আবদুল কাদির (বাঙালি কবি)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
"আবদুল কাদির" এখানে পুননির্দেশ করা হয়েছে। অন্য ব্যবহারের জন্য, দেখুন আবদুল কাদির (দ্ব্যর্থতা নিরসন)
আবদুল কাদির
জীবিকা কবি, সাহিত্য সমালোচক
জাতীয়তা বাংলাদেশী
জাতি বাঙালি
নাগরিকত্ব বাংলাদেশ
ধরণ কবিতা
উল্লেখযোগ্য রচনা দিলরুবা (১৯৩৩), উত্তর বসন্ত (১৯৬৭)
উল্লেখযোগ্য পুরস্কার একুশে পদক, বাংলা একাডেমী, মুক্তধারা পুরস্কার
দম্পতি আফিয়া খাতুন


আবদুল কাদির (জন্মঃ ১৯০৬ - মৃত্যুঃ ডিসেম্বর ১৯, ১৯৮৪) বাঙালি কবি, সাহিত্য-সমালোচক ও ছান্দসিক হিসেবে খ্যাত। তাঁর জন্ম বর্তমান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আড়াইসিধা গ্রামে ১ জুন, ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে। অতি শৈশবে তিনি মাতৃহারা হন। ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দে ব্রাহ্মণবাড়িয়া অন্নদা মডেল হাইস্কুল থেকে পাঁচটি বিষয়ে লেটারসহ ম্যাট্রিক পাস করেন। ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে তিনি ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজ থেকে আইএসসি পাস করেন। অতঃপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএ পর্যন্ত অধ্যয়ন করেন।

সাংবাদিক জীবন[সম্পাদনা]

১৯২৬ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় বিখ্যাত সওগাত পত্রিকায় সম্পাদনা বিভাগে চাকরি নেন। ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা করপোরেশনের একটি প্রাথমিক স্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দে কমরেড মুজাফফর আহমদের কন্যা আফিয়া খাতুনকে বিয়ে করেন। বাংলা ১৩৩৭-এ জয়তী নামে একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ এবং সম্পাদনা ছাড়াও একই বছর নবশক্তি পত্রিকার সম্পাদনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি কলকাতার যুগান্তর পত্রিকায় যোগ দেন। ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে কবি কাজী নজরুল ইসলামের দৈনিক নবযুগ পত্রিকার বার্তা সম্পাদক নিযুক্ত হন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষদিকে সরকারের প্রচার সংস্থার বাংলা অনুবাদক পদে যোগ দেন। ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দে সাপ্তাহিক মোহাম্মদী ও অর্ধ-সাপ্তাহিক পয়গাম পত্রিকায় চাকরি করেন। ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দে পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের মুখপত্র মাসিক বিখ্যাত মাহেনও পত্রিকায় কর্মরত থাকার পর ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দে কেন্দ্রীয় বাংলা উন্নয়ন বোর্ডের প্রকাশনা কর্মকতা হিসাবে নিয়োগ লাভ করেন। ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দের ১ জুন তিনি সরকারী চাকুরি থেকে চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

সাহিত্য[সম্পাদনা]

তাঁর কাব্যপ্রয়াসে মোহিতলাল মজুমদারের ধ্রুপদী সংগঠন এবং নজরুলের উদাত্ত আবেগের চমৎকার সমন্বয় প্রত্যক্ষ হয়। মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬)-এর নেতৃত্বে ঢাকায় যে ‘বুদ্ধির মুক্তি’ আন্দোলন সূচিত হয়, কবি আবদুল কাদির তার নেতৃস্থানীয় উদ্যোক্তা। তিনি ছিলেন সাহিত্য সমাজের মুখপত্র বার্ষিক শিখা (১৯২৭) পত্রিকার প্রকাশক ও লেখক। প্রকাশিত কাব্য দিলরুবা (১৯৩৩) ও উত্তর বসন্ত (১৯৬৭)। তাঁর অন্যতম বিখ্যাত গ্রন্থ ছন্দ সমীক্ষণ (১৯৭৯) যাতে তিনি বাংলা ছন্দ সম্পর্কে মৌলিক বক্তব্য রেখেছেন। আবদুল কাদিরের ছন্দ বিচারেও অধিকার সংশয়াতীত। সাহিত্য সম্পাদক হিসাবেও তিনি পরিশ্রম এবং একনিষ্ঠতার ছাপ রেখেছেন। তিনি সম্পাদনা করেছেন বিখ্যাত কাব্য সঙ্কলন কাব্য মালঞ্চ, মুসলিম সাহিত্যের সেরা গল্প, নজরুল রচনাবলী (প্রথম খণ্ড-পঞ্চম খণ্ড), রোকেয়া রচনাবলী, শিরাজী রচনাবলী, লুৎফর রহমান রচনাবলী, ইয়াকুব আলী চৌধুরী রচনাবলী, আবুল হুসেন রচনাবলী, কাব্যবীথি ইত্যাদি। সাহিত্যকীর্তির জন্য বাংলা একাডেমী পুরস্কার, একুশে পদক, মুক্তধারা পুরস্কার প্রভৃতি লাভ করেন।

প্রকাশিত গ্রন্থ[সম্পাদনা]

  • দিলরুবা (কাব্য)
  • উত্তর বসন্ত (কাব্য)
  • কাব্যমালঞ্চ (সংকলন)
  • ছন্দ সমীক্ষণ - সাহিত্যালোচনা
  • বাংলা কাব্যের ইতিহাস : মুসলিম সাধনার ধারা (১৯৪৪) -গবেষণা গ্রন্থ
  • কবি নজরুল (১৯৭০) - জীবনী
  • মওলানা মোহাম্মদ নঈমুদ্দীন (১৯৭৯) - জীবনী
  • কাজী আবদুল ওদুদ (১৯৭৬)- জীবনী
  • লোকায়ত সাহিত্য (১৯৮৫),
  • ড. মুহম্মদ এনামুল হক বক্তৃতামালা (১৩৯০),

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

বহি:সংযোগ[সম্পাদনা]