আদ্রিয়ান লামো

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
আদ্রিয়ান লামো
Adrian Lamo.png
আদ্রিয়ান লামো
জন্ম বোস্টন, ম্যাসাচুসেট্‌স
জাতীয়তা কলম্বিয়ান-আমেরিকান [১]
অন্য নাম আর. আদ্রিয়ান লামো
পেশা ওয়েবসাইট নিরাপত্তা বিশ্লেষক
দম্পতি লাউরেন লামো (বিচ্ছেদ)[২]
পিতা-মাতা মারিও লামো-জিমেনিজ ও মেরি লামো-এটউড
ওয়েবসাইট
twitter.com/6 / warrantless.tumblr.com

আদ্রিয়ান লামো, একজন কলম্বিয়ান-আমেরিকান কম্পিউটার নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও গ্রে-হ্যাট হ্যাকার। তিনি প্রথম আলোচনায় আসেন, দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস, ইয়াহু!, মাইক্রোসফটের মত গুরত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট হ্যাক করে। ২০০৩ সালে তিনি গ্রেফতার হন।[৩] ২০১০ সালে লামো বিকল্পধারার ওয়েবসাইট উইকিলিকসে তথ্য ফাঁস করার অভিযোগে আটক মার্কিন সেনা কর্মকর্তা ব্র্যাডলি ম্যানিং সর্ম্পকে এফবিআইকে তথ্য দেন। এরপর এফবিআই ম্যানিংকে গ্রেফতার করে।[৪][৫]

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

আদ্রিয়ান লামো ১৯৮১ সালে বোস্টন, ম্যাসাচুসেট্‌সয় জন্মগ্রহন করেন।[৬] তার বাবার নাম মারিও লামো-জিমেনিজ ও মায়ের নাম মেরি লামো-এটউড। তিনি সাধারনত হোমলেস হ্যাকার হিসেবে পরিচিত। তিন সাধারনত কফি শপ, লাইব্রেরি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্যাফে ব্যবহার করতেন হ্যাক করার জন্য।[৩] যদিও তিনি কয়েকটি বড় বড় প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা বিশ্লেষন করেছেন কিন্তু তিনি তার কাজের জন্য কোন টাকা নিতে আপত্তি জানান।[৭][৮][৯]

৯০ দশকের মাঝের দিকে লামো সমকামী ও হিজড়াদের মিডিয়া ফার্ম প্লানেটআউট.কম এ একজন স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করেন।[১০][১১] ১৯৯৮ সালে তিনি সানফ্রান্সিসকো বোর্ড অফ সুপাভাইজর দ্বারা সমকামী ও হিজড়াদের দ্বারা গঠিত ইয়থ টাস্কফোর্সের সদস্য মনোনীত হয়েছিলেন।[১২][১৩] ২০০১ সালে লামো তাকে চিকিৎসার জন্য দেওয়া বেনজেড্রিন বেশি পরিমানে প্রয়োগ করেছিলেন।[৬][১৪]

২০০৪ সালে উইয়ার্ড ম্যাগাজিনে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে তার সাবেক মেয়ে বন্ধু বলেন, লামো, তাকে অনেক শাষণ করতেন এবং লামোর একটি শটগান ছিল যেটা দিয়ে সে তার মেয়ে বন্ধুকে ভয় দেখাত। একই সাক্ষাতকারে দাবি করা হয়, আদালত তাকে পূর্নবিশ্রামের নির্দেশ দিয়েছিল।[১৪] যদিও লামো পরবর্তীতে এই সাক্ষাতকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন এবং এর সত্যতা নাকচ করে দেন।[১৫] এছাড়া ২০১০ সালের মে মাসের উইয়ার্ড ম্যাগাজিনের এক নিবন্ধে বলা হয়, লামোর ব্যাকপেক চুরি যাবার পর এক তদন্ত কর্মকর্তা তার অস্বাভাবিক আচরন লক্ষ্য করে ও তাকে আটক করে। তার এই আচরনকে এসপার্জার সিনড্রম বলে আক্ষায়িত করে এবং তাকে ৭২ ঘন্টার চিকিৎসা দেয় যা পরে ৯ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছিল।[১৬]

২০১১ সালের মার্চে লামো অভিযোগ করেন, ম্যানিং ঘটনার পর থেকে তার জীবন হুমকির মুখে।[১৭]

কর্মকান্ড[সম্পাদনা]

লামো প্রথম পরিচিতি পান “ইনসাইড-অল.কম (Inside-AOL.com) নামে একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে।[১৮] যেখানে তিনি আমেরিকান অনলাইনের (AOL.com) মুক্তির অপেক্ষায় থাকা একটি সফ্টয়ারের গ্রফিক ডিজাইনের স্ক্রিন শট প্রকাশ করেছিলেন। ফলে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডর তার ওয়েবসাইটের নিবন্ধন বাতিল করেছিল।[১৯]

২০০১ সালের ডিসেম্বরে “ওয়ার্ল্ডকম” দ্বারা লামো ব্যাপক প্রশংশিত হন কারণ তিনি তাদের নিরাপত্তা ত্রুটি ধরিয়ে দিয়েছিলেন।[২০] এরপর ২০০২ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস এর ডাটাবেজে ঢুকতে সক্ষম হন এবং সেখান থেকে তিনি “লেক্সিসনেক্সিসের” একাউন্ট ব্যবহার করে গুরত্বপূর্ণ বিষয়ের উপর গবেষণাপত্রে ঢুকতে সক্ষম হন। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস তার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করে এবং তদন্ত কর্মকর্তারা ১৫ মাস তদন্ত করে আগস্ট ২০০৩ সালে লামোর বিরুদ্ধে একটি গ্রেফতারি পরোয়ানা জাড়ি করে। কিছুদিন লুকিয়ে থাকার পর ৯ সেপ্টেম্বর সকাল ১০.০০টায় তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার সেক্রামেন্টোতে যুক্তরাষ্ট্র মার্শালের কাছে অত্মসমর্পন করেন। ১১ সেপ্টেম্বর তিনি নিউইয়র্ক সিটিতে এফবিআইর কাছে পুনরায় অঅত্মসমর্পন করেন ও তখন তার বিরুদ্ধে ২০০৪ সালের ৮ জানুয়ারি মাইক্রোসফ্ট, “লেক্সিসনেক্সিসের” এবং দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসএ সাইবার হামলার জন্য অভিযোগ গঠন করা হয়।[২১][২২]

পরে আদালত ২০০৪ সালে লামোকে $৬৫,০০০ ডলার জরিমানা, ছয় মাস তার বাড়িতে গৃহবন্দি ও ২ বছরের জন্য পরীক্ষাধীন অবস্থায় রাখার আদেশ দেয়। অভিযোগ গুলো হলো, দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস, ইয়াহু![২৩] ও ওয়ার্ল্ডকমের নিরাপত্তা ত্রুটি প্রকাশ করে দেওয়া।[২৪][২৫][২৬] ১৮ মাস পর্যবেক্ষনে থাকা অবস্থায় লামো ২০০৬ সালের ৯ মে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষকে তার রক্তের নমুনা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। কর্তৃপক্ষ তার ডিএনএ নথিভুক্ত করার জন্য তার রক্ত চেয়েছিল।[২৭] পরে লামোর আইনজীবী বলেন, ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে লামো রক্ত দিতে রাজি হননি।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "COLOMBIA"। multiplecitizenship.com। সংগৃহীত June 01, 2013 
  2. "Biography for Lauren Lamo"Internet Movie Database। সংগৃহীত June 01, 2013 
  3. ৩.০ ৩.১ Wired 12.04: The Homeless Hacker v. The New York Times. Wired.com. Retrieved on March 10, 2011.
  4. Poulsen, Kevin; Zetter, Kim (June 6, 2010)। "U.S. Intelligence Analyst Arrested in Wikileaks Video Probe"Wired। সংগৃহীত June 01, 2013 
  5. "US intelligence analyst arrested over security leaks"। BBC। June 7, 2010। 7 June 2010-এ মূল থেকে আর্কাইভ। সংগৃহীত June 7, 2010 
  6. ৬.০ ৬.১ Palmquist, Matt (April 16, 2003)। "A Duty to Hack"SF Weekly। সংগৃহীত June 01, 2013 
  7. Shachtman, Noah (March 6, 2002)। "He Hacks By Day, Squats By Night"Wired। সংগৃহীত June 01, 2013 
  8. Fantz, Ashley (July 29, 2010)। "On WikiLeaks scandal, hacker says he didn't want to be a coward"CNN। সংগৃহীত June 01, 2013 
  9. Staff, The Week (June 16, 2010)। "Who is hacker hero Adrian Lamo"The Week। সংগৃহীত June 01, 2013 
  10. Noah Shachtman (March 6, 2002)। "He Hacks by Day, Squats by Night"। Wired.com। সংগৃহীত June 01, 2013 
  11. "Wired 12.04: The Homeless Hacker v. The New York Times"। Wired.com। সংগৃহীত June 01, 2013 
  12. Worldtribune.com
  13. "Agenda & Minutes Archive"San Francisco Board of Supervisors। August 3, 1998। সংগৃহীত June 01, 2013। "Adrian Lamo, Seat No. 10" 
  14. ১৪.০ ১৪.১ Kahn, Jennifer (2004)। "The Homeless Hacker v. The New York Times"Wired। সংগৃহীত June 01, 2013 
  15. Lamo, Adrian (July 10, 2010)। "Citability (is important!)"। God, Sex, & the FBI: Adrian Lamo's (alleged) blog। 
  16. Poulsen, Kevin (May 20, 2010)। "Ex-Hacker Adrian Lamo Institutionalized for Asperger’s"। Wired (magazine)। 23 May 2010-এ মূল থেকে আর্কাইভ। সংগৃহীত May 23, 2010 
  17. "Hacker: Why I turned FBI Informer"। Al Jazeera। 16 March 2011-এ মূল থেকে আর্কাইভ। সংগৃহীত March 16, 2011 
  18. Brown, Janelle (July 1, 1999)। "Can AOL silence its critics?"Salon.com। সংগৃহীত February 1, 2006 
  19. Poulsen, Kevin (November 29, 2000)। "Hijackers take AIM accounts"SecurityFocus। সংগৃহীত February 1, 2006 
  20. http://www.theregister.co.uk/2003/09/05/fbi_reportedly_hunting_adrian_lamo/
  21. "Adrian Lamo Cuts Deal With Feds", Wired.com, January 9, 2004.
  22. "Lamo Pleads Guilty to Times Hack", SecurityFocus, January 8, 2004.
  23. Poulsen, Kevin (September 9, 2001)। "Yahoo! News hacked"SecurityFocus। সংগৃহীত January 21, 2006 
  24. Poulsen, Kevin (December 5, 2001)। "Lamo's Adventures in WorldCom"SecurityFocus। সংগৃহীত January 21, 2006 
  25. Lemos, Robert (May 29, 2001)। "Hacker helps Excite@Home toughen defenses"CNET News। 14 December 2005-এ মূল থেকে আর্কাইভ। সংগৃহীত January 21, 2006 
  26. Poulsen, Kevin (May 5, 2001)। "Proxy exposes Excite@Home data"SecurityFocus। সংগৃহীত April 24, 2006 
  27. Poulsen, Kevin (May 10, 2006)। "Feds Want Hacker's Genetic Code"Wired। সংগৃহীত January 21, 2006 

পদটীকা[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]