আর্কিয়া

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Archaea
সময়গত পরিসীমা: Paleoarchean - Recent
Halobacteria.jpg
Halobacteria sp. strain NRC-1, each cell about 5 μm long.
বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
ডোমেইন: Archaea
Woese, Kandler & Wheelis, 1990
জগত এবং পর্ব

Crenarchaeota
Euryarchaeota
Korarchaeota
Nanoarchaeota
Thaumarchaeota

আর্কিয়া (Archaea) হল এক বিশেষ ধরণের অণুজীব যারা জাতিজনি শ্রেনীবিন্যাস (Phylogenetic Classification)পদ্ধতিতে একটি আলাদা ডোমাইন (Domain) আরকিয়ার অন্তর্গত। এরা প্রোক্যারিওট। প্রথমে এদের ব্যাকটেরিয়া হিসেবে শ্রেণীবিন্যাস করা হয়েছিল এবং নাম দেয়া হয়েছিল আর্কিব্যাকটেরিয়া ( জগত- মনেরা); কিন্তু এই শ্রেণীবিন্যাস বর্তমানে অচল।[১] আর্কিয়া কোষের কিছু স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য আছে যা এদের অন্য দুইটি ডোমেইন ব্যাকটেরিয়া এবং ইউক্যারিওটা থেকে পৃথক করে। এরা চারটি স্বীকৃত পর্বে বিভক্ত। এদের শ্রেণীবিন্যাস খুবই জটিল কারণ বেশিরভাগ নমুনাই গবেষণাগারে পরীক্ষা করা হয় নি বরং পরিবেশে প্রাপ্ত এদের নিউক্লিক এসিড থেকে বিশ্লেষণের মাধ্যমে এদের শনাক্ত করা হয়েছে।

আবাস্থল[সম্পাদনা]

আমেরিকার ইয়োলো স্টোনের ফুটন্ত ঝরণা

বেশির ভাগ আরকিয়াই এমন সব পরিবেশে পাওয়া যায়, যেখানে সাধারণত অন্য কোনো জীব (প্রানি, উদ্ভিদ, ব্যাক্টেরিয়া) থাকতে পারে না। এমন পরিবেশের উদাহরন হল গভীর সমুদ্রের তলদেশে, ফুটন্ত ঝরণা (Hot Spring), অত্যন্ত অম্লীয়(Highly acidic) পরিবেশ ইত্যাদি।[২] তবে কিছু আরকিয়া মানবদেহেও পাওয়া যায়, যারা মানুষের পরিপাকতন্ত্রে(Human Digestive tract) মিথেন গ্যাস তৈরি করে। পৃথিবীতে আর্কিয়ার আবাস্থল বিশাল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এবং বাস্তুসংস্থান এর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।[২] এরা সম্ভবত পৃথিবীর জৈব ভরে ২০ শতাংশেরও বেশি অবদান রাখে।[৩] সর্বপ্রথম আবিষ্কৃত আর্কিয়ানগুলো ছিল extremophile[৪] অর্থাৎ এরা এমন সব স্থানে বসবাস করে যা অন্যান্য প্রাণীর বসবাসের অনুকূলে নয়। আর্কিয়ার মধ্যে Mesophile ও আছে যারা জলাভূমি, সুয়েজ, মাটি এবং মহাসাগরে পাওয়া যায়।[২]

Image of plankton (light green) in the oceans; archaea form a major part of oceanic life.

এক্সট্রিমোফাইল আর্কিয়াগুলো চারটি প্রধান শারীরবৃত্তীয় গ্রুপের সদস্য। এগুলো হচ্ছেঃ halophile, thermophile, alkaliphile এবং acidophile[৫] যদি এই গ্রুপগুলোর বৈশিষ্ট্য সুস্পষ্ট নয়, তবুও আর্কিয়ার শ্রেণীবিন্যাসে এরা গুরুত্বপূর্ণ সূচনা বিন্দু। Halobacterium নামক ব্যাকটেরিয়া গণ সহ Halophile গ্রুপের সদস্যরা প্রচণ্ড লবণাক্ত অঞ্চল যেমন সল্ট লেকে বসবাস করে।[৪] Thermophile গ্রুপের সদস্যরা ৪৫ °সে (১১৩ °ফা) এর চেয়ে বেশি তাপমাত্রায় ভালোভাবে বৃদ্ধিলাভ করে; hyperthermophilic আর্কিয়া ৮০ °সে (১৭৬ °ফা) এর চেয়ে বেশি তাপমাত্রায় বৃদ্ধিলাভ করে।[৬] আর্কিয়াল Methanopyrus kandleri Strain ১১৬ ১২২ °সে (২৫২ °ফা) এর চেয়ে বেশি তাপমাত্রায় বংশবৃদ্ধি করতে পারে যা কোন জীবের জন্য সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।[৭] অন্যান্য আর্কিয়াগুলো অনেক বেশি অম্লীয় ও আল্কালাইন পরিবেশে টিকে থাকে।[৫]

সনাক্তকরণ[সম্পাদনা]

বেশির ভাগ আর্কিয়াকে আবাদ (culture)করা সম্ভব হয়নি। তবে তাদের পি.সি.আর (PCR)পদ্ধতিতে সনাক্ত করা সম্ভব।[৮][৯]


জীবের জাতিজনি শ্রেনীবিন্যাস

নামকরণের ইতিহাস[সম্পাদনা]

প্রাচীন পৃথিবীতে কোষীয় জীবনের প্রথম আবির্ভাব কিভাবে ঘটেছিল তা নিয়ে দ্বিমত থাকলেও, আর্কিয়া নামকরণের সময় মনে করা হয়েছিল আর্কিয়ারাই সেই প্রথম প্রাচীন কোষীয় জীবনের প্রতিনিধি। তাই "আর্কি" অর্থাৎ "প্রাচীন" শব্দটি এর নামের অংশ।

কোষীয় গঠন[সম্পাদনা]

এদের কোষ প্রাচীরে পেপটিডোগ্লাইকেন থাকে না।

বিবর্তনের[সম্পাদনা]

শ্রেনীবিন্যাস[সম্পাদনা]

পরিবেশে ভূমিকা[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Pace NR (May 2006)। "Time for a change"। Nature 441 (7091): 289। ডিওআই:10.1038/441289aপিএমআইডি 16710401বিবকোড:2006Natur.441..289P 
  2. ২.০ ২.১ ২.২ DeLong EF (1998)। "Everything in moderation: archaea as 'non-extremophiles'"। Current Opinion in Genetics & Development 8 (6): 649–54। ডিওআই:10.1016/S0959-437X(98)80032-4পিএমআইডি 9914204 
  3. DeLong EF, Pace NR (2001)। "Environmental diversity of bacteria and archaea"। Syst. Biol. 50 (4): 470–8। ডিওআই:10.1080/106351501750435040পিএমআইডি 12116647 
  4. ৪.০ ৪.১ Valentine DL (2007)। "Adaptations to energy stress dictate the ecology and evolution of the Archaea"। Nature Reviews Microbiology 5 (4): 316–23। ডিওআই:10.1038/nrmicro1619পিএমআইডি 17334387 
  5. ৫.০ ৫.১ Pikuta EV, Hoover RB, Tang J; Hoover; Tang (2007)। "Micr obial extremophiles at the limits of life"। Crit. Rev. Microbiol. 33 (3): 183–209। ডিওআই:10.1080/10408410701451948পিএমআইডি 17653987 
  6. Madigan MT, Martino JM (2006)। Brock Biology of Microorganisms (11th সংস্করণ)। Pearson। পৃ: 136। আইএসবিএন 0-13-196893-9 
  7. Takai K, Nakamura K, Toki T, Tsunogai U, Miyazaki M, Miyazaki J, Hirayama H, Nakagawa S, Nunoura T, Horikoshi K; Nakamura; Toki; Tsunogai; Miyazaki; Miyazaki; Hirayama; Nakagawa; Nunoura; Horikoshi (2008)। "Cell proliferation at 122°C and isotopically heavy CH4 production by a hyperthermophilic methanogen under high-pressure cultivation"। Proceedings of the National Academy of Sciences of the United States of America 105 (31): 10949–54। ডিওআই:10.1073/pnas.0712334105পিএমআইডি 18664583পিএমসি 2490668বিবকোড:2008PNAS..10510949T 
  8. Theron J, Cloete TE (2000)। "Molecular techniques for determining microbial diversity and community structure in natural environments"। Crit. Rev. Microbiol. 26 (1): 37–57। ডিওআই:10.1080/10408410091154174পিএমআইডি 10782339 
  9. Schmidt TM (2006)। "The maturing of microbial ecology" (PDF)। Int. Microbiol. 9 (3): 217–23। পিএমআইডি 17061212