অস্ট্রেলিয়া (মহাদেশ)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
অস্ট্রেলিয়া
Australia-New Guinea (orthographic projection).svg
আয়তন ৮৬,০০,০০০ কিমি (৩৩,০০,০০০ মা)
জনসংখ্যা ৩৬,০০০,০০০ (অস্ট্রেলিয়া, পাপুয়া নিউ গিনি, পাপুয়া, পশ্চিম পাপুয়া, মালাকু দ্বীপপুঞ্জ, টিমোর, হালমাহেরা প্রভৃতির ২০০৯ সালের আনুমানিক জনসংখ্যা; জনসংখ্যার হিসেবে ষষ্ঠ বৃহত্তম মহাদেশ)
জনঘনত্ব ৪.২ /কিমি (১১ /বর্গমাইল)
অধিবাসীদের নাম অস্ট্রেলিয়ান
দেশসমূহ ৫ (অস্ট্রেলিয়া, পাপুয়া নিউ গিনি, পূর্ব টিমোরইন্দোনেশিয়ার একাংশ)
ভাষাসমূহ অস্ট্রেলিয়ান ইংরেজি, ইন্দোনেশিয়ান, টোক পিসিন, হিরি মোটু, ২৬৯টি স্থানীয় পাপুয়ানঅস্ট্রোনেশিয়ান ভাষা, মান্দারিন চীনা, ইতালিয়ান, আরবি, গ্রিক, ক্যান্টোনিজ এবং প্রায় ৭০টি স্থানীয় অস্ট্রেলিয়ান ভাষা
সময় অঞ্চলসমূহ জিএমটি+১০, জিএমটি+৯.৩০, জিএমটি+৮
ইন্টারনেট টিএলডি .au, .pg, .tl, .tp and .id
বৃহত্তম শহরসমূহ

জনসংখ্যা অনুযায়ী অস্ট্রেলিয়ার শহরগুলির তালিকা
জনসংখ্যা অনুযায়ী পাপুয়া নিউ গিনির শহরগুলির তালিকা


* এটিকে এশিয়ার (দক্ষিণপূর্ব এশিয়া) অংশও মনে করা হয়।

অস্ট্রেলিয়া (ইংরেজি: Australia) হল একটি মহাদেশঅস্ট্রেলিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে মহাদেশীয় অংশটিকে আলাদা করে বোঝাতে এই মহাদেশকে সাহুল (ইংরেজি: Sahul), অস্ট্রালিনিয়া (ইংরেজি: Australinea) বা মেগানেশিয়া (ইংরেজি: Meganesia) নামেও উল্লেখ করা হয়ে থাকে। অস্ট্রেলিয়ার মূল ভূখণ্ড, তাসমানিয়া, নিউ গিনি, সারেম, ও সম্ভবত টিমোর ও আশেপাশের দ্বীপগুলিকে নিয়ে এই মহাদেশ গঠিত।

অস্ট্রেলিয়া প্রথাগত ইংরেজি ধারণার সাতটি মহাদেশের মধ্যে ক্ষুদ্রতম। অস্ট্রেলিয়ার মূল ভূখণ্ড ও নিউগিনির মধ্যস্থ আরাফুরা সাগরটরেস প্রণালী এবং অস্ট্রেলিয়ার মূল ভূখণ্ড ও তাসমানিয়ার মধ্যস্থ বাস প্রণালী—এই সমুদ্রগুলি দ্বারা বিভাজিত একটি মহাদেশীয় সোপানে এই মহাদেশ অবস্থিত। প্লেইস্টোসিন হিমযুগ ও লাস্ট গ্লেসিয়াল ম্যাক্সিমামের সময় (খ্রিস্টপূর্ব ১৮,০০০ অব্দ) যখন সমুদ্রতলের উচ্চতা কম ছিল, তখন এই বিচ্ছিন্ন স্থলভাগগুলি পরস্পর শুষ্ক স্থলভাগ দ্বারা সংযুক্ত ছিল। শেষ দশ হাজার বছরে সমুদ্রতলের উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নভূমিগুলিকে জলমগ্ন করেছে। এর ফলে মহাদেশটিও আজকের নিচু শুষ্ক ও অর্ধ-শুষ্ক মূল ভূখণ্ডটিকে পর্বতময় নিউ গিনি ও তাসমানিয়া দ্বীপপুঞ্জ থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে। ভৌগোলিকভাবে মহাদেশীয় সোপানের শেষভাগ থেকে একটি মহাদেশ প্রসারিত রয়েছে যাতে, অধুনা-বিচ্ছিন্ন দ্বীপগুলি মহাদেশের অংশ হতে পারে।[১]

নিউ জিল্যান্ড অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের অংশ নয়। এটি একটি পৃথক তলিয়ে যাওয়া মহাদেশ জিয়াল্যান্ডিয়ার অংশ।[২] এখন নিউ জিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া উভয়কে অস্ট্রালেশিয়া বা ওশিয়ানিয়া নামে এক বৃহত্তর অঞ্চলের অংশ মনে করা হয়।

ভূগোল ও নামকরণ[সম্পাদনা]

অস্ট্রেলিয়ার মূল ভূখণ্ডে সাহুল সোপানের অবস্থান (হালকা নীল)। এই সোপান উত্তরে নিউ গিনি, উত্তর-পশ্চিমে টিমোর দ্বীপ ও দক্ষিণে তাসমানিয়া পর্যন্ত প্রসারিত

অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের আয়তন মোট ৮৫,৬০,০০০ বর্গকিলোমিটার (৩৩,১০,০০০ মা)। এটি বিশ্বের ক্ষুদ্রতম এবং সর্বনিম্ন মহাদেশ যেখানে মানুষ বসবাস করে।[৩] সাহুল সোপান[৪][৫]বাস প্রণালী সহ যে মহাদেশীয় সোপানটি এই মহাদেশের দ্বীপগুলিকে পরস্পরের সঙ্গে জুড়ে রেখেছে সেটির আয়তন ২৫,০০,০০০ বর্গকিলোমিটার (৯,৭০,০০০ মা)। এই সোপানের অর্ধাংশই ৫০ মিটার (১৬০ ফু)-এর থেকেও গভীর। অস্ট্রেলিয়া দেশটির অধিকাংশ অঞ্চলই একক ভূখণ্ডের উপর অবস্থিত। এটিই মহাদেশের প্রধান অংশ। সাধারণভাবে অনেক সময় অস্ট্রেলিয়াকে মহাসাগর-বেষ্টিত একটি দ্বীপ-মহাদেশ বলা হয়ে থাকে।[৬]

সাহুল মহাদেশ

এই অঞ্চলের পুরাতাত্ত্বিক পরিভাষাটি বারবার পরিবর্তিত হয়েছে। ১৯৭০-এর দশকের আগে পর্যন্ত একক প্লেইস্টোসিন ভূখণ্ডটিকে বলা হত অস্ট্রালেশিয়া[৭] শব্দটি লাতিন অস্ট্রালিস শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ "দক্ষিণী"। যদিও অস্ট্রালেশিয়া শব্দটি নিউ জিল্যান্ড সহ একটি বৃহৎ অঞ্চলের জন্যও ব্যবহৃত হত। উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়া যে মহাদেশীয় সোপানের উপর অবস্থিত, নিউ জিল্যান্ড তার উপর অবস্থিত নয়। ১৯৭০-এর দশকের গোড়ার দিকে প্লেইস্টোসিন মহাদেশটির জন্য গ্রেটার অস্ট্রেলিয়া শব্দটির ব্যভার শুরু হয়।[৭] ১৯৭৫ সালে আয়োজিত একটি সম্মেলনে এবং সেই সম্মেলন-সংক্রান্ত প্রকাশনায়[৮] সাহুল নামটির ব্যবহার একটি বৃহত্তর অর্থে করা হয়। আগে। সাহুল বলতে সাহুল সোপানটিকেই বোঝানো হত।[৭]

১৯৮৪ সালে ডব্লিউ. ফাইলউড প্লেইস্টোসিন মহাদেশ ও আধুনিক ভূখণ্ডগুলির জন্য মেগানেশিয়া (অর্থাৎ, "বিরাট দ্বীপ" বা "বিরাট দ্বীপগোষ্ঠী") শব্দটি প্রস্তাব করেন।[৯] জীববিজ্ঞানীদের কাছে এই নামটি বহুলভাবে গৃহীত হয়।[১০] অন্যান্যরা অবশ্য এই নামটি অন্য অর্থে ব্যবহার করেছেন। ভ্রমণ-বিষয়ক লেখক পল থেরক্স অস্ট্রেলিয়া মহাদেশ ও নিউ জিল্যান্ডকে মেগানেশিয়া বলেছেন।[১১] অন্যান্যরা অস্ট্রেলিয়া, নিউ জিল্যান্ড ও হাওয়াইকে একত্রে মেগানেশিয়া বলেছেন।[১২] ২০০৪ সালে অপর এক জীববিজ্ঞানী রিচার্ড ডকিনস অস্ট্রালিলিয়া নামটি চালু করেন।[১৩] অস্ট্রেলিয়া-নিউ গিনি নামটিও ব্যবহৃত হয়ে থাকে।[১৪]

ভূতত্ত্ব[সম্পাদনা]

এই মহাদেশটি প্রাথমিকভাবে ইন্দো-অস্ট্রেলিয়ান পাতের উপর অবস্থিত। ভূ-গাঠনিক পাতের কেন্দ্রস্থলে এই মহাদেশের অবস্থান। সেজন্য এখানে কোনো সক্রিয় আগ্নেয়গিরি নেই। এটিই একমাত্র মহাদেশ যেখানে কোনো সক্রিয় আগ্নেয়গিরি নেই।[১৫] ৯ কোটি ৬০ লক্ষ বছর আগে পাত সঞ্চরণ শুরু হওয়ার আগে পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া মহাদেশীয় ভূখণ্ডটি দক্ষিণাঞ্চলীয় মহা-মহাদেশ গন্ডোয়ানার অংশ হিসেবে আন্টার্কটিকার সঙ্গে যুক্ত ছিল। তারপর সুদীর্ঘ সময় অস্ট্রেলিয়া-নিউ গিনি একক ভূখণ্ডের উপর অবস্থিত ছিল। খ্রিস্টপূর্ব ১০,০০০ অব্দে সমাপ্ত শেষ হিমবাহ পর্যায়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়ে বাস প্রণালী সৃষ্টি হয়। সেই সময় তাসমানিয়া মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। খ্রিস্টপূর্ব ৮,০০০ থেকে ৬,৫০০ অব্দের মাঝে উত্তরাঞ্চলের নিম্নভূমিগুলি সমুদ্র কর্তৃক প্লাবিত হয়ে নিউ গিনি ও আরু দ্বীপপুঞ্জকে অস্ট্রেলিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

নিউ গিনি উচ্চভূমি, রাজা আমপাট দ্বীপপুঞ্জহালমাহেরা নিয়ে গঠিত উত্তরের ধনুকাকার দ্বীপাঞ্চলটি অস্ট্রেলিয়ার উত্তর দিকে সঞ্চরণ ও প্রশান্তীয় পাতের উচ্চতা হ্রাসের জন্য উত্তরে সরে গিয়েছে। মহাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে আউটার বান্ডা আর্ক (টিমোর, টানিমবারসারেম) বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়েছিল।[১৬]

জৈব-ভূগোল[সম্পাদনা]

অস্ট্রেলিয়া মহাদেশ আন্টার্কটিকা থেকে উত্তরে সরে যাওয়ার পর এই মহাদেশে স্বতন্ত্র প্রাণী, উদ্ভিজ্জ ও ছত্রাক জন্মাতে শুরু করে। মারসুপিয়ালমোনোট্রিম অন্যান্য মহাদেশেও দেখা যায়, কিন্তু প্লেসিন্টাল স্তন্যপায়ীদের অস্ট্রেলিয়া-নিউ গিনিতেই দেখা যায় এবং এখানেই তারা প্রধান। পাখির প্রজাতিগুলি এখানে দেখা যেতে শুরু করে। বিশেষত, গ্রেট প্যাসারাইন অর্ডারের পূর্বপুরুষদের। পরবর্তীকালে এরা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। এরাই বিশ্বের অর্ধেক পক্ষীপ্রজাতির পূর্বপুরুষ। ছত্রাকের বিভিন্ন প্রজাতিও জন্মাতে শুরু করে। এখানকার কিছু ছত্রাককে নিউ জিল্যান্ড, আর্জেন্টিনাচিলি ছাড়া বিশ্বের আর কোথাও দেখা যায় না।[১৭]

জনবসতি[সম্পাদনা]

৪৫,০০০ বছর আগে পূর্ব ওয়ালাশিয়া (টিমোর সহ, যা সেই সময় সাহুলের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল), সাহুলের অবশিষ্টাংশ ও সুন্দার বিসমার্ক দ্বীপপুঞ্জে প্রথম জনবসতি গড়ে ওঠে। এই সময় কয়েকশো লোক অপেক্ষাকৃত উন্নত জলযানের মাধ্যমে এখানে এসে জনবসতি গড়ে তুলেছিল।[১৮]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. Johnson, David Peter (2004)। The Geology of Australia। Port Melbourne, Victoria: Cambridge University Press। পৃ: 12। 
  2. Keith Lewis; Scott D. Nodder and Lionel Carter (2007-01-11)। "Zealandia: the New Zealand continent"Te Ara Encyclopedia of New Zealand। সংগৃহীত 2007-02-22 
  3. Mocomi। "Continents of the World"। Mocomi। সংগৃহীত 2014-10-28 
  4. "Big Bank Shoals of the Timor Sea: An environmental resource atlas"। Australian Institute of Marine Science। 2001। 8 September 2006-এ মূল থেকে আর্কাইভ। সংগৃহীত 2006-08-28 
  5. Wirantaprawira, Dr Willy (2003)। "Republik Indonesia"। Dr Willy Wirantaprawira। সংগৃহীত 2006-08-28 
  6. Löffler, Ernst; A.J. Rose, Anneliese Löffler & Denis Warner (1983)। Australia:Portrait of a Continent। Richmond, Victoria: Hutchinson Group। পৃ: 17। আইএসবিএন 0-09-130460-1 
  7. ৭.০ ৭.১ ৭.২ Ballard, Chris (1993)। "Stimulating minds to fantasy? A critical etymology for Sahul"। Sahul in review: Pleistocene archaeology in Australia, New Guinea and island Melanesia। Canberra: Australian National University। পৃ: 19–20। আইএসবিএন 0-7315-1540-4 
  8. Allen, J.; J. Golson and R. Jones (eds) (1977)। Sunda and Sahul: Prehistorical studies in Southeast Asia, Melanesia and Australia। London: Academic Press। আইএসবিএন 0-12-051250-5 
  9. Filewood, W. (1984)। "The Torres connection: Zoogeography of New Guinea"। Vertebrate zoogeography in Australasia। Carlisle, W.A.: Hesperian Press। পৃ: 1124–1125। আইএসবিএন 0-85905-036-X 
  10. e.g. Flannery, Timothy Fridtjof (1994)। The future eaters: An ecological history of the Australasian lands and people। Chatswood, NSW: Reed। পৃ: 42, 67। আইএসবিএন 0-7301-0422-2 
  11. Theroux, Paul (1992)। The happy isles of Oceania: Paddling the Pacific। London: Penguin। আইএসবিএন 0-14-015976-2 
  12. Wareham, Evelyn (September 2002)। "From Explorers to Evangelists: Archivists, Recordkeeping, and Remembering in the Pacific Islands"। Archival Science 2 (3–4): 187–207। ডিওআই:10.1007/BF02435621 
  13. Dawkins, Richard (2004)। The ancestor's tale: A pilgrimage to the dawn of evolution। Boston: Houghton Mifflin। পৃ: 224। আইএসবিএন 0-618-00583-8 
  14. e.g. O'Connell, James F.; Allen, Jim (2007)। "Pre-LGM Sahul (Pleistocene Australia-New Guinea) and the Archaeology of Early Modern Humans"। in Mellars, P.; Boyle, K.; Bar-Yosef, O.; Stringer, C.। Rethinking the Human Revolution। Cambridge: McDonald Institute for Archaeological Research। পৃ: 395–410 
  15. Barrett; Dent (1996)। Australian Environments: Place, Pattern and Process। Macmillan Education AU। পৃ: 4। আইএসবিএন 0732931207। সংগৃহীত 13 June 2014 
  16. MG Audley-Charles, 1986, "Timor–Tanimbar Trough: the foreland basin of the evolving Banda orogen", Spec. Publs int. Ass. Sediment, 8:91–102
  17. Korf, R.P. Cyttaria (Cyttariales): coevolution with Nothofagus, and evolutionary relationship to the Boedijnpezizeae (Pezizales, Sarcoscyphaceae). pp. 77–87 in K.A. Pirozynski & J. Walker [eds] Pacific Mycogeography: a Preliminary Approach. Australian Journal of Botany Supplementary Series No. 10, 172 pp. (1983).
  18. Allen, Jim; O'Connell, James F. (2008)। "Getting from Sunda to Sahul"। in Clark, Geoffrey; Leach, Foss; O'Connor, Sue। Islands of Inquiry: Colonisation, seafaring and the archaeology of maritime landscapes। Canberra: ANU Press। পৃ: 31–46। 

টেমপ্লেট:Australia topics

স্থানাঙ্ক: ২৬° দক্ষিণ ১৪১° পূর্ব / ২৬° দক্ষিণ ১৪১° পূর্ব / -26; 141