অল’স ওয়েল দ্যাট এন্ডস ওয়েল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
অল'স ওয়েল দ্যাট এন্ডস ওয়েল; চেক চিত্রকর আর্টাস সেনার অঙ্কিত অলংকরণ

অল’স ওয়েল দ্যাট এন্ডস ওয়েল (ইংরেজি: All's Well That Ends Well) হল উইলিয়াম শেকসপিয়র রচিত একটি নাটক। অনুমানিক ১৬০৪-০৫ সাল নাগাদ এই নাটকটি রচিত হয়েছিল।[১] ১৬২৩ সালে ফার্স্ট ফোলিও সংকলনে এটি প্রথম প্রকাশিত হয়।

প্রথাগতভাবে এই নাটকটিকে মিলনান্তক নাটক বা কমেডি মনে করা হয়। কিন্তু একালের কোনো কোনো সমালোচকের মতে, এই নাটকটি প্রবলেম প্লে বর্গের অন্তর্গত। কারণ, এই নাটকটিকে পুরোপুরি কমেডি বা ট্র্যাজেডি হিসাবে চিহ্নিত করা যায় না।

পাত্রপাত্রীগণ[সম্পাদনা]

  • ফ্রান্সের রাজা
  • ফ্লোরেন্সের ডিউক
  • বারট্র্যাম, রুসিলনের কাউন্ট
  • রুসিলনের কাউন্টেস, বারট্রামের মা
  • লাভাচ, তাঁর গৃহস্থলীর এক বিদূষক
  • হেলেনা, জনৈকা ভদ্রমহিলা, কাউন্টেসের আশ্রিতা000
  • লাফাউ, বৃদ্ধ লর্ড
  • প্যারোলেস, বারট্র্যামের অনুগামী
  • ফ্লোরেন্সের এক বিধবা বুড়ি যাঁর পদবি ক্যাপিলেট
  • ডায়ানা, বিধবার মেয়ে
  • রুসিলনের কাউন্টেসের স্টিউয়ার্ড
  • ভায়োলেন্টা ও মারিয়ানা, বিধবার প্রতিবেশিনী ও বন্ধু
  • জনৈক পেজ
  • সৈনিকগণ, দাসদাসীগণ, ভদ্রলোকগণ ও সভাসদগণ

কাহিনি-সংক্ষেপ[সম্পাদনা]

রুসিলনের কাউন্টেসের পুত্র কাউন্ট বারট্র্যাম গিয়েছিলেন ফ্রান্সের রাজসভায়। তাঁকে মনে মনে ভালবাসত হেলেনা নামে একটি অনাথ মেয়ে। হেলেনার বাবা ছিলেন বিখ্যাত চিকিৎসক। তাঁর মৃত্যুর পর কাউন্টেস স্বয়ং হেলেনাকে আশ্রয় দিয়েছিলেন নিজের কাছে। রূপে-গুণে হেলেনা আদর্শ নারী হলেও কাউন্ট কিন্তু হেলেনার প্রতি আকর্ষণ বোধ করতেন না। কারণ তিনি ছিলেন সম্ভ্রান্ত পুরুষ, আর হেলেনা ছিলেন সাধারণ ঘরের মেয়ে। এদিকে খবর এল, ফ্রান্সের রাজা খুবই অসুস্থ। এই খবর পেয়ে হেলেনা নিজে গেলেন প্যারিসে। বাবার কাছে শেখা বিদ্যার সাহায্যে সারিয়ে তুললেন রাজাকে। কৃতজ্ঞতাস্বরূপ রাজা বললেন, হেলেনা নিজের ইচ্ছামতো তাঁর রাজ্যের যে কোনো পুরুষকে পতি হিসাবে গ্রহণ করতে পারবে। হেলেনা বেছে নিলেন বারট্র্যামকে। বারট্রাম এতে খুবই অসন্তুষ্ট হলেন। বিয়ের কিছুদিন পরেই প্যারোলেস নামে একটি বদমাশের সঙ্গে ফ্লোরেন্সে চলে গেলেন সেখানকার ডিউকের হয়ে যুদ্ধ করার জন্য।

হেলেনা কাউন্টসের কাছে ফিরে এল। কাউন্টেসকে চিঠি লিখে বারট্র্যাম জানিয়ে দিলে যে, যতদিন না হেলেনা তাঁর আঙুল থেকে তাঁদের পারিবারিক আংটিটি খুলে নিতে পারবে এবং তাঁর সন্তানকে গর্ভে ধারণ করতে পারবে, ততদিন তিনি হেলেনাকে তাঁর সত্যিকারের স্ত্রী বলে মেনে নেবেন না। সেই সঙ্গে বারট্রাম এও জানিয়ে দিলেন যে, এই দুইয়ের কোনোটাই কোনোদিন ঘটবে না। কাউন্টেস হেলেনাকে ভালবাসতেন। বারট্র্যামের সঙ্গে হেলেনার বিয়ে হওয়ায় তিনি খুবই খুশি হয়েছিলেন। তিনি হেলেনাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেন। কিন্তু দুঃখিনী হেলেনা স্থির করলেন যে, তিনি তীর্থে চলে যাবেন।

ইতোমধ্যে ফ্লোরেন্সে ডিউকের বাহিনীতে সেনাপতির দায়িত্ব পেলেন বারট্র্যাম। ফ্লোরেন্সে এসে হেলেনা দেখলেন যে, তাঁর স্বামী এক দয়ালু বিধবার কুমারী মেয়ের সতীত্ব নাশ করার চেষ্টা করছেন। মেয়েটির নাম ছিল ডায়ানা। হেলেনা এই ডায়ানার সাহায্য নিয়ে বারট্রামকে বোকা বানানোর ছক কষলেন। বারট্রাম ডায়ানাকে প্রণয়ের চিহ্নস্বরূপ তাঁর আংটিটি দিয়েছিলেন। রাতে ডায়ানার ঘরে লুকিয়ে রইলেন হেলেনা। নিজের অজ্ঞাতসারেই ডায়ানা মনে করে হেলেনার সঙ্গে সহবাস করলেন বারট্রাম। এই সময় সেনাবাহিনীর দুই লর্ড বারট্র্যামকে জানালেন যে, প্যারোলেস একটি কাপুরুষ ও খল। বারট্র্যাম প্যারোলেসের সঙ্গ ত্যাগ করলেন। এমন সময় ক্যাম্পে ভুয়ো এল যে, হেলেনা মারা গিয়েছেন। যেহেতু যুদ্ধও শেষ হয়ে এসেছিল, তাই বারট্র্যাম এই খবর পেয়ে ফ্রান্সে ফেরার কথা ভাবলেন। তাঁর অজ্ঞাতে হেলেনাও ডায়ানা ও তার মাকে নিয়ে যাত্রা করলেন ফ্রান্সের উদ্দেশ্যে।

রুসিলনে হেলেনার মৃত্যুসংবাদ পেয়ে সকলেই শোকপালন করছিলেন। রাজা রুসিলনে এলেন। লাফাউ নামে এক বৃদ্ধ অনুগত লর্ডের কন্যার সঙ্গে বারট্র্যামের বিবাহের সম্মতি দিলেন। এমন সময়, বারট্র্যামের আঙুলে একটি আংটি রাজার দৃষ্টি আকর্ষণ করল। আংটিটি ছিল হেলেনার। রাজা তাঁর জীবনরক্ষার উপহারস্বরূপ সেটি হেলেনাকে দিয়েছিলেন। (ফ্লোরেন্সে হেলেনা আংটিটি দেন ডায়ানাকে, যাতে ডায়ানা তাঁর প্রেমিকের আঙুলে আংটিটি পরিয়ে দিতে পারে।) বারট্র্যাম কিছুতেই বুঝতে পারলেন না যে, আংটিটি তাঁর হাতে কী করে এল। এমন সময় ডায়ানাকে নিয়ে তার মা উপস্থিত হয়ে সব কিছু ব্যাখ্যা করলেন। তাদের পিছনে পিছনে এলেন হেলেনাও। হেলেনা বললেন, তাঁর স্বামীর দেওয়া দুই শর্তই তিনি পূর্ণ করেছেন। বারট্র্যামের উপযুক্ত শিক্ষা হল। তিনি হেলেনাকে প্রতিশ্রুতি দিলেন যে, এবার থেকে ভালভাবে স্বামীর দায়িত্ব পালন করবেন তিনি। তা দেখে সকলেই আনন্দ করতে লাগলেন।

উৎস[সম্পাদনা]

অল'স ওয়েল দ্যাট এন্ডস ওয়েল; ফার্স্ট ফোলিওর ফ্যাক্সিমিলি সংস্করণের প্রথম পৃষ্ঠা

এই নাটকটি বোক্কাচ্চোর দেকামেরোন গ্রন্থের ৩.৯ সংখ্যক উপাখ্যান অবলম্বনে রচিত। শেকসপিয়র সম্ভবত উইলিয়াম পেইন্টারের প্যালেস অফ প্লেজার বইতে গল্পটি পড়েছিলেন।[২]

নাটকের নামটি গৃহীত হয়েছে ইংরেজি প্রবাদ All's well that ends well থেকে। কথাটির অর্থ, সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হয় না, এবং তার সমাধানও ভালভাবেই হয়ে যায়।[৩]

মঞ্চায়নের ইতিহাস[সম্পাদনা]

রেস্টোরেশন যুগের আগে এই নাটকটির মঞ্চস্থ হওয়ার কোনো নথিভুক্ত প্রমাণ পাওয়া যায় না। ১৭৪১ সালে গুডম্যান’স ফিল্ড থিয়েটারে এর প্রথম অভিনয়ের রেকর্ড পাওয়া যায়। পরের বছর ড্রুরু লেনের থিয়েটার রয়্যালেও এটি মঞ্চস্থ হয়েছিল। কিন্তু সেখানে মঞ্চস্থ হওয়ার পর এটি "অপয়া" আখ্যা পায়। হেলেনার চরিত্রাভিনেত্রী পেগ উলফিংটন অজ্ঞান হয়ে পড়েন এবং তাঁর জায়গায় অপর এক অভিনেত্রীকে নিতে হয়। যে অভিনেতা ফ্রান্সের রাজার চরিত্র করছিলেন, তিনি এরপরই মারা যান। গেরিক যুগে হেনরি উডওয়ার্ড প্যারোলেস চরিত্রটিকে জনপ্রিয় করে তুলেছিলেন। পরবর্তী দশকগুলিতে নাটকটি অনিয়মিতভাবে মঞ্চস্থ হতে থাকে। ১৮৩২ সালে কভেন্ট গার্ডেনে এর একটি অপেরা সংস্করণ মঞ্চস্থ হয়। জর্জ বার্নার্ড শ হেলেনা চরিত্রটির ভূয়শী প্রশংসা করে এটিকে হেনরিক ইবসেনের আ ডলস হাউস নাটকের নিউ উম্যান চরিত্রগুলির সঙ্গে তুলনা করেন।[৪]

ভিক্টোরিয়ানরা এই নাটকটির ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাঁদের আপত্তির কেন্দ্রবিন্দু ছিল হেলেনার চরিত্রটি। অনেকে এই চরিত্রটিকে লোভী ও অবিনয়ী আখ্যা দেন। এলেন টেরি চরিত্রটিকে "নীতিজ্ঞানহীন" ও "মেরুদণ্ডহীন" বলেছেন। যদিও, মেরুদণ্ডহীন বললেও, তিনি তাঁর বিরুদ্ধে "অনৈতিক পন্থায় পুরুষ শিকারের" অভিযোগ এনেছেন। ১৮৯৬ সালে ফ্রেডেরিক এস বোয়াস এই অজনপ্রিয় রচনাটিকে হ্যামলেট, ট্রলিয়াস অ্যান্ড ক্রেসিডামেজার ফর মেজার নাটক তিনটির সঙ্গে "প্রবলেম প্লে" শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করেন।[৫]

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. Snyder, Susan (1993)। "Introduction"। The Oxford Shakespeare: All's Well That Ends Well। Oxford, England: Oxford University Press। পৃ: 20–24। আইএসবিএন 9780192836045 
  2. F. E. Halliday, A Shakespeare Companion 1564–1964, Baltimore, Penguin, 1964; p. 29.
  3. The New Dictionary of Cultural Literacy, 3rd ed., 2002. Cited at Bartleby.com
  4. Dickson, Andrew (2008)। "All's Well That Ends Well"। The Rough Guide to Shakespeare। London: Penguin। পৃ: 3–11। আইএসবিএন 978-1-85828-443-9 
  5. Neely, Carol Thomas (1983)। "Power and Virginity in the Problem Comedies: All's Well That Ends Well"। Broken nuptials in Shakespeare's plays। New Haven, CT: University of Yale Press। পৃ: 58। আইএসবিএন 9780300033410 

গ্রন্থপঞ্জি[সম্পাদনা]

  • Fraser, Russell, Cambridge Shakespeare, Introduction, 2003
  • Lawrence, W. W., Shakespeare's Problem Comedies, 1931
  • Price, Joseph G., The Unfortunate Comedy, 1968
  • Schoff, Francis G., "Claudio, Bertram, and a Note on Interpretation", Shakespeare Quarterly, 1959
  • Styan, J. G., Shakespeare in Performance series: All's Well That Ends Well, 1985

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]