল্প গড়ে উঠার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। দারিদ্র বিমোচনের উদ্দেশ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর্থিক সহায়তায় তিন পার্বত্য জেলার সাথে অত্র উপজেলায়ও ক্ষুদ্রায়তন চা-চাষ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। চা-চাষের নিমিত্তে বাংলাদেশ চা বোর্ড কর্তৃক একটি mgwš^Z সম্ভ্যবতা সমীক্ষাও ইতিমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। পার্বত্য আলীকদম উপজেলায় ৩৩ হাজার ৯ শত ৯৯ একর অশ্রেণীভূক্ত বনভূমিতে চা-চাষ করার উজ্জ্বল সম্ভাবনা থাকার পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়নের বহুবিধ উজ্জ্বল সম্ভাবনা থাকা সত্বেও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছেনা বলে জানা যায়। সামপ্রতিক বছরগুলোতে রাবার বাগান, হর্টিকালচার ও অন্যান্য ফলজ বাগান সৃষ্টির ক্ষেত্রে ব্যক্তি ও মৈত্রী কার্যক্রমের আওতায় গতিশীলতা এসেছে। ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকলে এ জনপদের মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অদুর ভবিষ্যতে আশাব্যঞ্জক ফল দেবে বলে আশা করা যায়। এ উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থানরত বাঙ্গালী এবং পাহাড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা উপজাতীয় পরিবারগুলোকে সহজে গমণযোগ্য এলাকায় পূনর্বাসন করার প্রয়োজন রয়েছে। তাদেরকে সমপ্রদায় ভিত্তিক পুনর্বাসন করলে আর্থ সামাজিক উন্নয়ন করা যেতে পারে। পুনর্বাসিতদেরকে নীতিসংগতভাবে খাস জমি বন্দোবস্তির মাধ্যমে ¯^Z¡ প্রদান করা যেতে পারে। এতে করে এলাকার অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় উন্নতি সাধন করা সম্ভব হবে বলে অনুমেয়। পুনর্বাসিত এলাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ¯^v¯’¨ কেন্দ্র স্থাপন করে তাদের সামগ্রিক উন্নয়নে সুযোগ সৃষ্টি করা যেতে পারে। তাছাড়াও সমবায় ভিত্তিক হাঁস-মুরগী ও গবাদি পশু পালন, ঝিরিতে বাঁধ নির্মাণ, পুকুর খনন প্রকল্প ও তাঁত শিল্পে ক্ষুদ্র ঋণদান প্রভৃতি প্রকল্পের মাধ্যমে এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের সুযোগ করা যাবে বলে ধারণা করা হয়। প্রত্যন্ত এলাকায় বসবাসকারীদেরকে কমিউনিটি ভিলেজের মাধ্যমে একত্রিত করে তাদের জীবন মান উন্নয়নেও পদক্ষেপ নেয়া যায়। সমপ্রদায় ভিত্তিক আশ্রয়ান প্রকল্প গ্রহণ করা হলে দুর্গম এলাকায় বসবাসকারীদের কষ্ট লাগব হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশও রক্ষা পেতো।
তথ্যসূত্র: গিরিনন্দিনী আলীকদম, লেখক- মমতাজ উদ্দিন আহমদ, প্রকাশকাল: একুশে বইমেলা ২০০৮।
[সম্পাদনা] কৃতী ব্যক্তিত্ব
আলীকদমের বড় হুজুর” ধর্মজ্ঞানশিক্ষানুরাগী মাওলানা আবুল কালাম আজাদ
গ্রন্থনায়: মমতাজ উদ্দিন আহমদ (সাংবাদিক), আলীকদম, বান্দরবান: গোধুলী লগ্নের শান্ত বেলায় ফুটা কোন ফুল বা নীল অপরাজিতার মতই সংক্ষিপ্ত মানব জীবন। সুর্যের প্রদীপ্ত আভায় ফোটা কোন ফুল যেমনি বিশেষ সন্ধিক্ষণে ঝরে গিয়ে বিলিয়ে যায় অতৃপ্ত সৌরভ; ঠিক তেমনি কিছু মানুষ পৃথিবীতে রেখে যায় ব্যক্তিত্বের পুষ্পিত গৌরব। মরহুম মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ছিলেন এমনই এক আলোক প্রভা, যিনি ব্যক্তিত্বের গুণ, তীক্ষ্ণ ধীশক্তি, অকৃত্রিম মমতা বলে অমর হয়ে থাকবেন মানুষের স্মৃতির আঙিনায়। রাতের আকাশে লক্ষ তারা যেমনি হারিয়ে যায় প্রভাতের রক্তিমাভ সূর্যের স্পর্শ্বে, তেমনি মানব জীবনের এক একটি মূহুর্ত ক্রমহ্রাসিত হয় জীবনের উত্থাল ঢেউয়ের বিক্ষুব্ধ তরঙ্গে। প্রখর সূর্যের প্রদীপ্ত তেজে রাতের লক্ষ তারা হারিয়ে হারিয়ে গেলেও শুকতারাটি যেমনি হারিয়ে যায়না, তেমনি কিছু মানুষের মায়াবী চেহারা ভেসে থাকে ভক্তজনের স্মৃতির আকাশে। এসব মানুষ কে ইচ্ছায় ভোলা যায় না। তাদের স্মরণই গতি, বিস্মৃতি হলো নিস্তব্ধতা। আর এ গতির অনুগামী বলেই স্মরণ করছি পার্বত্য জনপদ আলীকদমের বিশিষ্ট আলেম, ইসলামী বিদ্যাপীঠের সার্থক রূপকার মরহুম মাওলানা আবুল কালাম আজাদ কে। বাল্য ও শিক্ষা জীবনঃ মরহুম মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ১৯৪১ সালে চকরিয়া উপজেলাধীন কাকারা ইউনিয়নের মাইজপাড়া (লোটনী) গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মোঃ কলিমূল্লাহ আর মাতার নাম আমেনা খাতুন। বাল্য কালে মাওলানা আজাদ স্থানীয় মক্তবে দরস নেয়ার পর প্রাথমিক শিক্ষা অর্জন করেন কাকারা তাজুল উলুম মাদ্রাসায়। তৎপরবর্তীতে চকরিয়া আনওয়ারুল উলুম (সাহারবিল) মাদ্রাসার থেকে ১৯৬৩ সালে দাখিল পাস ও ১৯৬৭ সালে আলিম পাস করেন। পরে উচ্চশিক্ষার জন্য মা-বাবার একান্ত ইচ্ছায় চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ ওয়াজেদীয়া আলিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হন। এ মাদ্রাসা হতে বিদ্যা শিক্ষার পাশাপাশি তিনি একান্ত সান্নিধ্য লাভ করেন উপমহাদেশের বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা আব্দুল জব্বার (রাহ.) এর। স্মর্তব্য যে, বায়তুশ শরফের পীর মাওলানা আব্দুল জব্বার ১৯৫৪ সাল থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত একটানা ১৪ বছর ওয়াজেদিয়া আলিয়া মাদ্রাসায় হাদিস শরীফের অধ্যাপনা করেন। মাওলানা আজাদ তাঁর অনুগত ছাত্র হওয়ার সুবাদে হাদিস শাস্ত্রের উপর প্রভূত জ্ঞান শিক্ষা করার সুযোগ পান। উক্ত মাদ্রাসা হতে তিনি ১৯৭০ সালে ফাজিল পাস এবং ১৯৭২ সালে হাদিস বিভাগে কামিল পাস করেন। কর্মজীবন : ধর্মীয় শিক্ষা প্রসারে আত্মনিবেদন ঃ মাওলানা আজাদ ১৯৭২ সালে কামিল পাস করার পর অল্প কিছুদিন নিজ গ্রাম মাইজ কাকারায় অবস্থান করেন। জানা যায়, পার্বত্য বান্দরবান জেলার আলীকদম উপজেলায় তাঁর পরিবারের কৃষিকাজ ছিল। এ সুবাদে মাওলানা আজাদ ১৯৭২ সালে পারিবারিক প্রয়োজনে আলীকদম আসেন। তিনি আলীকদম উপজেলার অন্তর্বিহীন মৌন নিস্তব্দ সৌন্দর্য, ছায়াঘেরা, পাখিডাকা প্রাকৃতিক কোলাহল দেখে অভিভূত হন। এসময় পার্বত্য আলীকদমে দু’চারটি বিচ্ছিন্ন মসজিদ ছাড়া কোন প্রকার ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেনি। তিনি অনুভব করেত পারলেন এ অঞ্চলের ভবিষ্যৎ জনগোষ্ঠীর সম্ভাব্য ধর্মবিমুখতার এক বিরূপ প্রতিচ্ছবি। ধর্মীয় জ্ঞান প্রসারের একজন দিশারী হিসাবে এ বিরূপতার প্রতিচ্ছায়া তাঁর অন্তরকে নাড়া দেয়। তাঁর চিন্তা-চেতনায় আসে পরিবর্তন। পরে আলীকদম উপজেলা সদর এলাকায় অবস্থিত আলীকদম বাজার মসজিদ (বর্তমানে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ) দেখতে আসেন এবং তিনি উক্ত মসজিদে সুললিত কন্ঠের অপূর্ব উচ্চারণে একবেলা নামাজ পড়ান। জানা গেছে, সে সময়কার সমাজহিতৈষী ও প্রবীণ ব্যক্তিবর্গ তাঁর আচরণে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে উক্ত মসজিদের ইমামতির দায়িত্ব দেন। তৎমধ্যে হাজী ছাবের আহামদ চৌধুরী ও মকছুদ মিয়া চৌধুরী, হাজী আলীমুদ্দিন ও হাজী আনোয়ারুল ইসলাম এর নাম উল্লেখ্যযোগ্য। এরপর হতে এ অঞ্চলে ইসলামের সুমহান শিক্ষা ছড়ানোর মহান ব্রত নেন মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। অতঃপর তিনি মসজিদ সংলগ্ন তৎকালীন ছাবের মিয়ার দানকৃত জমির ওপর ১৯৭৮ ইং সালে একটি মক্তব চালু করেন। পার্বত্য জনপদ আলীকদমের ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা গ্রামের মুসলিম ছাত্ররা সেখানে µgvš^‡q ভর্তি হতে থাকে। সময় ও কালের চাহিদার প্রেক্ষিতে এটিকে সমপ্র্রসারণ করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। সদ্য শিক্ষা সমাপ্ত টগবগে যুবক তখন আবুল কালাম আজাদ। কর্মস্পৃহা আর প্রাণপ্রাচুর্যের ঘাটতি ছিলনা তাঁর। তখনো আলীকদমের সাথে বাইরের থানাগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল পায়ে হাটা মেটো পথ। খরস্রোতা মাতামুহুরী নদীপথেই অধিকন্তু লোকজন যাতায়াত করতো । নাজুক যোগাযোগ ব্যবস্থায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমপ্রসারণ নিয়ে তিনি মহা ফাঁপরে পড়লেন। তখনো আলীকদম ছিল সাবেক লামা থানার একটি ইউনিয়ন মাত্র। পশ্চাৎপদ এলাকার আর্থিক দৈন্যদশা ও সামাজিক A¯^”QjZv তাঁকে ভাবিয়ে তুললো। কিন্তু জ্ঞানকাননের ভ্রমরদের বিশ্রামের সময় কোথায়? এ অক্লান্ত কর্মবীর যেন ঘোষণা করলেন: ওয়াক্ত ফুসরত হে কাঁহা আভি বাকী/ নুরে তাওহীদ্ কা এতমাম বাকী হে। (নহে সমাপ্ত কর্ম তোদের, অবসর কোথা বিশ্রামের? উজ্জ্বল হয়ে ফুটেনি এখনো সুবিমল জ্যোতি তাওহীদের।) - (আল্লামা ইকবালের শেকওয়া ও জওয়াবে শেকওয়া থেকে।) বাস্তবিকই তাই। তিনি হাঁটি পা পা করে ১৯৭৮ সালে গড়া সেই মক্তবকে মাদ্রাসায় রূপান্তর করার কাজে হাত দিলেন। তৎকালীন সমাজ সেবক ও শিক্ষানুরাগীরাও যোগ দিলেন এতে। পার্বত্য জনপদ আলীকদমে ইসলামী শিক্ষা বিস্তারের এক যুগান্তকারী অধ্যায় সূচিত হলো তাঁর অকৃত্রিম সাধনায় গঠিত আলীকদম ইসলামীয়া মাদ্রাসা প্রতিস্থাপনের মধ্য দিয়ে। এ প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে পুরো পার্বত্য আলীকদম উপজেলার একমাত্র ‘দাখিল মাদ্রাসা’ হিসাবে একটি আদর্শ ও সার্থক বিদ্যাপীঠের গৌরবে সমাসীন হয়ে আছে। এ মাদ্রাসা স্থাপনের পর হতে আমৃত্যু তিনি উক্ত প্রতিষ্ঠানের ‘তত্ত্বাবধায়ক’র পদ অলংকৃত করেছিলেন। মূলত: মাওলানা আবুল কালাম আজাদ তাঁর কর্মজীবন আলীকদম ইসলামীয়া দাখিল মাদ্রাসা ও আলীকদম কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ এর পৃষ্ঠপোষকতা নিয়েই অতিবাহিত করেন। নন্দিত বক্তার ভূমিকায় ঃ মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ছিলেন একজন কর্মনিষ্ঠ আদর্শ মানুষ। তাঁর কথা ও ধর্মীয় আঙ্গিকে প্রগতিশীল জীবন যাপন অপরকে অনুপ্রেরণা যোগাতো। তিনি ইসলামের সুমহান আদর্শের কথা বিভিন্ন ওয়াজে, মাহফিলে বক্তৃতা বয়ানের মাধ্যমে পৌঁছাতেন মানুষের কর্ণকুহরে। আলীকদম ছাড়াও তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম, চকরিয়া ও কক্সবাজারসহ লোহাগাড়া, সাতকানিয়া এবং চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে মূল্যবান ওয়াজ-বক্তৃতায় কুরআন-সুন্নাহর অমিয় বাণী প্রচার করতেন। ওয়াজের সময় তাঁর সুললিত কণ্ঠের অপূর্ব সুরলহরীতে প্রজ্ঞাপূর্ণ আলোচনায় সকলে মোহিত ও মুগ্ধ হত। তিনি ছাত্রাবস্থা হতে বিভিন্ন সেমিনার-সিম্পোজিয়াম ও ওয়াজ মাহফিলে আলোচনার অভ্যাস গড়ে তুলেছিলেন। তাঁর বিবিধ আলোচনায় ইসলামের সুবিমল কথার প্রকাশ ঘটত। সকলের বড় হুজুর ঃ মাওলানা আবুল কালাম আজাদের জীবন পরিচালনা পদ্ধতি ছিল অনন্যসাধারণ। সরলতায় তিনি মহীয়ান, আন্তরিকতায় দীপ্যমান। অতিথি পরায়ণতায় তিনি ছিলেন বালকসুলভ খাদেম। তিনি অন্তরের বিশ্বাস কে মুখ দিয়ে প্রকাশ করে যেতেন অকপটে। পার্বত্য জনপদ আলীকদমের মুসলিম অ-মুসলিম ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের কাছে তিনি সমগ্রাহ্য ছিলেন ‘বড় হুজুর’ আখ্যায়। আদর্শ শিক্ষক : মুয়াল্লিমে খাইর ঃ মাওলানা আবুল কালাম আজাদ একনিষ্ঠ আদর্শ শিক্ষক ছিলেন। দাখিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার পর হতে ১৯৯৫ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত তিনি এ মাদ্রাসায় প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। প্রত্যেক ছাত্রকে সুন্নাতে রাসুলের পাবন্দ মুবাল্লিগ হিসাবে গড়ে তুলতে তাঁর প্রচেষ্টার কমতি ছিলনা। দাখিল ক্লাসের ছাত্রদের তিনি কোরআন হাদিসের দরস দিতেন নিয়মিত। অল্প সময়ে তিনি কোরআনের তাফসীর আর হাদিসের বিশদ ব্যাখ্যা ছাত্রদের বুঝিয়ে দিতেন সযত্নে। একজন সত্যিকার আলেম কে হাদিসে ‘মুয়াল্লিমে খাইর’ অর্থাৎ ‘কল্যাণ কর্মে নিয়োজিত শিক্ষক’ হিসাবে গণ্য করা হয়েছে। নবী করীম (স.) বলেন: “কল্যাণ কর্মে নিয়োজিত একজন শিক্ষক যখন মৃত্যূবরণ করেন তখন তাঁর জন্য আকাশের পাখিরা, পৃথিবীর অপরাপর বিচরণশীল প্রাণীরা এবং সমুদ্রের মৎস্যকুল ক্রন্দন করতে থাকে। (আততাফসীরুল কবীর, ১ম-২য় খন্ড, পৃষ্ঠা- ১৮০)। কর্মনিষ্ঠা ও আত্মনির্ভরশীলতার দৃষ্টান্ত ঃ তিনি সামগ্রিক জীবন পরিচালনায় এক আদর্শময় নীতি Aej¤^b করেছেন। কর্ম তৎপরতা ও আত্মনির্ভরশীলতায় ছিলেন একনিষ্ঠ। তাঁর কর্মস্থল তথা মাদ্রাসায় ফুলের বাগানে গাছের পরিচর্যা, এমনকি ঝাড়ু দিয়ে পারিপার্শ্বিক স্থান পরিষ্কার করতেও কুণ্ঠাবোধ করেননি। কাজ করে গেছেন নিভৃতে। নিজ পরিবারের অনেক কাজ ¯^n‡¯— করে তিনি ধৈর্যের পরাষ্ঠা প্রদর্শন করেছেন। মৃত্যু : হৃদয় গোলাপ গেলো ঝরে ঃ মাওলানা আজাদ দীর্ঘদিন ধরে পাকস্থলীর রোগে ভুগছিলেন। বয়স বাড়ার সাথে সাথে রোগও বাড়তে লাগলো। দীর্ঘ কর্মক্লান্তির পর তিনি যেন এক শান্ত বিরহী। ১৯৯৫ সালের শুরু থেকে মূলতঃ তাঁর দীর্ঘকালের জমাট বাঁধা রোগ বাড়তে শুরু করে। রোগ বৃদ্ধি হওয়াতে ¯^xq কর্মস্থল আলীকদম ইসলামীয়া মাদ্রাসা হতে চলে যান গ্রামের বাড়ি মাইজ কাকরা (লোটনী) তে। আর এ যাত্রা হলো তাঁর পার্বত্য আলীকদম থেকে চির বিদায়ের অন্তিম লগ্ন। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে রোগ চললো বেড়ে। বাড়ির ছোট্ট এক খাটিয়ার শয্যাই হলো তাঁর সঙ্গী। সবাই উদ্বিগ্ন কখন তাঁর জীবন প্রদীপ নিভে যায়। হায়! সবাইকে চলে যেতে হয়। ১৯৯৫ সালের এপ্রিলের শুরু থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থার মারত্মক অবনতি ঘটতে থাকে। দু:সহনীয় এক শারিরীক যন্ত্রণায় বিধাতা যেন তার এক বান্দাকে পরীক্ষায় ফেললেন। তাঁর স্ত্রী-পুত্র আত্মীয় ¯^Rb এবং এ অধম ভক্তও তখন রাতদিন অবিশ্রান্ত সেবা করে। কিন্তু আল্লাহর পক্ষ থেকে বুঝি তিনি ডাক শুনতে পেয়েছেন: ‘‘ইয়া আয়তুহান নাফসুল মুতমায়িন্না ইরজিয়ি ঈলা রাব্বিকা রাদিয়াতাম মারদিয়ায়, ফাদখুলি ফি ইবাদি ওয়াদ খুলি জান্নাতি।” (ওহে প্রশান্ত আত্মা! প্রত্যাবর্তন কর তোমার রবের দিকে সন্তোষ সহকারে, আর তিনি তোমাদের প্রতি সন্তুষ্ট। অতএব, আমার বান্দাদের অন্তরভূক্ত হয়ে যাও এবং জান্নাতে প্রবেশ কর।) সুরা আল ফজর] ৭ মে, ১৯৯৫ সাল। দুপুর ২টা ২৫ মিনিট। ইহকালের মায়া ত্যাগ করে সর্বস্ব রেখে মাওলানা আবুল কালাম আজাদ চলে যান মহান প্রভূর সান্নিধ্যে। শোকাহত মানুষের উপচে পড়া ভীড়ে প্রকম্পিত হলো মরহুমের বাড়ির আঙ্গিনা। তাসবিহ-তাহলিল, কোরআন তেলাওয়াতের অবিরত গুঞ্জনে এক ¯^Mx©q পরিবেশ সৃষ্টি হলো। আজ এক্ষণে হৃদয়ের এক অতৃপ্ত আহ্বানে, বেদন বিধুর উচ্চারণ: “যেখানে তুমি নেই সেখানে জরে দু'চোখে শ্রাবণের ধারা, যেখানে তুমি নেই সেখানে আমরা হয়েছি সর্বহারা। যেখানে তুমি নেই সেখানে হাহাকার করে কষ্টের মরু-ভূ, যেখানে তুমি নেই সেখানে উঠে শোকের মাতম শুধু।”
তথ্যসূত্র: গিরিনন্দিনী আলীকদম, লেখক- মমতাজ উদ্দিন আহমদ, প্রকাশকাল: একুশে বইমেলা ২০০৮।
[সম্পাদনা] বিবিধ
[সম্পাদনা] আরও দেখুন
[সম্পাদনা] বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা] তথ্যসূত্র
- তথ্যসূত্র: গিরিনন্দিনী আলীকদম, লেখক- মমতাজ উদ্দিন আহমদ, প্রকাশকাল: একুশে বইমেলা ২০০৮।
|
|||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
| এই নিবন্ধটি অসম্পূর্ণ। আপনি চাইলে এটিকে সমৃদ্ধ করে উইকিপিডিয়াকে সাহায্য করতে পারেন। |