অন্ধ্র প্রদেশ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

স্থানাঙ্ক: [http://tools.wikimedia.de/~magnus/geo/geohack.php?pagename=%E0%A6%85%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A7%E0%A7%8D%E0%A6%B0_%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6&params=17.366_N_78.476_E_region:IN_type:city 17°21

′58 ″N 78°28 ′34 ″E / 17.366, 78.476]

সময় অঞ্চল IST (UTC+৫:৩০)
আয়তন ২৭৫,০৬৮ বর্গকিমি (১০৬,২০৪ বর্গমাইল)
রাজধানী হায়দ্রাবাদ
বড় শহর হায়দ্রাবাদ
জেলাসংখ্যা ২৩
জনসংখ্যা
ঘনত্ব
৭৬,২১০,০০৭ (৫ম)
• ২৭৭ /km² ({{rnd/bএক্সপ্রেশন ত্রুটি: অযাচিত < অপারেটর|এক্সপ্রেশন ত্রুটি: অপরিচিত বিরামচিহ্ন ক্যারেক্টার "�"|০|০}} /sq mi)
ভাষা তেলুগু, উর্দু
গভর্নর নারায়ন দত্ত তিওয়ারি
মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই এস রাজশেখর রেড্ডি
Established ১লা নভেম্বর, ১৯৫৬
আইনসভা (আসনসংখ্যা) দ্বিকাক্ষিক (২৯৫+৯০)
ISO abbreviation IN-AP
ওয়েবসাইট: www.aponline.gov.in
Seal of অন্ধ্র প্রদেশ
Seal of অন্ধ্র প্রদেশ

অন্ধ্র প্রদেশ (তেলুগু ভাষায়: ఆంధ్ర ప్రదేశ్, উর্দু ভাষায়: آندھرا پردیش আন্ধ্রা প্রাদেশ্‌, আ-ধ্ব-ব: /aːnd̪ʰrə prədeːʃ/) ভারতের দক্ষিণ ভারতের একটি অঙ্গরাজ্য। এর দক্ষিণে তামিল নাড়ু, পশ্চিমে কর্ণাটক, উত্তরে ও উত্তর-পশ্চিমে মহারাষ্ট্র, উত্তর-পূর্বে ছত্তিসগড়ওড়িশা, এবং পূর্বে বঙ্গোপসাগর। অন্ধ্র প্রদেশের আয়তন ২,৭৫,০৪৫ বর্গকিলোমিটার। এটি আয়তন ও জনসংখ্যার দিক থেকে যথাক্রমে ভারতের ৪র্থ ও ৫ম বৃহত্তম এবং দক্ষিণ ভারতের বৃহত্তম অঙ্গরাজ্য।

অন্ধ্র প্রদেশের দৈর্ঘ্য বরাবর পূর্ব ঘাট পর্বতমালা বিস্তৃত। পর্বতমালার পূর্বে আছে উপকূলীয় সমভূমি, আর পশ্চিমে আছে তেলাংগনা মালভূমি। অন্ধ্র প্রদেশের ভেতর দিয়ে অনেকগুলি নদী প্রবাহিত হয়েছে। এদের মধ্যে গোদাবরী নদী এবং কৃষ্ণা নদী উল্লেখযোগ্য। এই নদীগুলির বয়ে আনা পলিমাটির কারণে এখানকার ভূমি উর্বর। অন্ধ্র প্রদেশ ভারতের শীর্ষস্থানীয় কৃষি এলাকাগুলির একটি। মালভূমির গড় তাপমাত্রা ডিসেম্বরে ২২ ডিগ্রী সেলসিয়াস থেকে মে-তে ৩৩ ডিগ্রী সেলসিয়াসে পৌঁছতে পারে। মালভূমির অভ্যন্তরভাগে উপকূলীয় অঞ্চলের তুলনায় আর্দ্রতা ও উষ্ণতা কম। উপকূলীয় অঞ্চলে তাপমাত্রা গ্রীষ্মে ৪২ ডিগ্রী সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে। জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত এখানে বর্ষাকাল। বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ উপকূল অঞ্চলে ১,৪০০ মিমি এবং অভ্যন্তরীণ অঞ্চলে ৫০৮ মিমি। বর্ষা মৌসুমে এখানে প্রায়ই ভয়াবহ সাইক্লোন আঘাত হানে।

অন্ধ্র প্রদেশে প্রায় ৮ কোটি লোক বাস করেন। জনঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ২৭৫ জন। হায়দ্রাবাদ অন্ধ্র প্রদেশের বৃহত্তম শহর ও রাজধানী। বিশাখাপত্নম এবং বিজয়াওয়াড়া আরও দুইটি গুরুত্বপূর্ণ শহর। বিশাখাপত্নম ভারতের চতুর্থ বৃহত্তম বন্দর। এখানে বসবাসরত অন্ধ্র জাতির লোকদের নামানুসারে অঙ্গরাজ্যটির নাম অন্ধ্র প্রদেশ রাখা হয়েছে। অন্ধ্ররা রাজ্যের জনসংখ্যার ৮৫%-এরও বেশি এবং তারা এখানে আড়াই হাজারেরও বেশি সময় ধরে বসবাস করছে। অন্ধ্ররা ধর্মে হিন্দু এবং তারা তেলুগু ভাষাতে কথা বলে। তেলুগু অঙ্গরাজ্যটির সরকারী ভাষা। উচ্চ মালভূমি এলাকাতে, বিশেষত হায়দ্রাবাদ ও তার আশেপাশের এলাকাতে উর্দুভাষী সংখ্যালঘু মুসলমান সম্প্রদায় বাস করে। অন্ধ্র প্রদেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে তামিল ও কন্নড়ভাষী লোক দেখতে পাওয়া যায়।

অন্ধ্র প্রদেশে অনেক জাদুঘর আছে। এদের মধ্যে আছে সালার জাং জাদুঘর, যাতে ভাস্কর্য, চিত্রশিল্প, এবং ধর্মীয় বিভিন্ন নিদর্শন সংরক্ষিত আছে। প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘরে বৌদ্ধ ও হিন্দু ধর্মের নানা নিদর্শন প্রদর্শিত হয়। দুইটি জাদুঘরই হায়দ্রাবাদে অবস্থিত। অন্ধ্র প্রদেশের উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আছে ১৯২৬ সালে ওয়ালতাইর-এ প্রতিষ্ঠিত অন্ধ্র বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯৬৪ সালে হায়দ্রাবাদে প্রতিষ্ঠিত অন্ধ্র প্রদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, এবং ১৯১৮ সালে হায়দ্রাবাদে প্রতিষ্ঠিত ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়।

কৃষি অন্ধ্র প্রদেশের অর্থনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাত। এখানকার ৭০% লোক কৃষিকাজের সাথে জড়িত। এটি ভারতের অন্যতম প্রধান ধান-উৎপাদনকারী অঞ্চল। অন্যান্য ফসলের মধ্যে আছে আখ, তৈলবীজ, শিম, এবং ডাল। ভারত স্বাধীনতা লাভের পর অঙ্গরাজ্য সরকার উপকূলীয় এলাকা থেকে অভ্যন্তরের শুষ্ক এলাকাতে পানি সেচের জন্য অনেক খাল খনন ও বাঁধ নির্মাণ করেছেন। বর্তমানে গোদাবরী ও কৃষ্ণা নদীর পানিতে প্রায় ৬০ লক্ষ হেক্টর কৃষিজমি সিঞ্চিত হয়। ১৯৬০ সালে সমাপ্ত কৃষ্ণা নদীর উপর নির্মিত নাগার্জুন সাগর প্রকল্পটি অন্যতম বৃহৎ সেচ প্রকল্প। এই প্রকল্পে খালসমূহের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৮০০ কিলোমিটার। অন্ধ্র প্রদেশের প্রায় চার ভাগে এক ভাগ অরণ্যাচ্ছাদিত। এখান থেকে সেগুন, ইউক্যালিপ্টাস, কাজু, কাসুয়ারিনা, নরমকাঠ, এবং বাঁশ আহরণ করা হয়।

অন্ধ্র প্রদেশ ভারতের সবচেয়ে শিল্পায়িত অঙ্গরাজ্যগুলিরও একটি। মূলত ভারতের স্বাধীনতা লাভের পর এখানে ইস্পাত, জাহাজনির্মাণ, যন্ত্রপাতি নির্মাণ, ঔষধ, ভারী বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, সার, সিমেন্ট, চিনি শোধন, রাসায়নিক দ্রব্য, এবং পাট প্রক্রিয়াজাতকরণের কারখানা গড়ে তোলা হয়। অন্ধ্র প্রদেশে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের মজুতও রয়েছে। প্রাপ্ত খনিজের মধ্যে কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস, অ্যাসবেস্টস, ব্যারাইট, তামা, মাইকা এবং লোহার আকরিক উল্লেখযোগ্য। এখানকার গোলকোন্দা খনি থেকেই বিখ্যাত কোহিনূর হীরা পাওয়া গিয়েছিল। সম্প্রতি পর্যটন শিল্প প্রসার লাভ করেছে।

অন্ধ্র প্রদেশের সড়ক ও রেলব্যবস্থা উন্নত। প্রধান বন্দর বিশাখাপত্নম ছাড়াও আরও অনেক অপ্রধান বন্দর আছে। হায়দ্রাবাদ, বিজয়ওয়াড়া, তিরুপাথি এবং বিশাখাপত্নম-এ বিমানবন্দর আছে।

অন্ধ্র প্রদেশে একটি দুই-কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা আছে, যার কক্ষ দুইটির আসনসংখ্যা ২৯৫ ও ৯০। এখান থেকে ভারতের জাতীয় সংসদে ৬০জন সদস্য পাঠানো হয়। এদের মধ্যে ১৮ জন রাজ্যসভাতে এবং ৪২ জন লোকসভাতে অন্ধ্রপ্রদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। অন্ধ্রপ্রদেশের স্থানীয় সরকার ২৩টি জেলায় বিভক্ত। ১৯৯১ সালের জুন মাসে অন্ধ্র প্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী (১৯৭১-১৯৭৩) পি ভি নরসিমহা রাও, দক্ষিণ ভারত থেকে প্রথম রাজনৈতিক নেতা হিসেবে সমগ্র ভারতের প্রধানমন্ত্রী হন।

খ্রিস্টপূর্ব ৭ম শতকে লিখিত সংস্কৃত পুথি থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী অন্ধ্র জাতির লোকেরা আর্য জাতির লোক। এরা উত্তর থেকে এসে বিন্ধ্য পর্বতমালা পার হয়ে স্থানীয় অনার্যদের সাথে মিশে যায়। ২৩২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মৌর্য রাজা অশোকের মৃত্যুর সময়েও এদের উল্লেখ পাওয়া যায়। এই সময়টিকে অন্ধ্রদের লিখিত ইতিহাসের প্রথম নিদর্শনের তারিখ হিসেবে গণ্য করা হয়। বিভিন্ন রাজবংশ এলাকাটি শাসন করেছে। এদের মধ্যে অন্ধ্র বা সাতবাহন, শক, ইক্ষভক, পূর্ব চালুক্য, বিজয়নগর, কুতুবশাহী এবং হায়দ্রাবাদের নিজাম উল্লেখযোগ্য। ১৭শ শতকে ব্রিটিশেরা নিজামদের কাছ থেকে প্রথমে উপকূলীয় এলাকাগুলি, যেমন- মাদ্রাজ প্রদেশ, দখল করে এবং পরবর্তীতে গোটা এলাকাতেই আধিপত্য স্থাপন করে। ১৯শ শতকের শেষে এবং ২০শ শতকের শুরুতে অন্ধ্র জাতির লোকেরা ভারতীয় জাতীয়তাবাদের অগ্রভাগে ছিল। তেলেগুভাষীদের জন্য একটি আলাদা অঙ্গরাজ্যের জন্য তাদের দাবীর প্রেক্ষিতে ১৯৫৩ সালে মাদ্রাজ ও হায়দ্রাবাদ প্রদেশের অংশবিশেষ নিয়ে অন্ধ্র প্রদেশ গঠন করা হয়। এরই সূত্র ধরে ১৯৫৭ সালে ভারতে ভাষাভিত্তিক অন্যান্য অঙ্গরাজ্যগুলি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৫৬ সালে হায়দ্রাবাদের বেশির ভাগ তেলুগুভাষী লোকদেরকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য অঙ্গরাজ্যটির সীমানা বর্ধিত করা হয়।