অভিকর্ষ পর্বত

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সাউথ অস্ট্রেলিয়ার অড়রো তে একটি অভিকর্ষ পর্বত

অভিকর্ষ পর্বত (ইংরেজি: Gravity Hill) বা চুম্বকিত পর্বত (ইংরেজি: Magnetic Hill) নামেও পরিচিত, অনেকে রহস্যময় পর্বত বা রহস্যময় স্থান হিসেবে অভিহিত করে থাকেন, এমন কিছু স্থান যেখানে পরিপার্শ্বিক দৃশ্যপট এমন একটি দৃষ্টি বিভ্রম সৃষ্টি করে যাতে একজন দর্শকের কাছে ঐ স্থানের একটি নিম্মমুখি ঢাল বিশিষ্ট রাস্তাকে উর্ধ্বমুখি ঢালু মনে হতে থাকে। এসকল স্থানে নিষ্ক্রিয় গিয়ারে রাখা কোন গাড়ি আপনা আপনি চলতে থাকে এতে চালক বা দর্শকের কাছে গাড়িটি উঁচু রাস্তা বেয়ে উঠে যাচ্ছে বলে মনে হয় অথবা রাস্তায় পানি ঢালা হলে তা গড়িয়ে উঁচু রাস্তায় উঠছে বলে মনে হয়।[১]

পৃথিবীতে এই ধরনের প্রায় একশটির মত স্থান রয়েছে। অনেক দেশে এই ধরনের স্থানকে অতিপ্রাকৃত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যেমন সৌদি আরবে মদীনায় এই ধরনের একটি স্থানের নামকরন করা হয়েছে ওয়ারী আল জ্বীন (জ্বীনদের এলাকা)[২][৩][৪] অনেকে মনে করে থাকেন এই সকল স্থানের নিচে বৃহদাকার চুম্বক ক্ষেত্রের কারনে এমনটা ঘটে।[৫] তবে প্রকৃতপক্ষে তা সঠিক কারন নয়।

ব্যাখ্যা[সম্পাদনা]

পদার্থবিজ্ঞানীদের মতে এবং জিপিএস ব্যবহার করে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী নিশ্চিত হয়া সম্ভব হয়েছে যে এই ধরনের বিভ্রম পরিপার্শ্বিক দৃশ্যপটের কারনেই হয়ে থাকে।আশেপাশের গাছপালা, ঢালু এলাকা, আঁকাবাঁকা দিগন্ত রেখা বা বাঁধাগ্রস্ত দৃষ্টিসীমার কারনে মানব চোখ ঐ এলাকার ঢাল নির্নয়ের জন্য কোন প্রসঙ্গকাঠামো খুজে পায় না ফলে মস্তিষ্কে এমন অনুভূতি সৃষ্টি হয় যাতে ঐ এলাকাটিকে উর্দ্ধমুখি ঢালু বলে মনে হয় ।[৬] আপাতদৃষ্টিতে এইসকল এলাকার ঘটনাসমূহকে মহাকর্ষ সূত্রের বিপরীত ঘটনা মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে এই ঘটনা পদার্থবিজ্ঞানের কোন সূত্রকে লঙ্ঘন করে না।[৫][৭]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. University of California Riverside article on phenomenon
  2. "Video - Wadi al Jinn - Technorati"। Hr.technorati.com। সংগৃহীত 2011-09-03 
  3. 8100 (1970-01-01)। "24.722558, 39.444517 – Google Maps"। Maps.google.com। সংগৃহীত 2011-09-03 
  4. [১]. The GPS coordinates for this valley are 24 43' 22.11" N, 39 26' 38.81" E
  5. ৫.০ ৫.১ http://www.ivanhoe.com/science/story/2006/06/153a.html
  6. http://www.sciencedaily.com/videos/2006/0609-the_mysterious_gravity_hill.htm
  7. http://www.aip.org/dbis/APS/stories/15183.html